উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাজেক (রাঙামাটি):
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি
উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে আঞ্চলিক সংগঠনের অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির
ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতার পর থেকে সাজেকজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে প্রশাসন সাজেক পর্যটনকেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য
বন্ধ ঘোষণা করায় পর্যটন ব্যবসায় ধস নেমেছে। এতে প্রায় ২০ কোটি টাকার আর্থিক
ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি:
গত
বৃহস্পতিবার সাজেকের গঙ্গারাম এলাকায় আঞ্চলিক সংগঠনের অবরোধ চলাকালে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে
গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় সাজেকে আটকা পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে
নিরাপত্তা দিয়ে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি
করা হয়েছে, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালালে আত্মরক্ষায় পাল্টা
গুলি চালানো হয়। তবে ইউপিডিএফ এই অভিযোগ অস্বীকার করে নিরাপত্তা বাহিনীর
বিরুদ্ধে একতরফা গুলি চালানোর অভিযোগ তুলেছে।
এদিকে সাজেক কারবারি
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা জানান, ঘটনার পর থেকে গঙ্গারাম
এলাকায় তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন।
শুক্রবারও সাজেক সড়কে টায়ার ও গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে অবরোধ পালন করা
হয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে
রয়েছে এবং যৌথবাহিনীর টহল ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। রাঙামাটি পুলিশ সুপার
মুহম্মদ আবদুর রকিব জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা
নিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
বন্ধ পর্যটন ও স্থানীয় জনজীবন বিপন্ন:
জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
ভরা
মৌসুমে সাজেক বন্ধ থাকায় রিসোর্ট, কটেজ, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় ব্যাপক
ধস নেমেছে। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয়
ত্রিপুরা এবং কুঁড়েঘর রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী যতেন ত্রিপুরা জানান, সব
বুকিং বাতিল করে পর্যটকদের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের
প্রায় ২০ কোটি টাকার লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পর্যটন বন্ধ থাকার
পাশাপাশি সড়ক অবরোধের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ এবং জুমের ফসল
বাজারজাতকরণও ব্যাহত হচ্ছে।
ছাত্র-জনতার অবরোধ ও ব্যবসায়ীদের আলটিমেটাম:
সাজেকের ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।
অন্যদিকে,
সাজেক পর্যটনকেন্দ্র দ্রুত খুলে দেওয়ার দাবিতে শুক্রবার বিকেলে খাগড়াছড়ি
জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ গেট থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ
হয়। এ সময় যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি আয়ুস চাকমা ও ই-ট্যুরিজম
অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ইটাব) সদস্য উজ্জ্বল দে দ্রুত অবরোধ প্রত্যাহার
করে পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
দেন তারা।