উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
লাউ ক্ষেতের মাচায় প্রতিটি গাছের ডগায় ডগায় ঝুলছিল কচি লাউ। আর
কয়েকদিন পরই তা বাজারে বিক্রি করে ঋণের টাকা শোধ করার কথা ছিল। কিন্তু এক
রাতের আঁধারেই কেড়ে নেওয়া হলো নিঃস্ব এক কৃষকের সব স্বপ্ন। শত্রুতার জেরে
কেটে ফেলা হয়েছে ৪ শতাধিক ফলন্ত লাউ গাছ।
ঘটনাটি ঘটেছে সিলেটের
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর রাধানগর গ্রামে।
ভুক্তভোগী কৃষক মো. বাতেন মিয়া (৫৫) এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে নিজের ২ বিঘা
জমিতে লাউ চাষ করেছিলেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে ক্ষেতে গিয়ে
বাতেন মিয়া দেখতে পান, সব কটি গাছের গোড়া কেটে রেখে গেছে দুষ্কৃতকারীরা।
চোখের সামনে মেহনতের ফসল ধ্বংস হতে দেখে ক্ষেতের পাশেই কান্নায় ভেঙে পড়েন
তিনি ও তাঁর স্ত্রী সোলেমা খাতুন (৪০)।
ক্ষতিগ্রস্ত বাতেন মিয়া
আকুতি জানিয়ে বলেন, “এনজিওর ঋণের টাকায় অনেক কষ্ট করে চাষ করেছিলাম।
দারুণ ফলন এসেছিল, আশা ছিল ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার লাউ বিক্রি করব। এখন সব শেষ।
আমি কীভাবে ঋণ শোধ করব? কারা আমার পেটে এভাবে লাথি মারল?” পরিবারের দাবি,
সামাজিক বা ব্যক্তিগত হিংসার বশবর্তী হয়েই কেউ রাতের আঁধারে এমন জঘন্য কাজ
করেছে। এতে তাঁদের সরাসরি প্রায় দেড় লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা মো. মনিরুজ্জামান এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এ
বিষয়ে পূর্ব ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর আলম বলেন, “মানুষের সঙ্গে
মানুষের কোন্দল থাকতে পারে, কিন্তু বোবা গাছের ওপর এমন শত্রুতা মেনে নেওয়া
যায় না।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজিবুল হাসান জানান, খবর
পেয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দিতে
বলা হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো সহায়তার চেষ্টা করা হবে।
কোম্পানীগঞ্জ
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ উছমান গনি বলেন, “ঘটনাটি
অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি
ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”