উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে তীব্র
বিতর্কের মুখে পড়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ঘটনার
একদিনের মাথায় তাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক
সূত্র জানিয়েছে, রোববার বিকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাকে
পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কোনো
কর্মকর্তা বা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু
জানানো হয়নি।
এর আগে গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকা-৬ আসনের
গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় একটি মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে অংশ নেন
ইশরাক হোসেন। সেখানে তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গে থাকা বেশ কিছু ব্যক্তিকে
আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান চালাতে দেখা যায়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। একই
দিন বিকেলে প্রতিমন্ত্রী তাঁর নিজস্ব ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে “ইশরাকের
অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ” শিরোনামে
ভিডিওটি পোস্ট করলেও পরবর্তীতে তা মুছে (ডিলিট) ফেলেন।
এদিকে উদ্ভূত
পরিস্থিতির মধ্যে রোববার দুপুরে প্রেস কর্মকর্তার মাধ্যমে একটি লিখিত
বিবৃতি পাঠিয়েছেন ইশরাক হোসেন। বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, কাউকে ভয় দেখানো
বা গুলি করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং আত্মরক্ষা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই
এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, গেন্ডারিয়া এলাকার
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদক ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ
পেয়ে তিনি ওই কর্মসূচিতে যান। কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনী ও গোয়েন্দা সূত্রে তাঁকে নিরাপত্তাঝুঁকি এবং ছাদ থেকে হামলার
আশঙ্কার কথা সতর্ক করা হয়েছিল।
ইশরাক হোসেনের দাবি, কর্মসূচি
চলাকালে একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি
তাঁদের ওপর মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। তখন সম্ভাব্য হামলা থেকে জানমালের
নিরাপত্তায় তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তাকর্মীরা আত্মরক্ষার্থে সংক্ষিপ্ত
সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। প্রদর্শিত আগ্নেয়াস্ত্রটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত
ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, পরবর্তীতে পুলিশের সহযোগিতায় সন্দেহভাজন
আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।