উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে একাধিক প্রার্থীর জয়
নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশটির
ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ, আদিবাসী ও লাতিনা নারী গভর্নর নির্বাচিত হওয়ার
পাশাপাশি সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু নতুন রেকর্ড তৈরি
হতে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের ফলাফলের
দিকে নজর ছিল পুরো দেশের। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের বিভিন্ন আসনে
জয়-পরাজয়ের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারিত হবে। তবে
ক্ষমতার লড়াইয়ের বাইরেও এবারের নির্বাচনে মার্কিন রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্বের
ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বেশ কয়েকজন
প্রার্থী জয়ী হয়ে নিজেদের সম্প্রদায়ের জন্য নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন।
জর্জিয়ার প্রথম নারী গভর্নর হওয়ার পথে কেইশা ল্যান্স বটমস
এবিসি
নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক
প্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমস জয়ী হতে যাচ্ছেন। তিনি বিলিয়নিয়ার রিপাবলিকান
প্রার্থী রিক জ্যাকসনকে পরাজিত করে রাজ্যটির গভর্নর হতে যাচ্ছেন।
আটলান্টার
সাবেক মেয়র বটমসের এ সম্ভাব্য জয়ে জর্জিয়ার গভর্নর পদ ডেমোক্রেটিক পার্টির
নিয়ন্ত্রণে ফিরতে পারে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাজ্যটিতে জয়
পেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নির্বাচনি প্রচারণার শেষ পর্যায়ে বটমস
প্রায়ই বলতেন, জ্যাকসনের অর্থ থাকতে পারে, কিন্তু ক্ষমতা এখনো জনগণের হাতে।
নির্বাচনি প্রচারণায় নিজের ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি
ব্যয় করেন জ্যাকসন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের পর জর্জিয়ায় কোনো ডেমোক্র্যাট গভর্নর নির্বাচিত হননি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আদিবাসী গভর্নর ডেব হালান্ড
নিউ
মেক্সিকোর গভর্নর নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পূর্বাভাস পেয়েছেন সাবেক মার্কিন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডেব হালান্ড। এর মধ্য দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে
প্রথম আদিবাসী গভর্নর হওয়ার পথে রয়েছেন।
লাগুনা পুয়েবলো আদিবাসী
সম্প্রদায়ের সদস্য হালান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, নিউ
মেক্সিকোর ৩৩তম গভর্নর নির্বাচিত হওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। তার
ভাষায়, ভোটাররা এমন একটি ভবিষ্যৎ বেছে নিয়েছেন, যেখানে কর্মজীবী পরিবারগুলো
এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে এবং রাজ্যের প্রতিটি মানুষের মতামত গুরুত্ব পাবে।
রিও
র্যাঞ্চোর সাবেক মেয়র গ্রেগ হালকে পরাজিত করে তার এ জয় এসেছে। এর আগে ২০১৮
সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম দুই আদিবাসী নারীর একজন
ছিলেন হালান্ড।
টেক্সাসের প্রথম লাতিনা নারী গভর্নর জিনা হিনোজোসা
টেক্সাসের
গভর্নর নির্বাচনেও ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী ও প্রতিনিধি
পরিষদের সদস্য জিনা হিনোজোসা। এবিসি নিউজের তথ্য অনুসারে, তিনি রিপাবলিকান
গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে পরাজিত করে রাজ্যটির প্রথম লাতিনা নারী গভর্নর হতে
যাচ্ছেন।
শিক্ষা সংস্কারকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন হিনোজোসা।
পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটা সেন্টার নিয়েও অ্যাবটের সমালোচনা
করেছেন তিনি।
ফ্লোরিডার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর হওয়ার পথে বায়রন ডোনাল্ডস
ফ্লোরিডার
গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও কংগ্রেস সদস্য বায়রন ডোনাল্ডসের
জয়ের আভাস দিয়েছে এবিসি নিউজ। এই জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি রাজ্যটির ইতিহাসে
প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পথে রয়েছেন।
বিজয়বার্তায়
ডোনাল্ডস বলেন, গভর্নর হিসেবে আমি ফ্লোরিডার মানুষের জন্য সর্বোচ্চ
প্রচেষ্টা চালাব। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, নিরাপদ সড়ক ও জনপদ নিশ্চিত করা
এবং তরুণদের উন্নয়নে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ওহাইওর প্রথম নারী গভর্নর অ্যামি অ্যাকটন
ওহাইওর
সাবেক স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. অ্যামি অ্যাকটন গভর্নর নির্বাচনে
রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীকে পরাজিত করতে যাচ্ছেন বলে পূর্বাভাস
দিয়েছে এবিসি নিউজ। জয়ী হলে তিনি হবেন ওহাইওর ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত
নারী গভর্নর এবং প্রথম ইহুদি গভর্নর।
উইসকনসিনের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর ডেভিড ক্রাউলি
উইসকনসিনে
ডেমোক্রেটিক প্রার্থী ডেভিড ক্রাউলির জয়ও নতুন ইতিহাস তৈরি করতে যাচ্ছে।
মিলওয়াকি কাউন্টির নির্বাহী ক্রাউলি রিপাবলিকান প্রার্থী টম টিফানিকে
পরাজিত করে রাজ্যটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর হতে যাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী সিনেটর
নিউ
হ্যাম্পশায়ারে সিনেট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পূর্বাভাস পেয়েছেন প্রতিনিধি
পরিষদের সদস্য ক্রিস পাপাস। তিনি জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রকাশ্যে
সমকামী সিনেটর হবেন। রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক সিনেটর জন সুনুনুকে
পরাজিত করার পথে রয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর
যুক্তরাষ্ট্রের
মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে জয় পেয়েছেন
ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে
হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে জয় নিশ্চিত করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের
ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি।
স্বাস্থ্যসেবা
ও নির্বাচসি অর্থায়ন সংস্কারকে প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে
ধরেছিলেন এল-সায়েদ। নির্বাচনি প্রচারণায় তাকে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যেরও
মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।