অনলাইন ডেস্ক:
বাদাম চাষি থেকে হোয়াইট হাউসে যাওয়া নোবেলজয়ী সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার মারা গেছেন। স্থানীয় সময় রোববার জর্জিয়ার প্লেইনসে নিজ বাড়িতে ১০০ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মার্কিন ইতিহাসে আর কোনো প্রেসিডেন্ট এমন দীর্ঘ জীবন পাননি।
শুধু বয়সেই নয়, কর্মেও অনেকের চেয়ে এগিয়ে থাকবেন জিমি কার্টার। প্রায় পাঁচ দশক আগে তিনি যখন প্রেসিডেন্ট হন, তখন যুক্তরাষ্ট্র নানামুখী সংকটে নিমজ্জিত। তাঁকে মার্কিন অর্থনীতির দুরবস্থার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। তিনি ইরানে জিম্মি সংকট মোকাবিলা করেছেন। মিসর ও ইসরায়েলের মধ্যকার শান্তিচুক্তি স্থাপনে তিনি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন। প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হলে জড়িয়ে পড়েন নানা মানবিক কাজে। এর স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ২০০২ সালে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।
জিমি কার্টারের মৃত্যুতে আগামী ৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এক বিবৃতিতে তিনি ওই দিন কার্টারের আত্মার শান্তির জন্য প্রত্যেক মার্কিনিকে নিজ নিজ ধর্মালয়ে প্রার্থনার আহ্বান জানান। এর আগে শোকবার্তায় বাইডেন দম্পতি জিমি কার্টারকে ‘প্রিয় বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেন।
তারা বলেন, কার্টার বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা করেছেন, উন্নত করেছেন ও পরিবর্তন এনেছেন। কার্টারের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা কার্টার ১৯৭৬ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডকে পরাজিত করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নেন। এক মেয়াদেই তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্প ডেভিডে ইসরায়েল ও মিসরের মধ্যে শান্তিচুক্তি হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যে কিছুটা স্থিতিশীলতা নিয়ে আসে। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকট, ক্রমাগত জনপ্রিয়তায় ধস ও ইরানে জিম্মি সংকটের মতো ঘটনায় তাঁর মেয়াদের শেষ ৪৪৪ দিনকে উত্তাল করে তোলে। ১৯৮০ সালে দ্বিতীয় দফায় প্রার্থী হয়েছিলেন কার্টার। কিন্তু তখন রিপাবলিকান প্রার্থী রোনাল্ড রিগ্যানের কাছে তাঁর ভূমিধস পরাজয় হয়।
কার্টারের মৃত্যুতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও বিশ্বনেতারা গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁকে সহানুভূতিশীল, বিনম্র ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ বলে বর্ণনা করেছেন। সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ সিসি বলেন, মিসর ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জিমি কার্টারের অবদান ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
Leave a Reply