শুক্রবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২১.৬৪°সে
সর্বশেষ:
করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে নাকাল যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুকের মাধ্যমে ১৪ বছর পর মিলল মা-মেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানদের ইউএনওর মতো নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ:হাইকোর্ট সিলেটে-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিবের জাতীয় সংসদে প্রথম ভাষণ নীতিমালা চূড়ান্ত হলেই বাংলাদেশে আসছে বিদ্যুৎচালিত গাড়ি ভারত বাংলা‌দে‌শের ম‌ধ্যে অসাধারণ বন্ধু‌ত্বের সম্পর্ক মৃত্যুর ৫ বছর ‘ছাড়পত্র’ পেল দিতির সিনেমা চলমান করোনা মহামারিতে বিশ্বে এক দিনে মৃত্যু ১০ হাজার, শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ১নং ওয়ার্ড রোটা: আবুল হোসেন ছোটনের উদ্যোগে ভ্যাকসিন সনদ বিতরণ বাংলাদেশ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ সংস্থা নিউজার্সির নতুন কমিটি গঠন গণমাধ্যমে শৃঙ্খলা আনার দাবি সাংবাদিকদেরই -ডিইউজে’র বার্ষিক সভায় তথ্যমন্ত্রী ইভ্যালির সিইও রাসেল, চেয়ারম্যান শামীমা গ্রেপ্তার

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে

ড. মো. মাহমুদুল হাছান :
টেকনোলজি ও ইন্টারনেটের প্রতি আসক্তিই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে ডিজিটাল আসক্তি নামে পরিচিত। ডিজিটাল আসক্তির তিনটি ধরন রয়েছে- ফোন, ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া।সব বয়সের মানুষের মধ্যে এ আসক্তি দেখা দিলেও শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে তা বেশি। ডিজিটাল আসক্তি যেন এখন ডিজিটাল আগ্রাসনের নাম, যাকে রুখতে না পারলে আমাদের আগামী প্রজš§ আলোর দিশা হারিয়ে ফেলবে।

অন্যান্য উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশেও ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯ কোটি ৩৭ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার ৬২ শতাংশ। করোনাকালে এ সংখ্যা আরও বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের মতে, চার থেকে ১৭ বছর বয়সি অন্তত ৬০ লাখ শিশু-কিশোর বর্তমানে ‘এডিএইচডি’তে (অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার) আক্রান্ত। মাত্রাতিরিক্ত ইন্টারনেট ও মোবাইলের প্রতি আসক্তি এডিএইচডি নামক মানসিক রোগের সৃষ্টি করে। এ ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তি নির্দিষ্ট কোনো কাজে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারে না।

গত দুই দশকে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে এবং মোবাইল ডিভাইসে অতিরিক্ত আসক্তিকেই এর মূল কারণ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। শিশুদের কল্পনা ও চিন্তাশক্তিও কমে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বের অন্যতম বড় ব্যবসায়িক ইন্ডাস্ট্রি হলো পর্নো ইন্ডাস্ট্রি। ইন্টারনেটে ইনডেক্স করা প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন পর্নোগ্রাফিক সাইট আছে, যেখানে সহজেই যে কেউ যখন-তখন প্রবেশ করতে পারে। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কারণে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে ৫-৭ বছরের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশুর ১২ শতাংশ এবং ৮-১৭ বছরের ১৬ শতাংশ শিশুর সামনে ইনডেক্স করা এ ৪৫০ মিলিয়ন পেজের সাজেশন্স চলে আসে; শিশুমন পরিচিত হয় পর্নোগ্রাফি নামক এক কুরুচিপূর্ণ সংস্কৃতির সঙ্গে।

সম্প্রতি আমেরিকার এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, কিশোরীদের ৯০ শতাংশেরও বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে এবং ভিডিও গেম খেলে।

৫০ শতাংশ কিশোর স্বীকার করেছে, তারা তাদের স্মার্টফোনে আসক্তি বোধ করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখে যাচ্ছে, অল্পবয়সি ছেলেমেয়েরা দিনে পাঁচ থেকে আট ঘণ্টা ডিজিটাল যন্ত্র নিয়ে মেতে থাকছে। বাইরে বেড়াতে যাওয়া, খেলাধুলা করা, মুখোমুখি বসে আড্ডা দেওয়া ইত্যাদি সব ধরনের ফেস-টু-ফেস ইন্টার-অ্যাকশনে আগ্রহ কমে যাচ্ছে।

বিশ্বখ্যাত ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত স্টিভ জবস তার সন্তানদের নিজের প্রতিষ্ঠানের তৈরি আইপ্যাড ব্যবহার করতে দেননি। তিনি একবার নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার কাছে মন্তব্য করেছিলেন, ‘ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার আক্ষরিক অর্থেই সমাজের সঙ্গে ব্যক্তির, ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির সম্পর্ক বদলে দিচ্ছে। আর আমাদের ছেলেমেয়েদের মস্তিষ্কের যে কী ক্ষতি হচ্ছে, তা শুধু ঈশ্বরই জানেন।’

ডিজিটাল আসক্তিতে শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীরা মানসিক ও শারীরিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানসিক স্বাস্থ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তাদের মধ্যে বিষণ্নতা, খিটখিটে স্বভাব, উগ্রতা, হঠাৎ রেগে যাওয়া, অপরাধপ্রবণতা, উদ্বেগ, একাকী থাকতে ইচ্ছা করা, বুদ্ধির বন্ধত্ব, নিয়মিত স্কুলে যেতে ইচ্ছা না করা, ভালো কথার নেগেটিভ রিঅ্যাক্ট করা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, মানসিক উন্মাদনা ইত্যাদি নানাবিধ জটিলতা দেখা দেয়, এমনকি এক পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে না পেরে আত্মহত্যার মতো ঝুঁকিও নিয়ে থাকে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে এমন অনেক দুর্ঘটনাও ঘটেছে। অনুরূপভাবে শারীরিক স্বাস্থ্য পর্যালোচনায়ও দেখা গেছে, তাদের মধ্যে নানা সমস্যা দেখা দেয়। যেমন, পিঠে ব্যথা, ঘাড় ব্যথা, দুর্বলতা, কার্পাল টানেল সিনড্রোম, মাথাব্যথা, অনিদ্রা, চোখের শুষ্কতা, অন্যান্য দৃষ্টি সমস্যা, অতিরিক্ত ওজন হ্রাস বা স্থূলত্বসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ শরীরে দানা বাঁধতে থাকে।

এ মানসিক ও শারীরিক প্রভাবগুলোর পাশাপাশি ইন্টারনেট আসক্তিতে শিক্ষার্থীদের সামাজিক ক্ষতিও হয়ে থাকে। ছেলেমেয়েরা অসামাজিক হয়ে ওঠে, কারও সঙ্গে মিশতে চায় না, যোগাযোগ রাখতে চায় না, আত্মীয় বা বন্ধুদের সঙ্গেও ঠিকমতো কথা বলতে চায় না ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। মোটকথা, ডিজিটাল আসক্তি শিক্ষার্থীদের জীবনে মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে থাকে। লেখাপড়া ঠিকমতো না করে অনেক ক্ষেত্রে বখাটে জীবনযাপন করে এবং পরিণত হয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যে। তখন সমাজে অনাচার, অত্যাচার, নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি। ফলে পিতা-মাতার কাছে আদরের সন্তানেরা তখন বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

ইন্টারনেটের আসক্তি থেকে কীভাবে দূরে থাকা যায়, সে সম্পর্কে কিছু কার্যকর টিপস/পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে-

১. মোবাইল বা কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় পর্যাপ্ত অপ্রাসঙ্গিক নোটিফিকেশন বা বিজ্ঞাপন ভেসে ওঠে, যা শিশু-কিশোরদের অনলাইনে যাওয়ার ইচ্ছা বাড়িয়ে দেয়। এ বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে পারলে তা শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল আসক্তি দূর করতে সাহায্য করবে। ২. অভিভাবক বা শিক্ষকদের মোবাইল ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ছেলেমেয়েরা তাদের বাবা-মা বা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যা করতে দেখে তাই অনুকরণ করে থাকে। তাই অভিভাবকদের অনলাইন ব্যবহারের অভ্যাস পর্যালোচনা করে নেতিবাচক আচরণ বর্জন করতে হবে। তাহলে সন্তানদের ইন্টারনেটের আসক্তি থেকে মুক্ত রাখা সহজ হবে। ৩. অন্যের সঙ্গে তথা আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে সন্তানদের সম্পর্ক দৃঢ় রাখতে হবে এবং তাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সময় ব্যয় করতে হবে। ইন্টারনেটে বেশি সময় ও শক্তি ব্যয় করলে অন্যের সঙ্গে সুসম্পর্ক নষ্ট হয় এবং ডিজিটাল আসক্তি বৃদ্ধি পায়। সুতরাং কাছের মানুষদের সঙ্গে উপযুক্ত সম্পর্ক স্থাপন করতে পারলে সন্তানদের এ জাতীয় আসক্তি থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে।

৪. সংযত জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে হবে। ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি উভয়ই ছেলেমেয়েদের কম্পিউটারে শপিং করা, গেম খেলা বা লগইন করার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে, যা ডিজিটাল আসক্তি তৈরির অন্যতম কারণ। সুতরাং ডিভাইস ব্যবহারে নিজেদের যেমন সংযত থাকতে হবে, তেমনি সন্তানদেরও সময় নির্ধারণ করে মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

৫. বাসাবাড়িতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত ডিভাইস ও মোবাইল থাকা এবং সেগুলো যত্রতত্র রাখা ঠিক নয়। কারণ ঘুরতে ফিরতে ছেলেমেয়েরা তা স্পর্শ করতে আগ্রহী হয় এবং ধীরে ধীরে আসক্ত হয়ে পড়ে। সুতরাং বাসাতে ডিভাইসগুলোর জন্য নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ রাখা উচিত এবং সেগুলোকে অন্য জায়গায় ব্যবহার করতে নিষেধ করতে হবে। শয়নকক্ষ, স্টাডি রুম এবং ডাইনিং অঞ্চলগুলো অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে। ৬. অভিভাবকদের ব্যবহার্য ডিভাইসের স্ক্রিনের সময়টি ট্র্যাক করা ডিজিটাল আসক্তি রোধের অন্যতম কার্যকর উপায়। এমন কিছু অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে যা সময় ট্র্যাক করতে এবং প্রযুক্তির আসক্তি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সহায়তা করে। এ ছাড়া প্যারেন্টিং অ্যাপস রয়েছে যা ছেলেমেয়েদের ডিভাইসে সময় ট্রাকিং সেট করতে এবং আসক্তি রোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৭. ডিজিটাল ডিটক্স ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি মাঝে মাঝে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সবচেয়ে ভালো উপায়। ডিজিটাল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখলে শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল আসক্তি থেকে রক্ষা পেতে পারে। ৮. মোবাইলের স্ক্রিনের ডিজাইন বারবার পরিবর্তন করা উচিত নয়। স্ক্রিনের বর্ণিল নানা ধরনের ডিজাইন ছেলেমেয়েদের মোবাইলের প্রতি বেশি আসক্ত করে তোলে। সুতরাং মোবাইল স্ক্রিন সেটিংসের ক্ষেত্রে সর্বদা স্বাভাবিক ডিসপ্লে ব্যবহার করা আবশ্যক।

৯. ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখা আবশ্যক। যখন তখন অভিভাবক বা শিক্ষকদের খেয়াল খুশিমতো ইন্টারনেট ব্যবহার করা ঠিক নয়। সময়ে অসময়ে অভিভাবকদের ইন্টারনেটে ব্যবহার করতে দেখলে, ছেলেমেয়েরাও আস্তে আস্তে ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশনের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। কথোপকথনের সময় বা রেস্টরুমে যাওয়ার সময় কিংবা খাওয়ার সময় কোনোভাবেই মোবাইল ব্যবহার করা উচিত নয়। আমেরিকান পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন ও আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন সে দেশের অভিভাবকদের পরামর্শ দিচ্ছে, ছেলেমেয়েদের ‘স্ক্রিন টাইম লিমিট’ বেঁধে দিতে হবে। ১০. কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ইন্টারনেট আসক্তির অন্যতম প্রধান কারণ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফরম। এটিকে পজিটিভলি ব্যবহার করতে পারলে ডিজিটাল আসক্তি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীরা অনলাইন কার্যক্রমের ফাঁকে বিভিন্ন অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়ে যায়।

এ জন্য ‘মেন্টাল আপে’র মতো উপকারী ও শিক্ষামূলক অ্যাপ্লিকেশনগুলো ডাউনলোড করে রাখা উচিত, যা ছেলেমেয়েদের শুধু বিনোদনই দেয় না, বরং মানসিক দক্ষতা এবং অন্যান্য দক্ষতাও উন্নত করে। ১১. ছেলেমেয়েদের পর্যাপ্ত বই পড়ার প্রতি উৎসাহিত করতে হবে। বই পড়লে মনের বিকাশ লাভ হয়, বুদ্ধি বাড়ে, জ্ঞানের গভীরতা তৈরি হয় এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে। ফলে, ডিজিটাল আসক্তি থেকে শিক্ষার্থীরা দূরে থাকতে পারে।

১২. একটি সুস্থ শরীর মানে একটি সুস্থ মন। শারীরিক অনুশীলন ছেলেমেয়েদের একঘেয়েমি থেকে মুক্তি দেয় এবং মনোজাগতিক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এজন্য তাদের আউটডোর অ্যাক্টিভিটিতে শরীরচর্চার প্রতি উৎসাহিত করতে হবে এবং উš§ুক্ত মাঠে তাদের নিয়মিত যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এটি শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেটের আসক্তি রোধে সহায়তা করবে।

ডিজিটাল প্রযুক্তিবিদ, কম্পিউটার প্রোগ্রামার ও উদ্যোক্তাদের একটা বড় অংশ নিজেদের তৈরি করা ডিজিটাল যন্ত্র ও অ্যাপ থেকে সন্তানদের দূরে রাখার চেষ্টা করছেন। আমেরিকার ‘সিলিকন ভ্যালি’র প্রযুক্তিবিদদের মধ্যে এ রকম একটা সাধারণ ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে, শিশু-কিশোরদের শেখার বা জ্ঞান অর্জনের হাতিয়ার হিসাবে ডিজিটাল যন্ত্রের ভূমিকার চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে এসব যন্ত্রের প্রতি তাদের আসক্তির ঝুঁকি। সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তিবিদদের ৯০০’র বেশি পরিবার ছেলেমেয়েদের ডিজিটাল আসক্তি কমানোর সংগ্রামে নেমেছে। শিশুদের সব ধরনের ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এমন পরিবারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এ পরিবারগুলোকে বলা হচ্ছে ‘নো টেক হোমস’।

তাই আসুন, আমরা যেভাবে মাদকাসক্তিকে সামাজিকভাবে বর্জন করে ‘মাদককে না বলো’ স্লোগান আবিষ্কার করেছি, ঠিক সেভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় রেখে আমাদের ছেলেমেয়েদের ‘ডিজিটাল প্রযুক্তি, দূর হোক আসক্তি’ এ স্লোগানে উদ্বুদ্ধ করি এবং ডিজিটাল আসক্তিমুক্ত আদর্শ সমাজ গঠনে ব্রতী হই। আমি বিশ্বাস করি, ওপরে বর্ণিত টিপস/পদক্ষেপগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে আমাদের শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল আসক্তিমুক্ত করে বাংলাদেশে একটি উন্নত জাতি গঠন করা সহজ হবে।

ড. মো. মাহমুদুল হাছান : প্রিন্সিপাল, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ঢাকা

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

ভোক্তার আচরণ ও পণ্যমূল্য
পরিবেশ রক্ষায় জৈবপ্রযুক্তির প্রসার জরুরি
টিকা না নেওয়া কি শাস্তিযোগ্য অপরাধ?
স্বাধীনতার নেপথ্য কারিগর
টিকা নিয়ে কিছু প্রশ্ন
শিক্ষাঙ্গনে নৈতিকতা ও শিক্ষার মানে অধঃপতন কেন

আরও খবর


close