উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
রাঙামাটির জেলা রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়ায় পাহাড়ি ও বাঙালি
নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিকভাবে
স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে দুই সপ্তাহব্যাপী কুটিরশিল্প প্রশিক্ষণ
কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৯টায়
বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে ৩৮ বীর (কাপ্তাই জোন)-এর অধীন
বাঙ্গালহালিয়া আর্মি ক্যাম্পের উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা
হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাঙ্গালহালিয়া আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প
কমান্ডার ক্যাপ্টেন মুর্তূজা রাসেল সাইফ।
দুই সপ্তাহব্যাপী এ
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় স্থানীয় ২০ জন পাহাড়ি ও বাঙালি নারী অংশগ্রহণ করছেন।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের কুটিরশিল্পবিষয়ক বিভিন্ন কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি,
সৃজনশীলতার বিকাশ এবং ভবিষ্যতে আয়মুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার উপযোগী
করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে
উপস্থিত ছিলেন বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদোমং মারমা,
ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য ও সদস্যা, গণমাধ্যম কর্মী,প্রশিক্ষক মিলন
চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে
বাঙ্গালহালিয়া আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মুর্তূজা রাসেল
সাইফ বলেন, নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুটিরশিল্পের মতো সৃজনশীল কাজের প্রশিক্ষণ গ্রহণের
মাধ্যমে নারীরা নিজেদের দক্ষ করে তুলতে পারবেন। অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে
তাঁরা ভবিষ্যতে আয়মুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে
স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন।
ইউপি চেয়ারম্যান আদোমং মারমা বলেন,
নারীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি ও স্বাবলম্বী করে তোলার ক্ষেত্রে এ ধরনের
প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও
দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় নারীরা নিজেদের পরিবারের আর্থিক উন্নয়নে অবদান
রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে
করছেন, কুটিরশিল্পবিষয়ক এ প্রশিক্ষণ স্থানীয় নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান
ও আয়ের সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা নিজেদের তৈরি
পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে তোলার সুযোগ
পাবেন। এতে পারিবারিক আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক
কর্মকাণ্ডেও তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে।
বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকার
নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং তাঁদের দক্ষতা বিকাশে এ ধরনের
উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাহাড়ি ও বাঙালি
নারীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ পারস্পরিক সহযোগিতা, সামাজিক সম্প্রীতি ও
সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে বলে জানান।
স্থানীয়
পর্যায়ে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে
বাঙ্গালহালিয়া আর্মি ক্যাম্পের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন
সংশ্লিষ্টরা।