সোমবার, ২৬শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২৪.৯৩°সে
সর্বশেষ:
সুনামগঞ্জে তিন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত সিলেটে ভুয়া সাংবাদিকসহ গ্রেপ্তার ৭ করোনায় ক্রীড়াবিদ শাহ আবু জাকেরের মৃত্যু গণমানুষের শিল্পী চামড়ার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষিত দিল্লি-রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছে তৃণমূল সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের রেকর্ড গড়া জয় ‘কঠোরতম লকডাউনের’শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত কান্দাহার প্রদেশে তালেবানের হামলায় ঘরবাড়ি ছেড়েছে ২২ হাজার পরিবার প্রতি মাসে এক কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আথিয়াকে ফলো না করার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী: সালমান

দেশের হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ সংকট

দেশে চলছে করোনার উচ্চ সংক্রমণ। লাফিয়ে বাড়ছে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত। কোনো কিছুতেই এ মহামারির লাগাম টানা যাচ্ছে না। আগের রেকর্ড ভেঙে হচ্ছে নতুন রেকর্ড। ফলে দেশবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। দেশের হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ সংকট চলছে। চলছে অক্সিজেন সংকট। এর ফলে সার্বিক পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। সরকারি পরিসংখ্যান মতেই ৩৫ জেলায় আইসিইউ সুবিধা পাচ্ছেন না রোগীরা। সারাদেশের মোট আইসিইউ শয্যার ৭৬ শতাংশই ঢাকা বিভাগের হাসপাতালগুলোতে। এর মধ্যে রাজধানীতেই ৭৩ শতাংশ। করোনা সংক্রমণ শুরুর পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট চালুর নির্দেশনা দিয়েছিলেন। দুঃখ সে নির্দেশনা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের বিভাগীয় পর্যায়ে অথবা রাজধানীতে ছুটতে হচ্ছে চিকিৎসার জন্য। তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বহুজন পথেই মারা যাচ্ছেন। এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, দেশে করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ১০০টি হাসপাতালের মধ্যে ৫২টিতেই আইসিইউ সুবিধা নেই। এর মধ্যে ৩৫টি হাসপাতালই জেলা সদর হাসপাতাল। মোট আইসিইউর প্রায় ৭৫ শতাংশই ঢাকা বিভাগে, ২৫ শতাংশ বাকি সাত বিভাগে। জেলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা থাকলে মৃত্যু কমানো সম্ভব হতো বলে মনে করেন জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, আইসিইউ ব্যবস্থাপনার জন্য প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য জনবলের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ চাইলেও রাতারাতি জনবল তৈরি করা সম্ভব হবে না। দক্ষ জনবল ছাড়া শুধু আইসিইউ শয্যা স্থাপন করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জরুরি প্রয়োজনের সময় ডিগ্রিধারী বিশেষজ্ঞ দরকার নেই। সংক্ষিপ্ত সময়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনবল তৈরি করে কাজে লাগাতে হবে। এ ধরনের প্রশিক্ষণে এক মাসের বেশি প্রয়োজন হয় না। আমরাও তাই মনে করি। উলেস্নখ্য, সারাদেশে মোট আইসিইউ শয্যা এক হাজার ১৫৭টি। দুদিন আগেও ফাঁকা ছিল ৪৬৪টি। রাজধানীর ৮২১ শয্যার মধ্যে ফাঁকা ৩৪৫টি। রাজধানীর সরকারি ৩৮৪ শয্যার মধ্যে ফাঁকা ১১৭টি। করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগীদের মধ্যে যাদের তীব্র শ্বাসকষ্ট থাকে তাদের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পড়ে। এসব রোগীর চিকিৎসার জন্য আইসিইউ শয্যা, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা, অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর ও এইডিইউ শয্যার প্রয়োজন হয়। হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন থাকলে শ্বাসকষ্টের রোগীদের চিকিৎসা সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব হয়। সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনের মাধ্যমে মিনিটে একজন রোগী সাধারণ শয্যায় ভর্তি থেকে ১৫ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন সাপোর্ট পাবেন। তবে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য আইসিইউ প্রয়োজন। দেশে করোনার সংক্রমণ শুরুর আগে থেকে এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষে নিতে দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার আহ্বান জানিয়েছেন। তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে এখন সংকট তীব্র হচ্ছে। আমরা আশা করব, করোনা রোগীকে স্বাস্থ্যসুরক্ষা দিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

চামড়ার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষিত
ঈদে ঘরমুখো মানুষ: স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করুন
জেলা-উপজেলায় অক্সিজেন সংকট: সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি
লকডাউন মেনে চলা জরুরি
ফুটপাতের পাশে গাছ লাগান
পানি ও বিদু্তেৎর দাম বৃদ্ধি করা এটা গণবিরোধী সিদ্ধান্ত

আরও খবর


close