রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। এতে তীব্র গরমে ঈদ শেষে কর্মস্থলগামী যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা হতে ঢাকাগামী শত শত যানবাহন নদী পার হওয়ার জন্য দৌলতদিয়া ঘাটে আসতে থাকে। এর মধ্যে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাই বেশি। ঘাটে কোনো ফেরি আসামাত্রই ছোট গাড়িগুলো উঠে যাচ্ছে। এজন্য বড় গাড়িগুলো ঘাটে আটকা পড়ে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হচ্ছে। পাটুরিয়া ঘাট থেকে ধীরে ফেরি আসারও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে ঈদে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার নির্বিঘ্ন করতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৭টি ফেরি নিয়োজিত করেছে কর্তৃপক্ষ; কিন্তু তারপরও যানবাহনের দীর্ঘ সিরিয়াল সৃষ্টি হওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে আটকেপড়া যাত্রী ও যানবাহন চালকদের মধ্যে। এজন্য তারা অসাধু সিন্ডিকেটকে দায়ী করেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে দৌলতদিয়া ঘাটে সরেজমিন অনেকের সাথে কথা হয়। এ সময় ৩নং ঘাটে জিহাদ হোসেন নামে যাত্রীবাহী সূর্যমুখী এক্সপ্রেসের সুপারভাইজার বলেন, তার মতো অনেক গাড়ি সিরিয়ালে ১ ঘণ্টার মতো আটকে আছে। এতে তীব্র গরমে অনেক ভোগান্তি হচ্ছে; কিন্তু ঘাটে একটি ফেরি থাকলেও ভিআইপি আসার কথা বলে তাতে যানবাহন উঠানো হচ্ছে না। এসব সিন্ডিকেটের কারসাজি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ঢাকাগামী এসবি পরিবহণের যাত্রী আলম শেখ বলেন, এক ঘণ্টার ওপর সিরিয়ালে আটকে থেকে ভোগান্তি পোহাচ্ছি; কিন্তু ফেরির নাগাল পাচ্ছি না।
রয়েল এক্সপ্রেসের সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন বলেন, তার মতো ৭-৮টি বড় গাড়িকে ৭নং ঘাটে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকার পর একটি ফেরি আসে; কিন্তু তাতে ছোট ছোট গাড়ি দ্রুত উঠে পড়ায় আমরা উঠতে পারিনি। যে কারণে ওই ঘাট থেকে ৩নং ঘাটে চলে আসি। এখানেও ফেরি পাচ্ছি না।
এ সময় নাম প্রকাশ না করে বিআইডব্লিউটিসির একজন কর্মচারী জানান, ঈদের পর পাটুরিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়া ঘাটমুখী যাত্রীর সংখ্যা অনেক কম। ফেরিগুলো অনেকটা খালি আসতেছে। এতে সরকারের তেল অপচয় হয়। তাই কিছুটা দেরি করে ফেরিগুলো ছেড়ে আসছে। এজন্য দৌলতদিয়া ঘাটে গাড়ি আটকা পড়ছে।
এ প্রসঙ্গে দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত বিআইডব্লিউটিসির এজিএম (বাণিজ্য) মো. সালাউদ্দিন বলেন, নৌরুটে ১৭টি ফেরি চলাচল করছে; কিন্তু কর্মমুখী মানুষ ও যানবাহন একযোগে আসতে থাকায় ঘাটে চাপ পড়ছে। পাটুরিয়া হতে বিলম্বে ফেরি ছাড়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।