উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বিশেষ প্রতিনিধি | প্যাটারসন (নিউ জার্সি)
যুক্তরাষ্ট্রের
নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের শিল্পনগরী প্যাটারসন এখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের
অন্যতম প্রধান সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক হাব। সাতসমুদ্র তেরো নদী
পেরিয়ে সুদূর প্রবাসে বসবাস করলেও নিজেদের স্বকীয়তা, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যকে
আঁকড়ে ধরে গড়ে উঠেছে এই প্রবাসী জনপদ। স্থানীয় সমাজে বাংলাদেশি আমেরিকানদের
অসামান্য অবদান এবং অর্থনৈতিক সক্রিয়তার স্বীকৃতিস্বরূপ শহরের
প্রাণকেন্দ্র ইউনিয়ন অ্যাভিনিউ এলাকার একটি অংশের আনুষ্ঠানিক নামকরণ করা
হয়েছে ‘বাংলাদেশ বুলেভার্ড’।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের
২২ জুন প্যাটারসন সিটি প্রশাসন ও প্রবাসী নেতৃত্বের যৌথ উদ্যোগে উদযাপিত হয়
এই ঐতিহাসিক নামকরণ অনুষ্ঠান। মূলধারার মার্কিন সমাজে প্রবাসী
বাংলাদেশিদের সততা, কঠোর পরিশ্রম ও সামাজিক সংহতির এক অনন্য সম্মাননা
হিসেবে বিবেচিত হয় এই পদক্ষেপ।
বর্তমানে ‘বাংলাদেশ বুলেভার্ড’ কেবল
একটি সড়ক নামেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি হয়ে উঠেছে প্রবাসে বাঙালিদের আত্মপরিচয়ের
প্রতীক। রাস্তার দুই পাশে গড়ে ওঠা সারিবদ্ধ দেশীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো
সার্বক্ষণিক মুখরিত থাকে প্রবাসী ও স্থানীয় পথচারীদের আনাগোনায়।
সরেজমিনে
দেখা যায়, সড়কটির দুই পাশে শোভা পাচ্ছে দেশীয় পোশাকের বুটিক শপ, খাঁটি
বাঙালি রন্ধনশৈলীর রেস্তোরাঁ, দেশি মসলা ও তাজা মাছ-মাংসের হালাল
সুপারমার্কেট। ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ি, পাঞ্জাবি কিংবা কাচ্চি বিরিয়ানি ও
দেশীয় মিষ্টির গন্ধে মুহূর্তের মধ্যেই পথচারীরা যেন হারিয়ে যান ঢাকার কোনো
চেনা গলি কিংবা সিলেটের ঐতিহ্যানুসারী বাজারে।
ব্যবসায়িক প্রসারের
পাশাপাশি এলাকাটি প্রবাসী বাঙালির প্রধান সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্রে রূপ
নিয়েছে। কাছেই নির্মিত হয়েছে স্থায়ী শহীদ মিনার, যেখানে প্রতি বছর ২১শে
ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে খালি পায়ে হেঁটে পুষ্পস্তবক অর্পণ
করেন প্রবাসী বাঙালি ও তরুণ প্রজন্ম। এছাড়া বৈশাখী মেলা, স্বাধীনতা ও বিজয়
দিবসের উৎসবে লাল-সবুজের পতাকায় রঙিন হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।
স্থানীয়
প্রবাসী উদ্যোক্তা ও সামাজিক সংগঠকদের মতে, ‘বাংলাদেশ বুলেভার্ড’ কেবল
প্রবাসীদের দৈনন্দিন কেনাকাটার স্থান নয়, এটি আমেরিকার বুকে বাংলাদেশের
সমৃদ্ধ ঐতিহ্য তুলে ধরার এক সুদৃঢ় মাধ্যম। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার
সংস্কৃতিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার পাশাপাশি নিজস্ব মূল শিকড় ধরে
রাখার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে প্যাটারসনের এই ‘ছোট বাংলাদেশ’।