বৃহস্পতিবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ০.৯৬°সে

এইচএসসি পরীক্ষা: জটিল হলেও সমাধানযোগ্য

এইচএসসি পরীক্ষা একটি ছাত্রের জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গ্রহণ করা হয় মূলত শিক্ষাক্রমের আলোকে শিক্ষার্থীর অর্জনটা কোন অবস্থায় আছে সেটা যাচাইয়ের জন্য। এই পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে দেশে এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন আমাদের শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা শেষ করে একটি সনদ তারা পান। যেটা তার আগামীকে গড়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এবার বৈশ্বিক করোনার কারণে ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা হবে না।

জেএসসি ও সমমান এবং এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের গড় মূল্যায়ন করেই এইচএসসি পরীক্ষার ফল নির্ধারণ করা হবে। আর এই ফল প্রকাশ করা হবে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে পরীক্ষা নেওয়া যাচ্ছে না বলে শিক্ষামন্ত্রীর বরাত দিয়ে পত্রিকায় গতকাল গণমাধ্যমে একথা প্রকাশ হয়েছে। কখন পরীক্ষা নেয়ার অনুক‚ল পরিবেশ তৈরি হবে এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। এমন পরিবেশে কীভাবে পরীক্ষা গ্রহণ করা যায় সেটাও একটা চ্যালেঞ্জ। পরীক্ষা চলাকালে স্বাস্থ্যঝুঁকি কীভাবে হ্রাস করা যায় বা এড়ানো যায় সেটার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত। গত সপ্তাহেও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় পরীক্ষা নেয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ঠিক এক সপ্তাহ পরের শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণা চমকে দিয়েছে দেশবাসীকে।

গত বুধবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এবারের পরীক্ষা না নেয়ার সিদ্ধান্তটি জানান। এই পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ৩০ থেকে ৩২ কর্মদিবসের প্রয়োজন। পরীক্ষার সময় এক বেঞ্চে দুজন শিক্ষার্থীর আসন দেয়া হয়। করোনায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি পরিস্থিতি বিবেচনায় এক বেঞ্চে দুজন আসন দেয়া সম্ভব নয়। এ কারণে দ্বিগুণ কেন্দ্র প্রয়োজন হবে। এসব ক্ষেত্র বিচেনা করে পরীক্ষা না নেওয়ার পক্ষে বিভিন্ন দেশের উদাহরণ টেনে আনেন মন্ত্রী। তবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্তে কেউ সুযোগ পেয়েছে আবার কেউ বঞ্চিত হবে বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে জটিলতার আশঙ্কাও রয়েছে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। তাদের পরামর্শ এ পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করতে গিয়ে কোনো শিক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। করোনা সংক্রমণের কারণে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই প্রথম পরীক্ষা না নিয়ে বিকল্প মূল্যায়নে যেতে হচ্ছে সরকারকে। উচ্চ মাধ্যমিকের পরই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের লেখাপড়ায় যায়। ভবিষ্যতে তারা কীভাবে কোন পেশায় যেতে পারবে, এ পর্যায়েই তা অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত হয়ে যায়। ফলে এইচএসসির ফল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা মনেকরি, সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনেক জটিলতা আসবে। এগুলো জটিলভাবে চিন্তা না করে সহজতর পদ্ধতি তৈরি করে শিক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে আমরা মনে করি না যে পরীক্ষার রেজাল্ট হেরফের হলে কোন ছাত্রের বিশেষ সংকট হবে। যে পরীক্ষায়ই সে অংশগ্রহণ করুক তার মেধা হলো তার জীবন গঠনের মূল জায়গা। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ যদি তার না থাকে সেখানে বিপত্তি দেখা দেবে। তবে এই পরীক্ষায় শিক্ষার্থীর ফল তৈরির জন্য সতর্কতা জরুরি। পুরো বিষয়টি নিয়ে সরকার যে টেকনিক্যাল কমিটি করেছে তাদের অত্যন্ত দক্ষতার ওপর নির্ভর করবে একটি প্রজš§। বিষয়টি জটিল হলেও তা সমাধানযোগ্য।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

নিরাময় কেন্দ্রে পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু, দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে
ধর্ষকদের সমাজে চোখ অন্ধ, বিবেকের কণ্ঠও স্তব্ধ
মানবপাচার রোধে কঠোর হতে হবে
ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজন টেকসই পদক্ষেপ
নবীন উদ্যোক্তাদের মূল্যায়ন হোক
ভার্চুয়াল পাঠদান : ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব

আরও খবর