শনিবার, ২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ২১.১৬°সে
সর্বশেষ:
জাজিরা প্রান্তের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী সুধী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী স্বপ্নের পদ্মা সেতুর দুয়ার খুললেন বাংলাদেশেরর প্রধানমন্ত্রী সমাবেশস্থলে মানুষের ঢল এক নজরে পদ্মা সেতুর আদ্যোপান্ত নরওয়েতে সমকামীদের বারে গুলি, নিহত ২ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদেও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিল পাস সাড়ে ৭ বছরে কাজ করেছেন ১৪ হাজার শ্রমিক-প্রকৌশলী পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময়সূচি আজ পদ্মার উৎসবে মাতবে পুরো বাংলাদেশ জবিতে সাংবাদিকতার বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সড়কে নৈরাজ্য: শৃঙ্খলা ফিরবে কবে?

সম্পাদকীয়
গাড়ির বেপরোয়া গতি একের পর এক কেড়ে নিচ্ছে মূল্যবান জীবন। নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা শিক্ষার্থীদের স্লোগানে স্লোগানে যখন প্রকম্পিত; এ সময়েও কমছে না সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা। কেবল নভেম্বরেই ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪১৩ জন। এ সময় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ছিল ৪১.৬৮ শতাংশ।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫৪ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। নভেম্বরে দুর্ঘটনায় ৯৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৩.২৪ শতাংশ। উল্লিখিত সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৩ জন। এসব তথ্য থেকেই স্পষ্ট, সড়ক কতটা অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। প্রতিটি সড়ক দুর্ঘটনায় যখন কোনো ব্যক্তি হতাহত হন; তখন ব্যক্তির পাশাপাশি বহু পরিবার এবং সমাজেরও ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়। এ ক্ষতি পূরণের উপায় কী?

দুঃখজনক হলো, দুর্ঘটনা রোধে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরও সড়ক দুর্ঘটনার ব্যাপকতা কমছে না। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, অক্টোবরে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০৭ জন নিহত হয়েছেন। আর নভেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা এবং নিহতের সংখ্যা দুটোই বেড়েছে। মানুষের প্রশ্ন, একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়বে আর কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাত হাজির করবে-এ প্রবণতা কবে বন্ধ হবে?

লক্ষ করা যাচ্ছে, ট্রাক ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ চালকদের বেপরোয়া গতিতে ট্রাক চালানো এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ও যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সড়ক দুর্ঘটনার অন্য কারণগুলোও চিহ্নিত; এ ছাড়া সমস্যার সমাধানে কী করণীয় তাও বহুল আলোচিত।

২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের আন্দোলনে নেমেছিলেন। তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। এই দীর্ঘ সময় পরও সড়ক দুর্ঘটনা কমেনি। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ২০১৯ সালে গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির সুপারিশগুলোর বেশির ভাগই এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। একেকটি দুর্ঘটনার পর পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি হয়, প্রতিবাদ হয়, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।

বলা যায়, সড়কে মৃত্যু এখন এক অতি স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আমরা এমন মৃত্যু আর দেখতে চাই না। সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করছে, তাদের ন্যায্য দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে নিরাপদ সড়ক, বাঁচাতে হবে মানুষের প্রাণ। এমন নির্মম পরিণতি থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে হলে আইন প্রয়োগে কর্তৃপক্ষকে কঠোর হতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ,ঈদযাত্রা নিরাপদ হোক
ঈদযাত্রায় দুর্ভোগের আশঙ্কা
পুনঃভর্তি ফি আদায় বন্ধ হোক
অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়াতে হবে
স্বাগত ২০২২: ক্ষত কাটিয়ে নবোদ্যমে চলার বছর হোক

আরও খবর


close