শুক্রবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২১.৬১°সে
সর্বশেষ:
করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে নাকাল যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুকের মাধ্যমে ১৪ বছর পর মিলল মা-মেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানদের ইউএনওর মতো নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ:হাইকোর্ট সিলেটে-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিবের জাতীয় সংসদে প্রথম ভাষণ নীতিমালা চূড়ান্ত হলেই বাংলাদেশে আসছে বিদ্যুৎচালিত গাড়ি ভারত বাংলা‌দে‌শের ম‌ধ্যে অসাধারণ বন্ধু‌ত্বের সম্পর্ক মৃত্যুর ৫ বছর ‘ছাড়পত্র’ পেল দিতির সিনেমা চলমান করোনা মহামারিতে বিশ্বে এক দিনে মৃত্যু ১০ হাজার, শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ১নং ওয়ার্ড রোটা: আবুল হোসেন ছোটনের উদ্যোগে ভ্যাকসিন সনদ বিতরণ বাংলাদেশ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ সংস্থা নিউজার্সির নতুন কমিটি গঠন গণমাধ্যমে শৃঙ্খলা আনার দাবি সাংবাদিকদেরই -ডিইউজে’র বার্ষিক সভায় তথ্যমন্ত্রী ইভ্যালির সিইও রাসেল, চেয়ারম্যান শামীমা গ্রেপ্তার

মার্চ থেকে চলছে মুক্তিযুদ্ধ

প্রিয় সুনামগঞ্জ শহরের গর্বের ধন ‘সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার’। বিভিন্ন মাধ্যমের তথ্যের উপর ভিত্তি করে চলুন দেখে আসি এর জন্ম কথা-
মার্চ থেকে চলছে মুক্তিযুদ্ধ। ডিসেম্বর মাসের শুরুতে এসে পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে যায় ভারত।
এরপরই মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনী সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে সম্মুখ সমরে।
মুক্তিবাহিনীর অগ্রযাত্রার খবর পেয়ে পাকিস্তানি মিলিটারি পাঁচ ডিসেম্বর মধ্য রাতে সুনামগঞ্জ শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়।
ছয় ডিসেম্বর ভোরে মুক্তিবাহিনী শহরে প্রবেশ করে। শক্রমুক্ত হয় সুনামগঞ্জ শহর।
বিজয়ের আনন্দে অবরুদ্ধ মানুষ বাংলাদেশের পতাকা হাতে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। উল্লাসে চারদিক প্রকম্পিত করে তুলে জয় বাংলা ধ্বনিতে।
মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনী একের পর এক শহর মুক্ত করে দুর্বার গতিতে ঢাকার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
বেতার তরঙ্গে ভেসে আসছে- ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশের পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে আত্মসমর্পনের আহ্বান-
‘চারি তরফছে ঘিরে হুয়ে হায়, হাতিয়ার ডাল দো’
শক্রমুক্ত সুনামগঞ্জের মুক্তিবাহিনীর প্রধান শিবির স্থাপিত হয়েছে সুরমা নদীর উত্তরপাড়ে, যোগীগাঁওয়ের খাদ্য গুদামে।
মেজর মোত্তালিব বুঝতে পারছেন কিছুদিনের মধ্যেই দেশ স্বাধীন হয়ে যাবে।
মুক্তিযুদ্ধে গভীর আত্মত্যাগ অবিশ্বাস্য বীরত্বের এই বিশাল অর্জন। শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে নির্মাণ করতে হবে শহীদ মিনার। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিলেন স্মৃতিসৌধের কাজ শুরু করার।
মেজর মোত্তালিবকে জানানো হলো স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করতে রড ছাড়া অন্যান্য উপকরণ মজুদ আছে। তিনি বললেন রড ছাড়াই নকশা করুন।
সন্ধ্যার পর ওখানে গেলেন সালেহ চৌধুরী। দেখলেন মেজর সাহেব উত্তেজিত।
কারণ, উনি চান শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজটি তাড়াতাড়ি শেষ করতে কিন্তু প্রকৌশলীরা যে নকশা এনেছেন তার একটাও পছন্দ হয়নি।
সালেহ চৌধুরী মেজর মোত্তালিবের ছুড়ে ফেলা নকশার একটা উঠিয়ে নিয়ে তার অপর পৃষ্ঠায় দ্রুত একটা নকশা এঁকে একজন প্রকৌশলীর হাতে দিয়ে বললেন- এটা দেখান তো, চলবে কি-না। রড ছাড়াই বানানো যেতে পারে।
মেজর মোত্তালিব নকশাটা হাতে নিয়ে খুশি হয়ে উঠলেন,’বেশ তো, এটা চলতে পারে।’
স্থান নির্বাচন হলো শহরের কেন্দ্রস্থলে। গণপূর্ত বিভাগের সরকারি ভূমিতে। মুক্তিযোদ্ধারা পরম মমতায় স্বেচ্ছাশ্রমে নিজেদের হাতে স্মৃতির মিনারটি নির্মাণের কাজ শুরু করে, তিন চার দিনের কঠোর পরিশ্রমে কাজ সমাপ্ত করলেন।
উনিশশত একাত্তর সালের ষোল ডিসেম্বর। ঢাকায় রেসকোর্স ময়দানে জেনারেল নিয়াজি আত্মসমর্পন দলিলে সই করছেন অন্যদিকে মফস্বল শহর সুনামগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাগন স্বহস্তে নির্মিত শহীদ মিনারে জনসাধারণকে সাথে নিয়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
সুনামগঞ্জের শহীদ মিনারটি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম স্মৃতিসৌধ।
“যারা স্বর্গগত তারা এখনো জানে, স্বর্গের চেয়ে প্রিয় জন্মভূমি।
এসো স্বদেশ ব্রতের মহা দীক্ষা লভি
সেই মৃত্যুঞ্জয়ীদের চরণ চুমি।”

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

ভোক্তার আচরণ ও পণ্যমূল্য
বাংলাদেশে ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে
পরিবেশ রক্ষায় জৈবপ্রযুক্তির প্রসার জরুরি
টিকা না নেওয়া কি শাস্তিযোগ্য অপরাধ?
স্বাধীনতার নেপথ্য কারিগর
টিকা নিয়ে কিছু প্রশ্ন

আরও খবর


close