সোমবার, ২৪শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ০.৪১°সে
সর্বশেষ:
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাড়ল পাউরুটির দাম ক্যামেরুনের রাজধানী ইয়াউন্ডের নাইটক্লাবে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১৬ ৯০ বছরের বৃদ্ধা সাংবাদিক দেলোয়ার হাসানের মা আমরণ অনশনে শাবির আন্দোলনে একাত্মতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নার্গেস মোহাম্মদীকে৭০ বেত্রাঘাতের নির্দেশ বরিশালে জেলা দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে তোলপাড় কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য নিবন্ধন জরুরি: সংসদে শিক্ষামন্ত্রী যমুনা টিভির সাংবাদিকের উপর হামলা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার চকরিয়ায় সালিসে অংশ নিতে এসে খুন করোনার কারণে বিয়েও বাতিল করলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইসি গঠন আইন বিল সংসদে উত্থাপন পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

স্বাধীনতার নেপথ্য কারিগর

ভিওএনজে ডেস্ক/যুগান্তর/বাংলাদেশ:
ড. এম এ মাননান
আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় তিনি আকাশচুম্বী কিছু ছিলেন না। আলমারির তাকে সাজানো অনেক অনেক সনদ ছিল না তার। প্রচুর অর্থ-বৈভবের মালিকও ছিলেন না। তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো পার্থিব সম্পদ তেমন কিছুই ছিল না। অহংকার করার মতো কিছু কি ছিল? ছিল বিশাল অহংকার করার মতো একটা কিছু। থাকলেও অহংকার তাকে পথচ্যুত করতে পারেনি। বরং অহংকারকে পদদলিত করে একজন মহীয়সী নারী, একজন গর্বিত জীবনসঙ্গিনী, একজন সংগ্রামী গৃহকর্ত্রী আর একজন মমতাময়ী মা হিসাবে জগৎ-সংসারে নিজকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে নিজে গরীয়ান হয়েছেন আর বাঙালি জাতির জন্য দৃষ্টান্ত হিসাবে রেখে গেছেন নিজের স্বার্থকে পরার্থে বিলিয়ে দেওয়া সার্থক স্ত্রীর প্রতিচ্ছবি। তার অহংকার ছিল একটাই, যা কখনো প্রকাশ করেননি। আর তা ছিল হিমালয়ের মতো উঁচু শির অকুতোভয় সংগ্রামী, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালি জাতীয়বাদের স্রষ্টা, স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ নিরহংকার মানুষটিই বাংলার মানুষের কাছ থেকে পেয়েছেন বঙ্গমাতা উপাধি; বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা।

বঙ্গবন্ধুকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে তার জীবন। বঙ্গবন্ধু যেমন দুরাচার শাসকগোষ্ঠীকে তোয়াক্কা করে চলেননি, তেমনি এ বিশাল হৃদয়ের মানুষটির সহধর্মিণী হয়েও এ গরীয়সী নারী সাংসারিক বিপর্যয়কে দুপায়ে ঠেলে অসীম সাহসে এগিয়েছেন সারাটা জীবন। সংসার রক্ষা করেছেন, পাঁচটি সন্তানকে মানুষ করেছেন। স্বামীর দীর্ঘ কারাগার জীবন তাকে হতাশ করতে পারেনি, হতোদ্যম হননি তিনি কখনো। দৃপ্ত পায়ে বিচরণ করেছেন জীবনের মরু প্রান্তরে। আত্মীয়-স্বজনের অসহযোগিতা, বারবার বাসা বদল, শাসকদের হুমকি-ধমকি- কোনো কিছুই তার শানিত পায়ে শৃঙ্খল পরাতে পারেনি। বাল্যবিয়ে হওয়ার কারণে আবাল্য তিনি সংসার বাঁচানোর সংগ্রামে লিপ্ত থেকে দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে একজন অবলা নারীও কোনো কথা না বলেই অনেক কথা বলতে পারেন, দৃশ্যমান হোক বা না-হোক, অনেক কাজ করতে পারেন। তাই তো তিনি একজন সংগ্রামী স্ত্রী আর ক্লান্তিহীন পথচলা মায়ের প্রতিচ্ছবি।

স্বাধীনতা-পূর্বকালে পুরো জীবনটাই ছিল যন্ত্রণার সুনামি। এরই মধ্যে জীবন কাটিয়েছেন, কিন্তু কখনো মুখ ফিরিয়ে নেননি বাস্তবতা থেকে। নিরন্তর প্রেরণা জুগিয়েছেন স্বামীকে, যিনি জীবনের অর্ধেকের বেশি সময় কাটিয়েছেন জেলে, থেকেছেন শাসকগোষ্ঠীর রোষানলে। জ্বলেছেন ধূপের মতো; কিন্তু বুঝতে দেনননি কাউকে। ছায়ার মতো লেগে থেকে সহযোগিতা করেছেন স্বামীকে- যিনি সংগ্রামে, প্রতিবাদে, আন্দোলনে থাকতেন ঘর-সংসারের বাইরে, রাজপথে, গ্রামগঞ্জের মানুষের পাশে, শহরের অলিতেগলিতে, জনগণকে সংগঠিত করার কাজে। মোমের মতো পুড়তে পুড়তে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন; জাতির নিয়ন্তা হয়েছেন; বঙ্গবন্ধুকে বুক পেতে আগলে রেখেছেন; সারা দেশে সংগ্রামের ঝড় তুলতে সাহায্য করেছেন; বাধার পরিবর্তে কয়েক কদম এগিয়ে গিয়ে সহযোগিতা করেছেন, অনুপ্রাণিত করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে কখনো হতোদ্যম হতে দেননি; কারাগারে দেখা করে তথ্য আদান-প্রদান করেছেন, নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাদের সেতুবন্ধ হিসাবে বিশাল ভূমিকা রেখেছেন। সবার মনোবল দৃঢ় রেখেছেন। সংগ্রাম-আন্দোলনের দিনগুলোতে ছিলেন তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রেরণার উৎস হয়ে।

রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত না হয়েও যুক্ত থেকেছেন রাজনীতিতে, ছায়ার মতো। আওয়ামী লীগ আর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন অকৃপণভাবে। ফিরিয়ে দেননি কখনো কাউকে খালি হাতে। বিপদে-আপদে ছিলেন তাদের পাশে। সুদিনে-দুর্দিনে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করেছেন তাদের সঙ্গে। তাই তাকে বলা হতো দলের নেতাকর্মীদের আশ্রয়স্থল। রাস্তায়ও নেমেছেন প্রয়োজনে। যেমন, বঙ্গবন্ধু ও তার কয়েকজন সহ-সংগ্রামী নেতার বিরুদ্ধে যখন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ১৯৬৮ সালে মিথ্যা ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ দায়ের করে প্রহসনের বিচারে নেমেছিল, তখন তিনি রাজপথে নেমেছিলেন সবার সঙ্গে, অবলা নারীর সবল হস্ত ঊর্র্ধ্বে তুলে রাজপথ কাঁপিয়ে তুলেছেন শাসকদের বিরুদ্ধে। সফলও হয়েছেন। আরও আছে তার রাজনীতির কাহিনি। বঙ্গবন্ধুকে যখন প্যারোলে মুক্তি দিয়ে লাহোরে গোলটেবিল বৈঠকে বসতে শাসকগোষ্ঠী আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, তখন দলের সবার মতের বিরুদ্ধে, স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে, দৃঢ়কণ্ঠে প্যারোলে মুক্তি নেওয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। তার সেই বজ্রকঠিন মনোভাব বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন। বঙ্গমাতার পরামর্শে তিনি প্যারোলে মুক্তি নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় শাসকরা তাকে বিনাশর্তে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল। এটি ছিল একটি বিরাট রাজনৈতিক বিজয়। রাজনীতির ঘোরপ্যাঁচে না থেকেও রাজনীতির জটিল অঙ্ক তিনি বুঝতে পারতেন। সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে পাওয়া দুষ্প্রাপ্য গুণটি তিনি কাজে লাগিয়েছেন আমৃত্যু।

সংগ্রামের বহমান সময়ে উত্তাল দিনগুলোতে করণীয় নিয়ে যখন বঙ্গবন্ধু কখনো কখনো দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যেতেন, বঙ্গমাতা এগিয়ে যেতেন তার তীক্ষè বুদ্ধির পসরা নিয়ে। যেমনটি ঘটেছিল একাত্তরের ৭ মার্চের ভাষণের আগে আর ২৩ মার্চে পতাকা উত্তোলনের আগে। ৭ মার্চের ভাষণ এমনি এমনি ঐতিহাসিক হয়নি; তার পেছনের কারিগর ছিলেন বঙ্গমাতা। দলের, দলের বাইরের অনেকে যখন যার যার মতো করে পরামর্শ দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকে, কী বলতে হবে ভাষণে, কী ঘোষণা দিতে হবে সেদিন, কী করলে ভাষণ হৃদয়গ্রাহী হবে, ভাষণে স্বাধীনতার ঘোষণা থাকবে কী থাকবে না ইত্যাদি ইত্যাদি; তখন বঙ্গমাতা নিভৃতে বঙ্গবন্ধুকে তার মনের ভাবনাটুকু জানালেন। বঙ্গমাতার সেই অন্তরঙ্গ ভাবনা বঙ্গবন্ধু শিরোধার্য করে নিয়ে মাত্র ১৯ মিনিটের যে অলিখিত ভাষণ দিলেন, তা-ই বিশ্ব-ইতিহাসে মর্যাদাপূর্ণ স্থান করে নিল পরবর্তীকালে। সুচিন্তিত এ ভাষণের কারণে রাজনীতি গতি পেল, রেসকোর্স ময়দানের দশ লক্ষাধিক বৈঠালাঠি হাতের নেতাকর্মীরা দিকনির্দেশনা পেল, মানুষ বাঁচল, অথচ দেশও স্বাধীন হলো কোনো তাৎক্ষণিক বিপর্যয় ছাড়াই। বঙ্গমাতা ছিলেন এমনই; কাজ করেছেন পর্দার আড়ালে থেকে। কাজ ছিল সুচিন্তিত, পরিপক্ব, বাস্তবতার আলোকে আলোকিত, বাংলার অবারিত সবুজ-শ্যামলের মতো নির্মল, সতেজ। যেমনটি ছিল ৭ মার্চের ভাষণের ব্যাপারে, অনেকটা তেমনটি হয়েছিল ২৩ মার্চে দলীয়ভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য তৈরি পতাকা উত্তোলনের দিনেও। বঙ্গমাতাই ছিলেন প্রধান নিয়ামক, উদ্দীপক আর পরামর্শক।

মৃত্যু মানেই স্থূল দেহ ছেড়ে আত্মার সূক্ষ্ম দেহ ধারণ, কর্মফলের ভিত্তিতে পরজগতে বিচরণ। কর্মগুণে সূক্ষ্ম দেহই কোনো কোনো মানুষকে করে তোলে স্মরণীয়-বরণীয়। এমনই এক স্মরণীয়-বরণীয় ব্যক্তিত্ব বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব, যিনি বঙ্গবন্ধুর কাছে ছিলেন শুধুই রেণু। এসেছিলেন বাংলার এক মায়ের কোলজুড়ে টুঙ্গিপাড়ায় একানব্বই বছর আগে আগস্টের ৮ তারিখে। অতি অল্প বয়সেই বাবা-মাকে হারিয়ে মা-বাবার সংসারের সবার ছোট এ শিশুটি বেড়ে উঠেছেন দাদার কাছে। এক সময় নিয়তির খেলায় শিশু বয়সেই একান্ত আপনজন হয়ে উঠেছেন বঙ্গবন্ধুর বাবা-মায়ের পরিবারে। সঙ্গী হলেন কিশোর মুজিবের, যে মুজিবকে আপন গুণে সুখী করে তুলে প্রমাণ করেছেন, সত্যিই সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে। সাংসারিক জীবনে এ সত্যটা আবারও প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে, অর্ধেককে বাদ দিয়ে বাকি অর্ধেকের কোনো মূল্য থাকে না, সবকিছুর অর্জনেই অর্ধেক করে নারী আর অর্ধেক করে নর। দুই অর্ধেক মিলেই হয় সোনার সংসার। পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়ার রজনী চৌধুরী লেনের ছোট্ট ভাড়া বাড়ি থেকে প্রথম সংসার শুরু করে বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিত্বকালে মিন্টো রোডের সরকারি বাড়ি ঘুরে পরে বহুবার এ-বাড়ি সে-বাড়িতে থেকে শেষ পর্যন্ত এই সোনার সংসার পেতেছিলেন তিনি স্থায়ীভাবে ১৯৬১ সালের পহেলা অক্টোবর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাড়িতে, যা কালের পরিক্রমায় আজ বঙ্গবন্ধু জাদুঘর।

বঙ্গমাতার অনুপ্রেরণায় বাংলার মাটিকে দুর্জয় ঘাঁটি বানিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হলো। বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষ জাতির পিতাকে ফিরে পেল। শুরু হলো আরেক যুদ্ধ। দেশ গড়ার যুদ্ধ। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু স্বপ্নের বাংলাদেশকে তিল তিল করে গড়ে তুলতে শুরু করলেন। নব্য দেশের প্রধানমন্ত্রী, পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতির ঘরে বঙ্গমাতার দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল। মর্যাদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষেত্র আরও অনেক বেশি সম্প্রসারিত হলো, বিলাসিতা করার সুযোগ এলো। কিন্তু বঙ্গমাতা বিলাসিতার দিকে ভ্রূক্ষেপও করলেন না। যে মাতা সেই মাতাই থেকে গেলেন। হলেন আরও বেশি পরিপক্ব লাজনম্র গৃহবধূ, স্নেহময়ী জননী, অতিথিবৎসল গৃহকর্ত্রী, নির্মোহ সাদা মনের ফার্স্ট লেডি, সংসারের চৌকস কাণ্ডারি। ছিল তার পরিপাটি সাধারণ জীবন, যার প্রভাব আমরা দেখতে পাই তার দুই কন্যার মধ্যেই।

মায়ের ত্যাগ, ধৈর্য, স্থৈর্য আর সাহসিকতা সম্পর্কে অনেক বার শুনেছি বড় কন্যার কাছে তার বিভিন্ন বক্তৃতায়; এখনো শুনি যখন তিনি করেন স্মৃতিচারণ, অশ্রুজলে শিক্ত হয়ে। জননী সম্পর্কে কন্যা ছাড়া আর কে বেশি জানে? যে জননী ছিলেন একাধারে মাতা-পিতা-অভিভাবক-শিক্ষক আর পথপ্রদর্শক, সে মাকে এমনভাবে অপঘাতে হারালে কেমন করে বাঁচে জীবন? একসঙ্গে বাবা-মা দুজনকে হারালে, তার সঙ্গে আদরের ছোট ভাইদেরও হারালে কেমন দুঃসহ হতে পারে বেঁচে থাকার প্রতিটি মুহূর্ত? কেউ কখনো বুঝবে না; বুঝবে শুধু দুই বোন, বঙ্গমাতার দুটি নাড়িছেঁড়া ধন। ষড়যন্ত্রে ভরা এ আগস্টেই এসেছিলেন সেই মা দুনিয়া আলো করে, আবার এ আগস্টেই চলে গেলেন দুই মেয়েকে অকূল পাথারে ভাসিয়ে দিয়ে। ইচ্ছা করে বলতে- আগস্ট, তুমি আর কখনো এসো না ফিরে এই বাংলায় এমনভাবে, যেভাবে তুমি এসেছিলে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে। আগস্ট, তবে তুমি বারবার এসো তোমার প্রথমদিকে যেভাবে এসেছিলে উনিশশ’ তিরিশের আট আগস্টে, এসো তুমি মহীয়ান মায়েদের আঁচলে আলোর দ্যুতি ছড়িয়ে। কিন্তু কখনো এসো না তোমার মধ্যাহ্নে কোনো মায়ের আলোর শিখাকে অন্ধকারে ঢেকে দিতে। বঙ্গমাতা, আপনি বারবার ফিরে আসুন আপনার লাজনম্র বাঙালিয়ানা নিয়ে। সব প্রজন্মের কাছে আত্মত্যাগের মহিমায় প্রোজ্জ্বল হয়ে থাকুন চিরকাল স্মরণের আভরণে হে মাতা সাহসিকা। সবাই জানুক, আপনিই শেকল ভাঙার গল্প; অন্ধকার ভেদ করে আলোর পথ খোঁজার দুঃসাহসী যাত্রী; ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সংসার-সাগরে দিশেহারা নৌকার দৃঢ় কাণ্ডারি; আর কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কৃষ্ণগগনে পথহারা পাখির সহযাত্রী। বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি আপনাকে আর কামনা করছি আপনার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত।

লেখক: অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; সাবেক উপাচার্য, বাউবি

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় বাধা যানজট
ভোক্তার আচরণ ও পণ্যমূল্য
বাংলাদেশে ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে
পরিবেশ রক্ষায় জৈবপ্রযুক্তির প্রসার জরুরি
টিকা না নেওয়া কি শাস্তিযোগ্য অপরাধ?
টিকা নিয়ে কিছু প্রশ্ন

আরও খবর


close