উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
লতিফুর রহমান রাজু.সুনামগঞ্জ:
সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন
ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনের হাওয়া বইছে। যদিও এখনও নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক
কোন ঘোষনা দেয়নি তবুও সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানা কৌশলে ভোটারদের কাছাকাছি
যাচ্ছেন। গ্রাম গঞ্জের হাট বাজার ও চায়ের দোকানে এখন ইউপি নির্বাচন নিয়েই
আলাপ। বিশেষ করে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নে একটু বেশিই হাওয়া
বইতে শুরু করেছে। কারণ নির্বাচন কমিশন সারা দেশের ইউপি নির্বাচনের প্রথম
ধাপে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইউনিয়ন গুলোর নির্বাচন করতে ইতিমধ্যেই আভাষ
দিয়েছে। তাই সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীদের তোড়জোড় বেশ
লক্ষ্যনীয়।
প্রথম ধাপের নির্বাচন আগামী বছরের (২০২৭ ইংরেজি) ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সুনামগঞ্জ
সদর উপজেলার ৯ ইউনিয়নে ৬১ জন প্রার্থী পোস্টার, বিলবোর্ড, গণসংযোগ বা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে নিজের প্রার্থীতা জানান দিয়েছেন।
এরমধ্যে বেশি প্রার্থী কোরবাননগর ও সুরমা ইউনিয়নে। তবে বিএনপি দলীয়
সমর্থিত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পর কতজন নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেবেন,
সেটি পরিস্কার হয়ে যাবে। প্রার্থীর সংখ্যাও ওই সময় কমে যাবে। মাঠে এখন
পর্যন্ত সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী—ই বেশি।
সুনামগঞ্জ
সদর উপজেলার কোরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের
মধ্যে রয়েছেন— আবুল কালাম, শামস উদ্দিন, সুহেল মিয়া, দেলোয়ার হোসেন
স্বপন, শাহাব উদ্দিন, শাহীন মিয়া, মুজিবুর রহমান, হাফিজ কাওছার, মাওলানা
এনামুল হক, কুহিনুর আলম ও আইয়ুব আলী।
মোল্লাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ
নির্বাচনে বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল হক, শামীম আহমদ, শাহাব উদ্দিন (১),
শাহাব উদ্দিন (২), মাসুক মিয়া ও আফরোজ রায়হান ।
সুরমা ইউনিয়ন
পরিষদ নির্বাচনে— খুর্শেদ মিয়া, আব্দুর রহমান, শামছুল আলম রাসেল, সাজুল
মিয়া, মানিক মিয়া, তাজোয়ার আফজাল শিহাব, তাজুল ইসলাম, ফয়সাল আহমদ,
অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, আব্দুন নূর তামিম ও ছুটুল মিয়ার নাম শোনা
যাচ্ছে।
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বর্তমান চেয়ারম্যান রশিদ
আহমদ, আমজাদ হোসেন, বাহার উদ্দিন, আলমাছ উদ্দিন শিপু, ইসমাইল হোসেন,
জাহাঙ্গীর আলম, সালামত উল্লাহ্’র।
রঙ্গারচর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে
বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল হাই, আবুল কালাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল
মজিদ, ডা. ইব্রাহিম মিয়ার নাম প্রচারণায় রয়েছে।
কাঠইর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বর্তমান চেয়ারম্যান মুফতি শামছুল ইসলাম, আলী নূর, মোশাহিদ আলী, নোমান আহমদ, ফারুক মেনর।
গৌরারং
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বর্তমান চেয়ারম্যান শওকত আলী, সাবেক চেয়ারম্যান
ফুল মিয়া, অ্যাডভোকেট. শহীদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম পলাশ, ডা. আব্দুল
ওয়াহাব ও সাহাব উদ্দিন।
মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমিনুর রশিদ,
মাসুক মিয়া, মোহাম্মদ আলী, আব্দুর রশিদ, অলিউর রহমান, আব্দুল কাইয়ুম,
মশিউর রহমান রাসেল’।
লক্ষণশ্রী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইয়াকুব
বখ্ত বহলুল, আব্দুল ওয়াহাব, আব্দুল মালেক ত্বোহা, সুহেল মিয়া, আব্দুর
রকিব তালুকদার ও আবু সুফিয়ান।
এবারের নির্বাচনে বর্তমান ক্ষমতাসীন
দলের পরিচয়ে অনেকেই নির্বাচন করার জন্য দলীয় নীতি নির্ধারক দের সাথে
সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছেন। এছাড়াও জামায়াত ইসলামী ও পৃথক ভাবে তাদের
প্রার্থী দেয়ার সম্ভবনা
রয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ও নির্বাচন করার আগ্রহ রয়েছে। তবে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
সুনামগঞ্জ
সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফারুক আহমদ লিলু জানান, এখনও দলীয়ভাবে কোন
সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এ নিয়ে চিন্তা ভাবনা চলছে।
শীগ্রই সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা করে দলীয় দায়িত্বশীল পর্যায়ে পৌঁছানো হবে।
জেলা
বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও এডিশনাল পিপি এডভোকেট শেরেনুর আলী জানান
যেহেতু ইউপি নির্বাচন আসন্ন তাই দলের নীতি নির্ধারণী ফোরাম বিষয়টি নিয়ে
ভাবছে। কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
জেলা
নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শুকুর মাহমুদ মিঞা জানান, সুনামগঞ্জ সদর
উপজেলায় প্রথম ধাপে ভোট হচ্ছে এটা প্রায় নিশ্চিত। অর্থাৎ এই নয়
ইউনিয়নের ভোট ২১ জানুয়ারি। ওই সময়ে জেলার প্রত্যন্ত আরও দুয়েকটি
উপজেলায় ভোট গ্রহণের জন্য কমিশনে আবেদন করার চিন্তা করছি আমরা।
তিনি
মনে করেন, শেষের দিকে বৃষ্টির মওসুম চলে আসবে, তখন হাওরাঞ্চলের প্রত্যন্ত
উপজেলায় ভোট গ্রহণ করতে চাইলে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে।