শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
LIVE ENGLISH

বাংলাদেশ

শাহজালাল থার্ড টার্মিনালে বিমানের একচেটিয়া রাজত্ব শেষ হচ্ছে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী ও বিমান সেবা (গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং) কার্যক্রমে ইতি ঘটতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দীর্ঘদিনের একচেটিয়া আধিপত্যের। আন্তর্জাতিক মানের পরিচালন ব্যবস্থা নিশ্চিত ও প্রতিযোগিতামূলক সেবা চালুর লক্ষ্যে বিশ্বের চারটি নামকরা প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেতে যাওয়া জাপানি কনসোর্টিয়াম সম্প্রতি আন্তর্জাতিক চার অপারেটরের তালিকা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে জমা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, তুরস্কের সেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডানাটা এবং যুক্তরাজ্যের মেনজিস এভিয়েশন।বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত চার প্রতিষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রক সংক্রান্ত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বেবিচকের নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়ার পর কনসোর্টিয়াম যেকোনো একটি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করবে। নির্বাচিত অপারেটরটি থার্ড টার্মিনালে যাত্রী সেবা, চেক-ইন, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং এবং র‍্যাম্প অপারেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব বিমানের হাতেই বহাল থাকবে।এ বিষয়ে বেবিচক সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মাহবুব খান জানান, বিশ্বমানের বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে নতুন অপারেটর নিয়োগ একটি বড় পদক্ষেপ। তবে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর পূর্বে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কোনো নিরাপত্তাজনিত বা নিয়ন্ত্রক সংক্রান্ত আপত্তি আছে কিনা, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।চার বৈশ্বিক জায়ান্টের সক্ষমতা ও বিতর্ক: প্রস্তাবিত চার প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক পরিধি বিশাল হলেও কিছু প্রতিষ্ঠানের অতীত রেকর্ড নিয়ে আলোচনা চলছে এভিয়েশন খাতে—সুইসপোর্ট (সুইজারল্যান্ড): বিশ্বজুড়ে ৪৪ থেকে ৪৯টি দেশে ৩১০টি বিমানবন্দরে সেবা দিচ্ছে। বছরে প্রায় ৪০ লাখ ফ্লাইট ও ৬২ লাখ টন কার্গো পরিচালনার অভিজ্ঞতায় এগিয়ে রয়েছে সংস্থাটি।ডানাটা (সংযুক্ত আরব আমিরাত): ৩৫টি দেশে ১৪৬টি বিমানবন্দরে ৫৫ হাজারের বেশি কর্মী নিয়ে বার্ষিক প্রায় ৮.৮৮ লাখ উড়োজাহাজের পরিচালনা নিশ্চিত করে।মেনজিস এভিয়েশন (যুক্তরাজ্য): ৬৫টি দেশে ৩৪৭টি বিমানবন্দরে সেবা দেওয়া এ প্রতিষ্ঠানটির বাৎসরিক ফ্লাইট হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ৫৩ লাখ। তবে ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের এডিনবরা বিমানবন্দরে ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনায় চরম বিশৃঙ্খলা এবং ২০২৫ সালে নিউজিল্যান্ডে বায়োসিকিউরিটি আইন লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা গণনার মতো নেতিবাচক রেকর্ড রয়েছে তাদের ঝুলিতে।সেলেবি এভিয়েশন (তুরস্ক): ৫টি দেশের ৬০টির বেশি বিমানবন্দরে ৯ হাজার কর্মী নিয়ে কাজ করে আসছে।বিশেষজ্ঞদের মত: এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল নেটওয়ার্ক বা কর্মীসংখ্যা দেখে অপারেটর নির্বাচন করা ভুল হবে। সাবেক ও বর্তমান খাতের বিশ্লেষকদের মতে—লাগেজ পেতে বিলম্ব রোধ, উড়োজাহাজের দ্রুত টার্নঅ্যারাউন্ড ও অতীত রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে সূচক নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে অপারেটর নির্বাচনের পর চুক্তি ভঙ্গ বা নিম্নমানের সেবার ক্ষেত্রে কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শাহজালাল থার্ড টার্মিনালে বিমানের একচেটিয়া রাজত্ব শেষ হচ্ছে