উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বিশ্বখ্যাত ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা ও এর প্রধান
নির্বাহী ইলন মাস্ক অটোমোবাইল শিল্পে নতুন বিপ্লব ঘটানোর লক্ষ্যে তাদের
সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও বেশ কয়েকটি নতুন গাড়ির মডেল উন্মোচন করেছেন।
সম্পূর্ণ চালকহীন বা স্বায়ত্তশাসিত যাতায়াতব্যবস্থা এবং মহাকাশ
প্রযুক্তির সমন্বয়ে গঠিত এসব গাড়ি ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার
জন্ম দিয়েছে।
আকাশে ওড়ার সক্ষমতা নিয়ে আসছে 'নতুন রোডস্টার'
টেসলার
সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘোষণা হলো তাদের দ্বিতীয় প্রজন্মের 'রোডস্টার' (New
Tesla Roadster)। এতে স্থান পেয়েছে মাস্কের অপর প্রতিষ্ঠান 'স্পেসএক্স'-এর
বিশেষ কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার প্রযুক্তি। ফলে গাড়িটি ক্ষণিকের জন্য শূন্যে
লাফ দেওয়া বা ওড়ার অভিজ্ঞতা প্রদান করতে সক্ষম। টেসলার দাবি অনুযায়ী,
গাড়িটির 'রকেট' ভ্যারিয়েন্টটি মাত্র ০.৫৯ সেকেন্ডে ০ থেকে ১০০ কিলোমিটার
প্রতি ঘণ্টা গতি অর্জন করতে পারে। গাড়িটি পারফরম্যান্স, থ্রাস্ট ও রকেট—এই
তিনটি ভিন্ন সংস্করণে বাজারে আনা হচ্ছে।
স্টিয়ারিং ও প্যাডেলবিহীন 'সাইবারক্যাব'
শহরাঞ্চলে
সম্পূর্ণ চালকহীন যাতায়াতের জন্য টেসলা নিয়ে এসেছে 'সাইবারক্যাব' (Tesla
Cybercab/Robotaxi)। ভবিষ্যৎমুখী এই গাড়িটিতে কোনো স্টিয়ারিং হুইল,
এক্সিলারেটর বা ব্রেক প্যাডেল রাখা হয়নি। ব্যয়বহুল লিডার (LiDAR)
প্রযুক্তির পরিবর্তে এটি ক্যামেরা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত 'ফুল
সেলফ-ড্রাইভিং' সিস্টেমে চলে। বাটারফ্লাই ডোর ও দুই আসনবিশিষ্ট এই গাড়িতে
কোনো তার বা প্লাগ ছাড়াই তারহীন (ওয়্যারলেস) পদ্ধতিতে চার্জ দেওয়ার
ব্যবস্থা করা হয়েছে।
২০ সিটের চালকহীন 'রোবোভ্যান'
একসাথে
বেশি সংখ্যক যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের খরচ কমাতে টেসলা উন্মোচন করেছে
'রোবোভ্যান' (Tesla Robovan)। আধুনিক ও চমকপ্রদ ডিজাইনের এই বাহনটিতে
একসাথে ২০ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন। এটি শহরের গণপরিবহন ও বাণিজ্যিক
মালামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাশ্রয়ী মডেল ৩ ও নতুন মডেল ওয়াই
সাধারণ
গ্রাহকদের বাজেটের কথা মাথায় রেখে টেসলা তাদের 'Model 3'-এর একটি
সাশ্রয়ী ভ্যারিয়েন্ট এনেছে, যাতে রয়েছে আধুনিক ইন্টেরিয়র ও সুপারভাইজড
সেলফ-ড্রাইভিং সুবিধা। পাশাপাশি, তাদের সর্বাধিক বিক্রিত SUV 'Model Y'-এর
নতুন ফেসলিফ্ট (Project Juniper) সংস্করণে উন্নত কেবিন সাউন্ডপ্রুফিং, নতুন
লাইটিং ও দীর্ঘ ব্যাটারি রেঞ্জ যুক্ত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চালকহীন গাড়ি ও স্পেস-গ্রেড প্রযুক্তির এই সংমিশ্রণ পুরো অটোমোবাইল শিল্পকে এক নতুন যুগে নিয়ে যাবে।