সোমবার, ২৬শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২৫.২৫°সে
সর্বশেষ:
সুনামগঞ্জে তিন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত সিলেটে ভুয়া সাংবাদিকসহ গ্রেপ্তার ৭ করোনায় ক্রীড়াবিদ শাহ আবু জাকেরের মৃত্যু গণমানুষের শিল্পী চামড়ার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষিত দিল্লি-রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছে তৃণমূল সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের রেকর্ড গড়া জয় ‘কঠোরতম লকডাউনের’শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত কান্দাহার প্রদেশে তালেবানের হামলায় ঘরবাড়ি ছেড়েছে ২২ হাজার পরিবার প্রতি মাসে এক কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আথিয়াকে ফলো না করার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী: সালমান

পানি ও বিদু্তেৎর দাম বৃদ্ধি করা এটা গণবিরোধী সিদ্ধান্ত

ভিওএনজে/সম্পাদকীয়:

বারবার পানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে জনস্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে। গত ১৩ বছরে ঢাকা ওয়াসার পানির দাম ১৪ বার বেড়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার কথা। দেশের সচেতন মানুষ মনে করেন, এটা গণবিরোধী সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে গত ১১ বছরে ১০ দফায় বিদ্যুতের পাইকারি দাম ১১৮ শতাংশ এবং খুচরা দাম ৮৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়াও প্রতি বছর বিদ্যুৎ খাতে সাত থেকে আট হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়- যা দামের সঙ্গে যুক্ত হলে বিদ্যুতের প্রকৃত মূল্য আরও বেশি হবে। পানির অপর নাম জীবন। এটা সবাই জানেন। কিন্তু পানির দাম বাড়িয়ে এখন মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তোলা হয়েছে। পানির দাম না বাড়িয়ে যদি দুর্নীতি কমানো যায়, তাতে অনেক টাকা সাশ্রয় হবে।

এটা সত্য, পিডিবি ভেঙে দুটি কোম্পানি হওয়ায় জনবল বাবদ ব্যয় বেড়েছে। বিগত বছরগুলোতে ভোক্তাসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দেখানো হয় যে, বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর প্রয়োজন নেই বরং তা কমানো যেতে পারে। অথচ বিদ্যুতের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। অনিয়ম-অসংগতিতে কোম্পানির বোর্ড সদস্যদের দায় থাকে না। লাভ-লোকসানের দায় তারা নেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যুৎ বা জ্বালানি সঠিক দাম ও মানে পাওয়া জনগণের অধিকার। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষার দিকটিও সংবিধান নিশ্চিত করেছে। দুর্নীতির জন্য প্রকৃত দামের চেয়ে দুই থেকে আড়াই গুণ দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। গত ১১ বছরে বিদ্যুতের যে পাইকারি দাম ১১৮ শতাংশ বেড়েছে। এই পাইকারি দাম বৃদ্ধির প্রভাব ফেলেছে ভোক্তাপর্যায়ে। নতুন সংযোগসহ বিদ্যুৎসংক্রান্ত সেবা পেতেও ভোক্তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে ক্যাবের মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আমাদের জ্বালানি খাতে সুশাসনের অভাব রয়েছে। যতক্ষণ না সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে ততক্ষণ আমাদের সোচ্চার থাকতে হবে।

এ ছাড়া ওয়াসার ময়লা পানি সরবরাহ এর অভিযোগ অত্যন্ত পুরনো। প্রতিদিন পানির জন্য হয়রানি হতে হয় অনেক মানুষকে। ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি আসার কারণ হিসেবে পানি সরবরাহ প্রযুক্তির দুর্বলতা ও অবৈধভাবে পানির সংযোগ নেয়ার প্রবণতাকে দায়ী করা হয়। কখনো বাড়ি-ঘরের সামনে অবৈধ পানির লাইন নিতে গিয়ে লাইন ফুটো করা হয়। সেই ফুটো দিয়ে লাইনে দুর্গন্ধযুক্ত পানি ঢুকে দূষিত করে। ওয়াসার পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ করা হচ্ছে। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, এসব দেখার দায়িত্ব কার? এ ছাড়াও গ্রীষ্মকালে অনেক এলাকায় পানি থাকে না। এসব সীমাবদ্ধতার মাঝেও বারবার পানির মূল্যবৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একইভাবে গ্রহণযোগ্য নয় ঘন ঘন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিও। আমরা মনে করি, পানি ও বিদ্যুতের ক্ষেত্রে সেবার মান বাড়াতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ। ভোক্তা স্বার্থ যাতে উপেক্ষিত না হয়, নজর দিতে হবে, সেদিকেও।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

চামড়ার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষিত
ঈদে ঘরমুখো মানুষ: স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করুন
দেশের হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ সংকট
জেলা-উপজেলায় অক্সিজেন সংকট: সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি
লকডাউন মেনে চলা জরুরি
ফুটপাতের পাশে গাছ লাগান

আরও খবর


close