শুক্রবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২১.৫৬°সে
সর্বশেষ:
করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে নাকাল যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুকের মাধ্যমে ১৪ বছর পর মিলল মা-মেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানদের ইউএনওর মতো নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ:হাইকোর্ট সিলেটে-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিবের জাতীয় সংসদে প্রথম ভাষণ নীতিমালা চূড়ান্ত হলেই বাংলাদেশে আসছে বিদ্যুৎচালিত গাড়ি ভারত বাংলা‌দে‌শের ম‌ধ্যে অসাধারণ বন্ধু‌ত্বের সম্পর্ক মৃত্যুর ৫ বছর ‘ছাড়পত্র’ পেল দিতির সিনেমা চলমান করোনা মহামারিতে বিশ্বে এক দিনে মৃত্যু ১০ হাজার, শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ১নং ওয়ার্ড রোটা: আবুল হোসেন ছোটনের উদ্যোগে ভ্যাকসিন সনদ বিতরণ বাংলাদেশ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ সংস্থা নিউজার্সির নতুন কমিটি গঠন গণমাধ্যমে শৃঙ্খলা আনার দাবি সাংবাদিকদেরই -ডিইউজে’র বার্ষিক সভায় তথ্যমন্ত্রী ইভ্যালির সিইও রাসেল, চেয়ারম্যান শামীমা গ্রেপ্তার

চামড়ার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষিত

চামড়া দেশের এক অন্যতম রপ্তানি খাত। এ খাত থেকে আয় হয় প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা। উল্লেখ্য, চামড়া সংগ্রহের সবচেয়ে বড় মৌসুম কুরবানির ঈদ। এ সময় মোট চামড়ার ৮০ শতাংশ সংগৃহীত হয়ে থাকে। অথচ গত কয়েক বছর ধরে কুরবানির চামড়া নিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা সংকট। গত বছর তো চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পেয়ে অনেকে সেগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলে অথবা রাস্তায় ফেলে দেয়। কুরবানির চামড়া নিয়ে এবারও তৈরি হয়েছে নানা সংকট। ট্যানারি ও আড়তদারদের কারসাজিতে সরকারের বেঁধে দেওয়া কুরবানির পশুর চামড়ার মূল্য কার্যকর হয়নি। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কমে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য করা হয় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের। প্রকৃত মূল্য না পেয়ে রাজধানীর পাইকারি বাজার পোস্তার আড়তের সামনে, বগুড়ার রাস্তায় ও করোতোয়া নদীসহ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয় চামড়া। সক্রিয় সিন্ডিকেটে পোস্তাসহ সারা দেশে জড়িয়ে পড়ে আড়তের মালিকরা। ওদিকে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের প্রধান উপকরণ লবণ নিয়ে তৈরি হয় আরেক ধরনের সংকট। লবণের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বস্তাপ্রতি এর দাম বাড়ানো হয় পাঁচশ টাকা। লবণের এমন সংকটে অনেক আড়তদার ঈদের রাতে চামড়া কিনতে আগ্রহী না হওয়ায় চামড়ার আরও দরপতন ঘটে। লবণ সংকটের কারণে পাঁচ থেকে দশ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন।

এ বছর কুরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহণসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে কেন্দ্রীয় যৌথ সমন্বয়ক কমিটি, জাতীয় ও বিভাগীয় মনিটরিং টিম গঠন করেছিল। এ ছাড়া সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য ছিল কন্ট্রোল সেল। এতসব আয়োজনের পরও চামড়ার দাম নিয়ে কেন কারসাজি হলো, তা এক প্রশ্ন বটে। চামড়া ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট কি তবে সরকারের চেয়েও শক্তিশালী গোষ্ঠী? লবণ সংকটেরই বা যুক্তি কী? আমরা লক্ষ করে আসছি, কোনো একটি ক্ষেত্রে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার সুযোগ থাকলেই একশ্রেণির ব্যবসায়ী সেই সুযোগের ব্যবহার করতে দেরি করে না। কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের প্রধান উপকরণ লবণ, তাই লবণ সিন্ডিকেট সুযোগটি গ্রহণ করেছে। ব্যবসা ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কবে শেষ হবে, এ প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা নেই। তবে সরকার, বিশেষত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সদিচ্ছা পোষণ করলেই তা যে সম্ভব, এটা বোঝা কঠিন কিছু নয়।

কুরবানির চামড়া ন্যায্যমূল্যে বিক্রি না হলে অনেক পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রথমত, সাধারণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন; দ্বিতীয়ত, ক্ষতিগ্রস্ত হন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন তারা, যারা চামড়ার টাকার প্রকৃত হকদার। তারা হলেন দেশের গরিব-দুঃখী মানুষ। সর্বোপরি প্রকৃত মূল্য না পাওয়ার কারণে চামড়ার একটি বড় অংশ নষ্ট করে ফেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় সামগ্রিকভাবে চামড়া শিল্প তথা এই শিল্পের রপ্তানির খাত। আমরা মনে করি, চামড়া নিয়ে সংকট তৈরি হলে তা চামড়া শিল্পের বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই আগামীতে কুরবানির চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে চামড়া ক্রয়-বিক্রয়ের সার্বিক সুব্যবস্থাপনা। এ দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, দায়িত্ব রয়েছে ট্যানারির মালিক, আড়তদার ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদেরও।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

ডেঙ্গি প্রতিরোধে করণীয়
রিমান্ডের ব্যাপারে হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা মেনে চলতে হবে সংশ্লিষ্টদের
বাংলাদেশে হচ্ছে বিশ্বের দৃষ্টিনন্দন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
গ্রেনেড হামলার ১৭ বছর, রাজনীতি থেকে অপশক্তি দূর করতে হবে
গণটিকাদান কর্মসূচি বিশৃঙ্খলা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি
পাহাড়ে অবৈধ বসতি রিটগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া দরকার

আরও খবর


close