উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে
কুমিল্লার বিভিন্ন গীতা শিক্ষালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে শারদীয়
দুর্গোৎসবের আগমনী পর্ব 'মহালয়া' উদযাপিত হয়েছে।
শনিবার (১০
অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টায় নগরীর কান্দিরপাড় মনোহরপুরস্থ ঐতিহাসিক শ্রীশ্রী
রাজ রাজেশ্বরী কালী মায়ের বাড়িতে এ মহালয়া উৎসবের আয়োজন করা হয়। এতে
কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকার ১৬টি গীতা শিক্ষালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক,
শিক্ষকসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের
শুরুতে বেদমন্ত্র পাঠ, চণ্ডীপূজা, চণ্ডীপাঠ ও আহ্বান গীতির মাধ্যমে দেবী
দুর্গার আগমনী বার্তা স্মরণ করা হয়। পরে ধর্মীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন শ্রীকাইল ডিগ্রি কলেজের
প্রাক্তন অধ্যাপক শ্যামা প্রসাদ ভট্টাচার্য্য। তিনি মহালয়ার ধর্মীয়
তাৎপর্য, সনাতন ঐতিহ্য ও নতুন প্রজন্মের মাঝে গীতা শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে
আলোকপাত করেন।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন
কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি)
অ্যাডভোকেট মো. একরামুল হক নাসিম, সাবেক জিপি অ্যাডভোকেট তপন বিহারী নাগ,
সাবেক ভারপ্রাপ্ত জিপি অ্যাডভোকেট রণদা প্রসাদ সিংহ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন
ফ্রন্ট কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক শ্রী শ্যামল কৃষ্ণ সাহা ও সদস্যসচিব
সঞ্চিত দেবনাথ, উত্তর জেলা শাখার আহ্বায়ক দুলাল দেবনাথ ও সদস্যসচিব সুবাস
বণিক।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ
কুমিল্লা জেলা শাখার আইসিটি সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার, পূজা
উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ট্রাস্টি নির্মল পাল ও
ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র সরকার, ঐক্য পরিষদ মহানগর শাখার
আহ্বায়ক কমল চন্দ খোকন, রাসস্থলী ও রামঠাকুর আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক ড.
দুলাল নন্দী, ত্রিশূল গীতা শিক্ষালয়ের উপদেষ্টা ড. বিশ্বজিৎ দেব, তাপস
কুমার নাহা, অ্যাডভোকেট স্বর্ণকমল নন্দী পলাশ, বিশিষ্ট সমাজসেবক ডা. অংকুর
দত্ত, ডা. বনশ্রী সাহা, অধ্যক্ষ তপন সাহা, প্রকৌশলী নারায়ণ চন্দ্র ভৌমিক,
প্রদীপ কুমার সাহা, অচিন্ত দাশ টিটু, দীলিপ কুমার নাগ কানাই, আশীষ কুমার
দাশ, সুব্রত চৌধুরী তপু, শ্যামল দে, সাগর দাশ ও শিব প্রসাদ মজুমদার রাহুলসহ
স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আয়োজনে কুমিল্লার
রাসস্থলী ত্রিশূল গীতা শিক্ষালয়, রাজ রাজেশ্বরী গীতা শিক্ষালয়, সারদা পালের
মাঠ চন্দ্রিকা গীতা শিক্ষা কেন্দ্র, ডিগাম্বরীতলা গুপ্ত জগন্নাথ গীতা
পাঠশালা, মহেশাঙ্গণ নিষ্কাম কর্মযোগ গীতা শিক্ষালয়, রামকৃষ্ণ মিশন শ্রীমা
সারদা সংস্কৃতি ও গীতা শিক্ষালয়সহ মোট ১৬টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা
সম্মিলিতভাবে অংশ নেয়।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের এই সম্মিলিত
অংশগ্রহণ ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ, শাস্ত্রীয় জ্ঞানচর্চা এবং নতুন প্রজন্মের
মধ্যে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠান
শেষে উপস্থিত ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।