উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আমি আমার স্ত্রী হত্যার বিচার চাই। আমার স্ত্রী হাসনা বেগম (৫৬) পুলিশি
হয়রানি আতঙ্কে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। অর্থাভাবে তার উন্নত চিকিৎসা
করাতে পারি নাই। প্রতিপক্ষের টাকার গরমে পুলিশ আমাদের মামলা নেয় নাই।
আসামিরা সহজে জামিন পেতে এবং ফুলা-জখম দেখিয়ে নিজ মনগড়া মামলা লিখে আমার
ছেলের স্বাক্ষর নিয়ে মামলা রুজু করে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে
কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযোদ্ধা
চত্বরের স্বাধীনতা স্তম্ভের পাদদেশে আয়োজিত মানববন্ধন চলাকালে নিহত হাসনা
বেগমের স্বামী আব্দুল আজিজ এসব কথা বলেন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর মাছ ধরাকে
কেন্দ্র করে দেবীদ্বার পৌরসভার ভোষণা গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে বহিরাগত
সন্ত্রাসী হামলায় নবী নেওয়াজসহ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারপূর্বক বিচারের
দাবিতে এবং একই ঘটনায় থানা পুলিশের যোগসাজশে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের
দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে আব্দুল আজিজ আরো বলেন,
প্রতিপক্ষের মামলা গ্রহণ করে আমাদের হয়রানি করে। ওই মামলা তদন্তে ৬ অক্টোবর
মামলা তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) অজয় চক্রবর্তী বাড়িতে এসে আমার
ছেলে (মামলার বাদী) আল আমিন ভ্যান চালিয়ে মামলা চালাতে পারবে না বলে, মামলা
তুলে নিয়ে মিমাংসায় চলে যেতে চাপ দিতে থাকেন, বয়স হলে দাত এমনিতেই পড়ে
যাবে, তাদের কথা-বার্তায় আমার স্ত্রী সন্তানদের গ্রেফতার আতঙ্কে হার্ট
এটাকে ৩ দিন চিকিৎসা নিয়ে ৯ অক্টোর মারা যান।
মো. শাহজালাল বলেন, আক্তার
হোসেনের ছেলে শুভ বাড়ির পাশে আমাদের একটি গর্ত সিচে মাছ ধরছিল, এসময় ওই
বাড়ির মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ট্রাক্টর চালক নবী নেওয়াজ (৩৮) শুভর
মাছগুলো ফেলে দেয়। এ নিয়ে শুভ ও নবী নেওয়াজের মধ্যে বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতি
হয়। এ ঘটনায় ওইদিন বিকেলে নবী নেওয়াজ ৬টি সিএনজি যোগে বহিরাগত ভাড়াটে
সন্ত্রাসী প্রায় ৫০/৬০ জন নিয়ে তাদের বাড়িতে অতর্কীত হামলা, ভাংচুর, লুটপাট
চালায়।
আবদুল আজিজের ছেলে আহত আক্তার হোসেনের স্ত্রী শাহিনা বেগম
বলেন, আমার ষ্বামী তাদের কাছে হাত জোর করে- আব্বা ডেকেও রক্ষা পায়নি, আমার
ছেলে তার বাবাকে আর না মারতে প্রাণ ভিক্ষা চায়, তাকেও মারে, আমার
প্রতিবন্দী মেয়েকেও মারে, আমি আমার স্বামীর প্রাণ ভিক্ষা চাইতে গেলে ওরা
আমাকেও কুপিয়ে আহত করে। আমার স্বামী তাদের মারে ঘরে পয়খানা- প্রশ্রাব করে
দেয়। তারা আমার স্বামীর চোয়ালের তিনটি দাত ভেঙ্গে ফেলে, কুপিয়ে যখম করে মৃত
ভেবে ফেলে যায়। আমার স্বামীর পায়ের অংশে কাটায় ৩৮ টি সেলাই দিতে হয়, ৩টি
দাত ফেলে দিলেও এসব কথা মামলায় উল্লেখ করেনি। মামলায় ফুলা যখম দেখিয়েছে।
অর্থাভাবে স্বামীর চিকিৎসা করতে পারছিনা, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম
অসুস্থ্য স্বামী কাজে যেতে পারছেনা, তাই আজ প্রায় একমাস আমরা মানুষের
সহায়তায় অর্ধাহার অনাহারে আছি। ভবিষ্যৎ কি হবে জানিনা।
মানববন্ধনে
বক্তব্য রাখেন, কাজী লোকমান, মোঃ আউয়াল খাঁন, মোঃ শাহজালাল, মোঃ জাহাঙ্গীর
আলম, ভুক্তভোগী পরিবার থেকে আব্দুল আজিজ, শাহিনা বেগম, কামরুল হাসান
প্রমুখ। মাববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান
সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, মাছ ধরা নিয়ে হাতাহাতি ও
বাকবিতন্ডায় বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে একটি দরিদ্র পরিবারকে মারধর, হামলা ও
ঘরবাড়ি ভাংচুর এবং লুটপাট করে নিঃস্ব করে দিয়েছে নবী নেওয়াজ ও তাহার ভাড়া
করা সন্ত্রাসীরা। অতি দ্রুত আসামি পক্ষের মামলা প্রত্যাহার ও সন্ত্রাসী
হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান। তাদের দাবী না মানা হলে
পরবর্তী সময়ে বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ার দেন।
এবিষয়ে দেবীদ্বার থানার
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, মামলার এজাহার ওনারা
লিখে এনেছেন। আমরা মামলা রেকর্ড পূর্ববক আসামি আটক করে আদালতে সোপর্দ
করেছি, বিজ্ঞ আদালত যদি আসামিকে জামিন দেয় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার
নেই। মামলার এজাহারে যদি দাঁত পরার বিষয় বা অন্য কোন গুরুতর জখমের কথা বাদ
পরে থাকে তদন্তে এড করে দেওয়া যাবে সমস্যা নেই। তাছাড়া মারামারির ঘটনায়
কাউন্টার মামলা হয়, যা অপর পক্ষ করেছে।