মঙ্গলবার, ২৮শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ২১.৩৯°সে
সর্বশেষ:
ভোটের আগে ৫ ওসিকে প্রত্যাহারের নির্দেশনা ইসির পাকিস্তানে তিন অভিযানে ৭ সেনা, ২৩ সন্ত্রাসী নিহত রেমালের আঘাতে উপকূলে ১০ জনের প্রাণহানি, ৩৫ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ঘূর্ণিঝড় রেমালের ‘তাণ্ডবে’ বিদ্যুৎহীন ২ কোটি ৩৫ লাখ গ্রাহক ১২০ কিমি বেগে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় রিমাল ঘূর্ণিঝড় রিমালে ‘ভয়ংকর’ জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক তাণ্ডব চালাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল চ্যাম্পিয়ন হয়ে কত টাকা পেল কলকাতা, টুর্নামেন্টের সম্পূর্ণ পুরস্কার তালিকা ১০ বছর পর আইপিএল জিতল কলকাতা ইউক্রেনে সেনা পাঠাবেন না বাইডেন কুমিল্লায় কবি নজরুলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ১ হাজার শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত কন্ঠে ” কারার ঐ লৌহ কপাট” পরিবেশন জানা গেল বাংলাদেশে কুরবানি ঈদের সম্ভাব্য তারিখ

যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ শতাংশ প্রবাসী ঈদের ৩ দিন পর পান ‘কোরবানির মাংস’

অনলাইন ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রে ৩৬ হাজারেরও বেশি প্রাণিসম্পদ খামারে কসাই সংকট দেখা দেওয়ার ফলে ৩০ শতাংশ প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভাগ্যে ঈদের দিনে জোটে না ‘কোরবানির মাংস’। প্রায় প্রতিবছরই ঘটে এমন ঘটনা। কোরবানিতে অংশ নেওয়া প্রবাসীরা প্রাথমিকভাবে কেনা মাংস দিয়েই ঈদ উদযাপন করলেও ২/৩ দিন পর হাতে পান কোরবানির মাংস।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩৭ হাজার গরু ও ছাগল বা প্রাণিসম্পদ খামার রয়েছে। এসব খামারে দেওয়া কোরবানির অর্ডারের মাংস ঈদের ২/৩ দিন পর হাতে পান প্রবাসীরা। যুগ যুগ ধরে এ অবস্থা চলে আসছে কিন্ত তবুও নিরুপায় হয়েই প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের খামারে খামারে গিয়ে এ যৌথভাবে গরু এবং এককভাবে ছাগল কোরবানির অর্ডার দিচ্ছেন।

প্রায় প্রতিটি খামারেই ঈদের দিন থেকে হাজার হাজার গরু-ছাগল জবাই করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ক্রমিক নম্বর অনুসারে কারও ভাগ্যে ঈদের দিন, আবার কারও ভাগ্যে ঈদের ২/৩ দিন পর জোটে কোরবানির মাংস। ঈদের দিনে কোরবানির মাংস হাতে পাওয়া প্রবাসীর সংখ্যা খুবই কম।

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ শতাংশ প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখানে যৌথভাবে গরু ও একক ভাবে ছাগল কুরবানিতে অংশ নেন। শুধু বাংলাদেশিরাই নয় যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমান ধর্মাবলম্বী সকল দেশীয় মানুষরাও পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে প্রায় এক মাস আগে থেকেই বিভিন্ন খামারে গিয়ে গরু-ছাগল ওজন দিয়ে কোরবানির জন্য অর্ডার দিয়ে আসেন। ঈদের দিনে নামাজ শেষেই বেশিরভাগ প্রবাসীরাই ছুটে যান খামারের উদ্দেশ্যে। সেখানে গিয়ে অপেক্ষার পর অপেক্ষা। সারাদিন অপেক্ষার পর কোরবানির গরু-ছাগল জবাইয়ের ক্রমিক নম্বর না মেলায় দিনান্তে ঘরে ফিরে আসেন। পরদিন আবার ছুটে যান একই খামারে। এভাবেই কোরবানির মাংসের জন্য চলে দৌঁড়ঝাপ।

জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক, ম্যাসাচুসেটস, নিউ জার্সি, ওয়াশিংটন ডিসি, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, কানেকটিকাট, নর্থ ক্যারোলিনা, ওহাইও, মিনেসোটা, টেনেসি, নিউ হ্যাম্পশয়ার, মেইন, রোড আইল্যান্ড, ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশিরা ঈদুল আজহার একমাস আগে থেকেই ছুটে যান বিভিন্ন গরুর খামারে। সেখানে জীবন্ত গরু যৌথভাবে এবং ছাগল এককভাবে ওজন দিয়ে কোরবানির অর্ডার বুকিং দিয়ে আসেন।

এদিকে, বিভিন্ন খামারে ছেদক ও কসাইয়ের হাতে বর্জ্যের নামে শত শত মণ কোরবানির মাংস চুরির ঘটনাও ঘটেছে অহরহ।

ঈদের দিন এসব খামারে এক তৃতীয়াংশের বদলে দেড় বা দুই তৃতীয়াংশ গরুর বর্জ্য ফেলে দেয়ার ঘটনায় অবাক হয়েছেন প্রবাসী মুসলমানরা। এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়, প্রতিবছরই ঘটে এমন ঘটনা। তবে এ ঘটনাকে সুকৌশলে কোরবানির মাংস চুরি বলে উল্লেখ করেছেন অনেকেই।

প্রকৃতপক্ষে বর্জ্যমুক্ত দুই তৃতীয়াংশ মাংস ঘরে আনার কথা। একটি গরুতে এত বর্জ্য ফেলতে হয় না বলে জানিয়েছেন অভিজ্ঞ গ্রোসারি ব্যবসায়ীরা। নিউ ইয়র্কের একটি গ্রোসারিতে কর্মরত অভিজ্ঞ গরু ছেদক জানান, একটি গরু জবাইয়ের পর চামড়া, ভুঁড়ি ও পাসহ আনুষঙ্গিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বাদ দিলেও প্রকৃত ওজনের এক তৃতীয়াংশ বর্জ্য ফেলে দিতে হয়।

কিন্ত অধিকাংশ খামারে এক তৃতীয়াংশ বর্জ্যের বদলে দেড় বা দুই তৃতীয়াংশ বর্জ্য ফেলে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। যা দেখে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা হতাশ হয়েছেন। এসব বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তার গরু দেরিতে বা না কাটার হুমকি দেন খামারিরা। এ কারণে কেউ জোর প্রতিবাদ করেন না।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় খামারে ১৫ হাজার, মাঝারি ও ছোট মাঝারি খামারে ১ হাজার থেকে ৫ হাজার গরু পালন করা হয়। এসব খামার থেকে প্রতি বছর ৩৯ মিলিয়ন গরু জবাই করা হয়।যুক্তরাষ্ট্রে কোরবানির গরুতে একটি ভাগের মূল্য পড়ে প্রায় ২৫০ ডলার।

নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশি আব্দুল গফুর জানান, তিনি পাঁচ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত কোরবানি দিতেন। মাঝে কিছুদিন আর দেননি। গত বছর আবার তার বন্ধুদের সঙ্গে কোরবানির গরুতে একটি ভাগ দিয়েছিলেন। ১৫ দিন আগে একটি খামারে গিয়ে গরু ওজন দিয়েছিলেন ১৫শ ৬০ পাউন্ড। ঈদের দিনে বর্জ্য বাদ দিয়ে প্রকৃত মাংস পেয়েছেন মাত্র ৫শ ৬০ পাউন্ড। একটি গরুতে ১ হাজার পাউন্ড বর্জ্য ফেলে দিতে হয় এটা অবিশ্বাস্য যা তিনি কখনই দেখেননি বা শোনেননি।

শুধু তাই নয় মাংস কাটার জন্য বিভিন্ন গ্রোসারিতেও চর্বি ফেলে দেয়ার নামেও নিয়মিত চুরি হয়ে যায় মাংস। কানেকটিকাটের একজন প্রবাসী বাংলাদেশি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তিনি নিউইয়র্ক থেকে নিয়মিত গ্রোসারি কিনে আনেন। তিনি অনেক সময় মাছ-মাংস কাটার অর্ডার দিয়ে অন্য বাজার করতে যান। কিন্তু মাছ-মাংস বাড়িতে আনার পর তার সন্দেহ হলে নিজের ঘরেই ওজন দিয়ে তা কম দেখতে পান। সেই থেকে আর ওই দোকানে আর বাজার করেন না। পরে আরেকটি গ্রোসারি দোকানে নিয়মিত বাজার শুরু করেন। কিন্তু সেখানেও একই অবস্থা দেখতে পান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

ইউক্রেনে সেনা পাঠাবেন না বাইডেন
ইউক্রেনকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কীভাবে তারা যুদ্ধ চালাবে: যুক্তরাষ্ট্র
অবশেষে ট্রাম্পকেই সমর্থন দিলেন নিকি হ্যালি
মোবাইল কেড়ে নেওয়ায় বাবা মা ও বোনকে হত্যা করল কিশোর
নিউইয়র্কে কাল থেকে বইমেলা শুরু
সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

আরও খবর