উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস
সৃষ্টি করেছেন দুই তরুণী নারী রাজনীতিবিদ। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মার্কিন
অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনগুলোতে জয়লাভ করে নজর কেড়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম
তরুণী নাবিলা সৈয়দ এবং প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক হিসেবে
আইনসভায় জায়গা করে নিয়েছেন আবের কাওয়াস। তাদের এই বিজয় মার্কিন রাজনীতিতে
অভিবাসী ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরই প্রতিফলন বলে মনে
করছেন বিশ্লেষকরা।
নাবিলা সৈয়দের ঐতিহাসিক জয় (ইলিনয় অঙ্গরাজ্য):
যুক্তরাষ্ট্রের
ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ২৭ বছর বয়সি ভারতীয়
বংশোদ্ভূত মুসলিম তরুণী নাবিলা সৈয়দ। তিনি বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর
ডার্বি হিলসকে ৫৭ শতাংশ ভোট পেয়ে পরাজিত করেন, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী
পান ৪৩ শতাংশ ভোট।
ইলিনয়ের উত্তর-প্রান্তের এই আসনটিতে নির্বাচন
ছিল অঙ্গরাজ্যের আইনসভা নির্বাচনের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল ও
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। দুই প্রার্থীর প্রচারে মোট ৬৫ লাখ ডলার ব্যয় হয়,
যার একটি বড় অংশ সংগ্রহ করেছিলেন নাবিলা নিজে। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়া
বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্কলে ক্যাম্পাস থেকে ২০২১ সালে স্নাতক শেষ করে তিনি
ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদের ৫১তম ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধি
নির্বাচিত হয়েছিলেন। ইলিনয়ের আইনসভায় নির্বাচিত সবচেয়ে কম বয়সি নারী
এবং মুসলিম সদস্যদের মধ্যে তিনি অন্যতম। জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় রাখা এবং
স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাকে নিজের প্রধান
অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন নাবিলা।
আবের কাওয়াসের জয় (নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য):
এদিকে,
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন আবের কাওয়াস। এর
মধ্য দিয়ে তিনি অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন
নাগরিক হিসেবে জায়গা করে ইতিহাস গড়েছেন।
ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস
অব আমেরিকার (ডিএসএ) সদস্য এবং কমিউনিটি সংগঠক আবের কাওয়াস দীর্ঘ ১৫ বছরের
বেশি সময় ধরে শ্রমিক অধিকার, অভিবাসী সম্প্রদায় এবং ফিলিস্তিনিদের
অধিকার নিয়ে কাজ করছেন। ব্রুকলিনে বেড়ে ওঠা কাওয়াসের নির্বাচনী প্রচারের
মূল স্লোগান ছিল—‘মর্যাদায় অর্থায়ন, ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াই’। নির্বাচনী
প্রচারে তিনি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন, সাশ্রয়ী
আবাসন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার
প্রতিশ্রুতি দেন। তার এই বিজয়ে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও কংগ্রেস সদস্য
রাশিদা তালিবসহ প্রগতিশীল নেতারা অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা মনে
করছেন, নাবিলা ও কাওয়াসের এই বিজয় মার্কিন মূলধারার রাজনীতিতে তরুণ এবং
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের পথ আরও সুগম করবে।