বৃহস্পতিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ২৯.০১°সে

ডেঙ্গি প্রতিরোধে করণীয়

সম্পাদকীয়:

ডেঙ্গির প্রকোপ বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও। ইতোমধ্যে ৪৫ জনেরও বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। এ বছর ডেঙ্গির ভয়াবহতা ২০১৯ সালের চেয়েও বেশি। লক্ষণেও এসেছে পরিবর্তন।

গতবার ৫ দিনের আগে অবস্থা খারাপ হতো না; কিন্তু এবার ৩-৪ দিনের মধ্যেই রোগীদের রক্তচাপ কমে যাচ্ছে, পেটে ও বুকে পানি চলে আসছে; শকে চলে যাচ্ছে রোগী, রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আগে শকে যাওয়া শিশুদের মধ্যে ৫-১০ শতাংশের মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের জটিলতা হতো, এবার সেই হার বহুগুণ (৬০-৬৫ শতাংশ) বেড়েছে। একে বলে এক্সপান্ডেড ডেঙ্গি সিনড্রোম। ২০১৯ সালে ডেঙ্গিজ্বরে সবচেয়ে বেশি রোগী আক্রান্ত হয়েছিল (১ লাখের বেশি)।

সে তুলনায় সংকটাপন্ন রোগীর সংখ্যা কম ছিল। কিন্তু এবার শনাক্ত তুলনামূলকভাবে কম, কিন্তু জটিলতা বেশি। এ বছর মোট ১০ হাজার ৬৫০ জনের বেশি রোগী ডেঙ্গিজ্বরে আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রতিদিন গড়ে ২৫০-৩৫০ জনের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, যা চিকিৎসাসেবায় সংকট তৈরি করছে।

জটিলতা বেশি হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করলে যেসব বিষয় পরিলক্ষিত হয় তা হলো : ১. সম্প্রতি দেশে এক গবেষণায় ডেঙ্গির নতুন সেরোটাইপ বা ধরন শনাক্ত হয়েছে। ডেনভি-৩ নামের ধরনটিতে ঢাকার বাসিন্দারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ধরনটির কারণে রক্তের প্লাটিলেট দ্রুত কমে যায় এবং রোগীর অবস্থা দ্রুত জটিল হয়ে পড়ে। এ ধরনটি ডেনভি-১ ও ডেনভি-২-এর চেয়ে বেশি ভয়ংকর। আগে কেঊ যদি ডেঙ্গির ডেনভি-১ ও ডেনভি-২ দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকেন, আবার যদি ডেনভি-৩ দ্বারা আক্রান্ত হয়ে যান, তাহলে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

২. জ্বর হলেই এখন সবাই মনে করছে করোনা। ফলে প্রথমেই ডেঙ্গির টেস্ট করাচ্ছে না। প্রথমে করোনার টেস্ট করে আবার অনেকে করোনা ভেবে ওষুধ খাচ্ছেন। এতে ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীর ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। দেরিতে ডেঙ্গির পরীক্ষা করার ফলে ডেঙ্গি শনাক্ত হওয়ার পরপরই প্লাটিলেটের মাত্রা কম পাওয়া যায় এবং সেই সঙ্গে রোগীর জটিলতাও বেড়ে যায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য জ্বর হলেই রোগীকে একইসঙ্গে করোনা ও ডেঙ্গির টেস্ট করাতে হবে এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

৩. এডিস মশাবাহী রোগ ডেঙ্গি। এডিস মশা এবং এর লার্ভা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় আমরা এখনো পুরোপুরি সফল হয়নি। স্বাস্থ্য বিভাগ, সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি জনগণকেও এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণে এডিস মশা নিধনে এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যক্রম হাতে নিতে হবে।

ডেঙ্গি প্রতিরোধে করণীয় : ১. মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা; ২. ঘর ও আশপাশের যে কোনো পাত্রে বা জায়গায় জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা; ৩. ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের ড্রাম, মাটির পাত্র, বালতি, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা, নারকেলের মালা, কনটেইনার, মটকা, ব্যাটারি সেল ইত্যাদি প্রতিনিয়ত পরিষ্কার করা; ৪. রাতে বা দিনে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা; স্বাস্থ্যকর পরিবেশ স্থাপন করা; মশা নিধনের ওষুধ, স্প্রে বা কয়েল ব্যবহার করা; জানালায় মশা প্রতিরোধক নেট ব্যবহার করা।

সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সম্পৃক্ততায় ডেঙ্গিজ্বরের ব্যাপকতা কমিয়ে আনা সম্ভব। সুতরাং আমাদের সচেতন হতে হবে এবং রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থাগুলো সবাইকে একযোগে মেনে চলতে হবে।

ডা. আরিফ মাহমুদ : জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ; ডেপুটি ডিরেক্টর, মেডিকেল সার্ভিসেস, এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ,ঈদযাত্রা নিরাপদ হোক
ঈদযাত্রায় দুর্ভোগের আশঙ্কা
পুনঃভর্তি ফি আদায় বন্ধ হোক
অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়াতে হবে
স্বাগত ২০২২: ক্ষত কাটিয়ে নবোদ্যমে চলার বছর হোক

আরও খবর


close