উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
লেখক: মমিনুল ইসলাম মোল্লা
মুরাদনগর, কুমিল্লা প্রতিনিধি | শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট
ইসলাম
শুধু কিছু ইবাদত পালনের নাম নয়; বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর
নির্দেশনা মেনে চলার নাম। কুরআনের কিছু বিধান মানব, আর নিজের পছন্দের সঙ্গে
না মিললে অন্য বিধান উপেক্ষা করব—একজন মুমিনের এমন মনোভাব হওয়া উচিত নয়।
আল্লাহ তাআলা সূরা আল-বাকারার ৮৫ নম্বর আয়াতে প্রশ্ন করেছেন, “তবে কি
তোমরা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশ অস্বীকার কর?” (সূরা
আল-বাকারা, ২:৮৫)।
আয়াতটি বনি ইসরাইলের একটি আচরণের নিন্দা করে। এখান
থেকে মুসলমানদের জন্যও শিক্ষা রয়েছে—আল্লাহর বিধানকে নিজের সুবিধা
অনুযায়ী বেছে নেওয়া যাবে না। তবে কোনো বিধানের ব্যাখ্যা, শর্ত ও প্রয়োগ
বুঝতে নির্ভরযোগ্য আলেমদের সাহায্য নেওয়া আর আল্লাহর বিধান অস্বীকার করা
এক বিষয় নয়।
কুরআনের সঙ্গে সুন্নাহর অনুসরণও অপরিহার্য
কুরআন মানার
অর্থ রাসুলুল্লাহ হজরত মুহাম্মদ ﷺ-এর নির্দেশনা ও প্রমাণিত সুন্নাহ অনুসরণ
করাও। আল্লাহ বলেন, “যে রাসুলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল”
(সূরা আন-নিসা, ৪:৮০)। আবার মতবিরোধ দেখা দিলে আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরে
যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (সূরা আন-নিসা, ৪:৫৯)।
রাসুলুল্লাহ ﷺ
বলেছেন, “আমি তোমাদের যা নিষেধ করি, তা থেকে বিরত থাকো; আর যা নির্দেশ দিই,
সাধ্য অনুযায়ী তা পালন করো।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৩৩৭)। এ বাণী
মুসলমানের জীবনে নবীজির নির্দেশনার গুরুত্ব স্পষ্ট করে।
সহিহ বুখারির
৭২৮০ নম্বর হাদিসেও রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর আনুগত্যের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
সুতরাং কুরআন ও প্রমাণিত সুন্নাহকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা
নয়; বরং দুটিকে একসঙ্গে বুঝে আমল করাই সঠিক পথ।
পূর্ববর্তী নবীদের শিক্ষা ও বর্তমান উম্মত
সব
নবী-রাসুলের প্রতি ঈমান রাখা মুসলমানের কর্তব্য। তবে বিভিন্ন নবীর
শরিয়তের কিছু বিধান ভিন্ন ছিল। আল্লাহ বলেন, “তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি
একটি শরিয়ত ও কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করেছি” (সূরা আল-মায়িদা, ৫:৪৮)। তাই
পূর্ববর্তী নবীদের শিক্ষা সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে; কিন্তু তাঁদের
শরিয়তের কোনো নির্দিষ্ট বিধান বর্তমান উম্মতের জন্য প্রযোজ্য কি না, তা
কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে নির্ধারণ করতে হবে।
আলেমদের বক্তব্য বুঝতে হবে দলিলের আলোকে
ইমাম
আবু হানিফা, মালিক, শাফিঈ ও আহমদ ইবন হাম্বলসহ ইসলামের মহান আলেমদের অবদান
অপরিসীম। তাঁদের বক্তব্য বুঝতে হলে নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ ও ব্যাখ্যা দেখতে
হবে। কোনো হাদিসের অনুবাদ পড়েই তাড়াহুড়ো করে ফিকহি সিদ্ধান্ত দেওয়া
যেমন ঠিক নয়, তেমনি কোনো আলেমের বক্তব্যকে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর ঊর্ধ্বে
স্থান দেওয়াও ঠিক নয়।
আজ আমাদের অঙ্গীকার হোক—কুরআনকে খণ্ডিতভাবে নয়,
পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হিসেবে গ্রহণ করব; রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রমাণিত সুন্নাহ
অনুসরণ করব; আর মতবিরোধে আবেগ বা ব্যক্তিগত পছন্দের পরিবর্তে নির্ভরযোগ্য
দলিলের আশ্রয় নেব। কুরআন ও নবীজির দেখানো পথেই রয়েছে মুসলমানের প্রকৃত
সাফল্যের দিশা।
তথ্যসূত্র
১. পবিত্র
কুরআন: সূরা আল-বাকারা, ২:৮৫; সূরা আন-নিসা, ৪:৫৯, ৪:৮০; সূরা আল-মায়িদা,
৫:৪৮। ২. সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৩৩৭: হাদিসের পাঠ ৩. সহিহ বুখারি, হাদিস
৭২৮০: হাদিসের পাঠ