উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির প্যাটারসন
শহরের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা এবং প্রয়াত মার্কিন কংগ্রেসম্যান বিল পাসক্রেল
জুনিয়রের সম্মানে তাঁর বাড়ির বাইরের সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার
থেকে শুরু করে মার্কিন কংগ্রেস পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করলেও নিজের বেড়ে ওঠা
শহরকে কখনোই ছাড়েননি এই জননেতা।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর)
প্যাটারসনের নবম এভিনিউর ৪৪১ নম্বর বাসার সামনে এক আবেগঘন অনুষ্ঠানে এই
রাস্তার নামকরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্যাটারসনের মেয়র আন্দ্রে সায়েহ, সিটি
কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দ, অন্যান্য নির্বাচিত কর্মকর্তা এবং পাসক্রেল
পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ২৮ বছর ধরে ওয়াশিংটনে উত্তর নিউ
জার্সির প্রতিনিধিত্ব করা এই নেতার স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নামফলক উন্মোচন
করা হয়।
দীর্ঘদিন রাজনৈতিক দায়িত্বে থেকেও এবং বিশ্বনেতাদের
সান্নিধ্যে কাজ করার পরও পাসক্রেল কেন নিজের চেনা পাড়া ছেড়ে যাননি, তা
স্মরণ করেন বক্তারা। মেয়র আন্দ্রে সায়েহ জানান, মেয়র হওয়ার পর পাসক্রেল
তাঁর কাছে কেবল একটিই অনুরোধ করেছিলেন—নিজের বাড়ির সামনের রাস্তাটি যেন
সংস্কার বা পিচঢালাই করে দেওয়া হয়। মেয়র বলেন, "কংগ্রেসম্যান, আমরা আপনার
সে কথা রেখেছি।"
উল্লেখ্য, বিল পাসক্রেল জুনিয়র ২০২৪ সালের আগস্ট
মাসে ৮৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি
প্যাটারসনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে
নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই তিনি অগ্নিনির্মাপণ কর্মী, আইন
প্রয়োগকারী সংস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নিজ শহরের কল্যাণে কাজ করে
গেছেন। তাঁর অন্যতম উল্লেখযোগ্য অর্জন ছিল 'প্যাটারসন গ্রেট ফলস ন্যাশনাল
হিস্টরিক্যাল পার্ক' প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা।
অনুষ্ঠানে
তাঁর স্থলাভিষিক্ত কংগ্রেসম্যান নেলি পু, স্টেট সিনেটর বেনজি উইম্বার্লি,
কমিশনার অরল্যান্ডো ক্রুজ এবং পাসক্রেলের ছেলে বিল পাসক্রেল III সহ
অন্যান্যরা স্মৃতিচারণ করেন। বক্তারা বলেন, সাধারণ জীবনযাপন এবং নিজ
সম্প্রদায়ের প্রতি আজীবন নিবেদনই বিল পাসক্রেলকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে
গিয়েছিল।
নবরাত্রীর এই নামকরণের মধ্য দিয়ে রুট ১৯ এবং প্যাটারসন
ফায়ার হেডকোয়ার্টারের পর প্রয়াত এই নেতার স্মৃতির প্রতি আরও একটি বিশেষ
সম্মান জানানো হলো। অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন যে,
ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই নাম দেখে এমন এক মানুষকে স্মরণ করবে যিনি তাঁর শিকড়
কখনো ভুলে যাননি।