উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের
কর্মস্থলে অনিয়মিত উপস্থিতি, জনবলসংকট, রোগীবাহী গাড়ির চালকের
দায়িত্বহীনতা, ওষুধ সরবরাহ নিয়ে অভিযোগ এবং হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ
ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব কারণে উপজেলার প্রায় ৪০ হাজার
মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগী ও তাঁদের
স্বজনদের।
৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে
কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রোগীর স্বজনদের দাবি, চিকিৎসক
ও নার্সদের ডাকলেও অনেক সময় সাড়া পাওয়া যায় না। প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে
বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে তাঁদের। অন্যদিকে, জরুরি রোগীকে উন্নত
চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানোর প্রয়োজন হলে রোগীবাহী গাড়ির চালককে
সময়মতো পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
চিকিৎসক ও কর্মীদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন
বৃহস্পতিবার
(১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে
সরেজমিনে রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে চিকিৎসাসেবার মান ও
ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসে।
অভিযোগ রয়েছে,
হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক ও কর্মচারী নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না।
সাংবাদিকদের সরেজমিন পরিদর্শনের সময় হাসপাতাল ত্যাগ করার পর্যায়ে কয়েকজন
চিকিৎসককে হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তবে তাঁদের নির্ধারিত
কর্মঘণ্টা, দায়িত্বসূচি ও উপস্থিতির রেজিস্টার যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায়
অনুপস্থিতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নথি দিয়ে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
হাসপাতালের
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধেও অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ
তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, তিনি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন হাসপাতালে
আসেন এবং কোনো কোনো দিন সকাল ১১টার দিকে চলে যান।
এ বিষয়ে উপজেলা
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ খানের কাছে জানতে চাইলে
তিনি জানান, জসিম উদ্দিনকে কয়েকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
রোগীবাহী গাড়ির চালক নিয়ে ক্ষোভ
হাসপাতালের
রোগীবাহী গাড়ির চালকের দায়িত্ব পালন নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চালক নিয়মিত মদ্যপান করে হাসপাতালে আসেন। জরুরি রোগীকে
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হলে অনেক সময় তাঁকে
পাওয়া যায় না। ফলে রোগী পরিবহন নিয়ে সংকট তৈরি হয়।
এমন অভিযোগের
বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.
নওশাদ খান তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি বলে সরেজমিন
পরিদর্শনে উপস্থিত সাংবাদিকেরা জানান।
এদিকে, রোগীবাহী গাড়ির চালককে
অন্যত্র বদলি করে তাঁর স্থলে দায়িত্বশীল চালক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন
এলাকাবাসী। তাঁদের মতে, জরুরি রোগী পরিবহনে সামান্য অবহেলাও রোগীর জীবনকে
ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তাই এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
নেওয়া জরুরি।
৫০ শয্যার হাসপাতাল, তবু বেডসংকট
হাসপাতাল
সূত্রে জানা গেছে, এখানে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ১০০ জন রোগী বহির্বিভাগে
চিকিৎসা নিতে আসেন। অন্যদিকে, প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ১০ জন রোগী ভর্তি হন।
তবে হাসপাতালের শয্যা ব্যবস্থাপনা নিয়ে রোগীদের ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে।
রোগী
ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ, নতুন ভিআইপি বেড থাকার পরও সেগুলো কার্যকরভাবে
চালু না থাকায় শয্যাসংকট দেখা দিচ্ছে। ফলে কোনো কোনো রোগীকে মেঝেতে রেখে
চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। হাসপাতালের পুরুষ ও নারী ওয়ার্ড থাকলেও শিশুদের জন্য
পৃথক ওয়ার্ড নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, ৫০ শয্যার
হাসপাতাল হিসেবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা না গেলে
সাধারণ মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সুফল পাবেন কীভাবে?
ওষুধ ও খাবারের বিল নিয়ে অভিযোগ
হাসপাতালের
ওষুধ সরবরাহ ও খাবার ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রোগী ও তাঁদের
স্বজনেরা। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ থাকার কথা বলা হলেও
রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে শুধু স্যালাইন দেওয়া হয়;
অন্য ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
এ ছাড়া হাসপাতালের রান্নাঘর থাকা
সত্ত্বেও বাইরে থেকে রান্না করা খাবার আনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি,
খাবার কেনাকাটার বিল-ভাউচার নিয়েও অসংগতি রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, একটি
দোকান থেকে খাবার কেনার পরিবর্তে অন্য দোকানের ভাউচার দিয়ে প্রায় ১০ হাজার
টাকার বিল তোলা হচ্ছে।
হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন
হাসপাতালে
ডাস্টবিন থাকার পরও সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন
স্থানীয়রা। পাশাপাশি হাসপাতালের আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম সংরক্ষণ এবং
নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
তাঁদের অভিযোগ,
সরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ যথাযথ নিয়মে সংরক্ষণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করার
ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা,
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা এবং সরকারি সম্পদের সুরক্ষায় কর্তৃপক্ষের
নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
রোগীদের অভিযোগ, সেবা নিতে গিয়ে বাড়ছে দুর্ভোগ
হাসপাতালে
চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগীর স্বজন বলেন, “রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সে আমরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। অনেক সময় চিকিৎসক ও নার্সদের
ডাকলেও দ্রুত সাড়া পাওয়া যায় না। রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগও
রয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে বাইরে থেকে কিনতে হয়। হাসপাতালে ভালো
ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে আমাদের কষ্ট করে
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা চন্দ্রঘোনা মিশন হাসপাতালে যেতে হতো
না।”
তাঁদের দাবি, চিকিৎসক-নার্সদের নিয়মিত উপস্থিতি, প্রয়োজনীয়
ওষুধ সরবরাহ, রোগীবাহী গাড়ির চালকের দায়িত্ব নিশ্চিত করা এবং হাসপাতালের
সার্বিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে
রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ খানের
সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান, হাসপাতাল এর ইনডোর আউটডোর নোংরা ময়লা
আর্বজনা পরিবেশও চিকিৎসা সেবা সহ নানা অনিয়ম বিষয়ের রোগীদের খাবার
নিম্নমান সরবারহ রোগীদের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এক স্থানীয় নাম
প্রকাশ অনিচ্ছুক ব্যক্তি চুক্তি ভিত্তিক নিজ বাসা হতে রোগীদের খাবার
সরবরাহ করে থাকে। অন্যদিকে হাসপাতাল খাবারে বিষয়ের নিম্নমান খাবার
প্রতিনিয়ত বিতরন করছে বলে রোগীরা অভিযোগ করেন। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে,
হাসাপাতালে রান্না ঘর নোংরা ময়লা আর্বজনা পরিবেশের রাখা এবং পরিত্যক্ত রুমে
রোগীদের খাবার রাখা হয়েছে।খাবার টেন্ডার পাওয়া ঠিকাদার নিজ বাড়ি
খাগড়াছড়ি সারামাসে একবার ও হাসপাতালে আসেনা বলে স্থানীয় এক রান্নাকারী
সাব কনন্টাক নেয়া চুক্তি ভিক্তিক প্রায় আধা কি:মি: দুরত্ব হতে এসে
রোগীদেরকে খাবার সরবারহ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। উর্দ্বতন সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে স্থানীয় সচেতন মহলরা
দাবী জানান।
এবিষয়ে রাজস্থলী বাস স্টেশন মিজান সওদাগর গণমাধ্যম কে
জানান,রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য হাসপাতালে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খরচাবলী
ভূয়া বিল ভাইচার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লোক এসে নিয়ে যায়।