সোমবার, ২৬শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২৪.৯৭°সে
সর্বশেষ:
সুনামগঞ্জে তিন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত সিলেটে ভুয়া সাংবাদিকসহ গ্রেপ্তার ৭ করোনায় ক্রীড়াবিদ শাহ আবু জাকেরের মৃত্যু গণমানুষের শিল্পী চামড়ার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষিত দিল্লি-রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছে তৃণমূল সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের রেকর্ড গড়া জয় ‘কঠোরতম লকডাউনের’শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত কান্দাহার প্রদেশে তালেবানের হামলায় ঘরবাড়ি ছেড়েছে ২২ হাজার পরিবার প্রতি মাসে এক কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আথিয়াকে ফলো না করার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী: সালমান

করোনা মোকাবিলায় অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সরকারের ভূমিকা

ভিওএনজে ডেস্ক/ অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ:
মহামারিতে পৃথিবীর সব দেশেই অর্থনৈতিক এবং খাদ্য সংকট দেখা দেয়। পৃথিবীতে এরকম দীর্ঘমেয়াদি মহামারি আগে কখনো হয় নাই। সারা বিশ্বেই অর্থনৈতিক মন্দা, বেকারত্বের সংখ্যা বেড়েছে এবং খাদ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অর্থনৈতিক সূচকে অনেক দেশেই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থান অনেকটা স্থিতিশীল এবং প্রবৃদ্ধি ৫.২ এবং এসডিজি অর্জনেও বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এটা আমাদের জন্য গৌরবের ব্যাপার। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার, মাথাপিছু আয় ২২২৭ ডলার যা ভারত ও পাকিস্তানের চেয়েও বেশি। বাংলাদেশ এখন নিজস্ব চাহিদা পূরণ করেও অন্যান্য দরিদ্র দেশগুলোকে আর্থিক ঋণ সহায়তা প্রদান করতে সক্ষম। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ধারাবাহিকতা এমনভাবে বজায় থাকলে আগামী ২০৩০ সালে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৫তম অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশ। এই কোভিড কালেও মেট্রোরেল প্রকল্প, কর্ণফুলী পাতাল টানেল, পদ্মা সেতু, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর এবং ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকান্ড চলমান রয়েছে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, যমুনা রেল সেতু, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, পতেঙ্গা বন্দরের নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনা নিয়ে অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও আগ্রহ বাড়ছে বাংলাদেশে।

এই করোনাকালে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বৈশ্বিক অনেক উন্নয়ন ফোরামে বক্তব্য রেখেছেন। বিশ্ব নেতাদের একই পস্ন্যাটফর্মে কাজ করে কোভিড-১৯ মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন। এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিশ্ব নেতাদের কাছে চার দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। সার্বজনীন জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং মহামারি সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বিশ্ব উন্নয়ন অংশীদার এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানিয়েছেন।

করোনাকালে গত ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট বাজেট ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। তন্মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ২৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য প্রণোদনা বাবদ ৮৫০ কোটি টাকা এবং করোনা মোকাবিলায় বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার কোটি টাকা।

বর্তমান ২০২১-২০২২ অর্থবছরে জীবন-জীবিকার সমন্বয় রেখে সরকারের টানা ১৩তম বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এবছর মোট বাজেট লক্ষ্যমাত্রা ঘোষিত হয়েছে ৫ লাখ ৩২ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য ও পুষ্টিকে মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করার জন্য এ বছর স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩২ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা, করোনা মোকাবিলায় ১০ হাজার কোটি টাকা এবং শিক্ষা ও গবেষণা খাতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেটে করোনা চিকিৎসার উপকরণ, যন্ত্রপাতি ও ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বিশেষ সুবিধা রয়েছে। কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেটে ২.৫% করপোরেট কর কমেছে এবং বিভিন্ন প্যাকেজে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

করোনার প্রথম ঢেউয়ে আমরা সরকারের ৩১ দফা, ১৩ দফা, ১৮ দফা এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নির্দেশনা প্রত্যক্ষ করেছি। প্রধানমন্ত্রী নিজে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক বক্তব্য দিয়েছেন এবং জেলা ও মাঠপর্যায়ে সমন্বয় করে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী জীবন-জীবিকার সমন্বয় রেখে খাদ্য ও অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখার জন্য করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময় লকডাউন ও বিধিনিষেধ আরোপের পূর্বে বিভিন্ন কৌশলী পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ৪টি মূলনীতির উপর ভিত্তি করে করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন-

সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি করে কর্মসৃজনকে প্রাধান্য দেওয়া

আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ প্রণয়ন

সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বৃদ্ধি

মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি

এই সঠিক পদক্ষেপের জন্য বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং মানুষের জীবনমানও স্বাভাবিক রয়েছে।

আমরা করোনার প্রথম ঢেউয়ে সরকারের আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজসহ অনেক মানবিক কার্যক্রম লক্ষ্য করেছি। দ্বিতীয় ঢেউয়েও নেওয়া হয়েছে অনেক জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ। যেমন-

১. ৩৩৩- এ ফোন করলেই খাদ্য সহায়তা

২. জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে ১০ কোটি টাকা জরুরি আর্থিক সহায়তা বরাদ্দ।

৩. পলস্নী অঞ্চলের মানুষের জন্য ৮০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ।

৪. ঈদুল ফিতরে সাধারণ মানুষের জন্য ৯৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ।

৫. ৩৬ লাখ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান।

৬. ১০ কোটি টাকা সাংবাদিক কল্যাণ ফান্ডে দান।

৭. নন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ৭৫ কোটি টাকা অনুদান।

৮. বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট থেকে ১০ কোটি টাকা কোভিড সহায়তা।

৯. আশ্রয়ণ প্রকল্পে সোয়া লাখ পরিবারকে গৃহদান।

১০. সামাজিক নিরাপত্তা বলয় কর্মসূচি বৃদ্ধির ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন।

১১. আমার গ্রাম আমার শহর কর্মসূচিতে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন।

১২. বাংলদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে আর্থিক, খাদ্য সহায়তা ও ফসল কাটা কর্মসূচিতে সহায়তা প্রদান।

কোভিডকালীন গত ১ বছরে স্বাস্থ্য সেক্টরে অনেক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যেমন-

*ডিএনসিসির মতো একটি বৃহৎ ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা।

*সাধারণ কোভিড শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি।

*আইসিইউ, এইচডিইউ শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি।

*প্রায় ১৫০টি হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ পস্ন্যান্ট স্থাপন।

*হাইফ্লো নেজাল ক্যানুলা, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, বাইপেপ- সিপেপ মেশিন, অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ।

\হ*৫৫৪টি কোভিড টেস্ট সেন্টার স্থাপন।

*কোভিড সুরক্ষা সামগ্রী উৎপাদন এবং রপ্তানিসহ অনেক উন্নয়ন কর্মকান্ড হয়েছে।

বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের আগেই বাংলাদেশে কোভিড টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় টিকাদানর্ যাংকিংয়েও বাংলাদেশ ছিল প্রথম। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ও বস্নুমবার্গ কর্তৃক বাংলাদেশের এই উদ্যোগ ও কর্মসূচি প্রশংসিত হয়েছিল। ভারতে করোনা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার কারণে আমাদের দেশে টিকাদান কর্মসূচি সাময়িক ব্যাহত হয়েছে। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশ্ব নেতৃত্বের অবস্থান, ভ্যাকসিন হিরোর দেশ, দক্ষ পররাষ্ট্রনীতি এবং শক্তিশালী কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে টিকাদান কর্মসূচির ধারাবাহিকতা ফিরে আসবে যা ইতিমধ্যে আমরা দেখতেই পাচ্ছি। বাংলাদেশের মধ্যে টিকা আমদানি উদ্ভাবন ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টিকাদান কর্মসূচির স্বনির্ভরতার দিকে এগোচ্ছে।

বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী দ্রম্নততার সঙ্গে সঠিক ও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করার কারণে বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই করোনাকালেও দেশের অর্থনীতি নিরাপদ রয়েছে। বাংলাদেশ এই সক্ষমতা অর্জন করার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতাদের কাছে প্রতিনিয়ত প্রশংসিত হচ্ছেন। তাই জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, আমলা, সামাজিক, ধর্মীয় নেতারাসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি নিজে মানতে হবে ও অন্যকে মানতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে এবং সরকারের গৃহীত সব নির্দেশনা মেনে চললেই ফিরে পাবো করোনামুক্ত বাংলাদেশ।

অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ : মহাসচিব স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

গণমানুষের শিল্পী
ছোট নদীগুলো উদ্ধার করা হোক
যেভাবে বদলে যাচ্ছে দেশের সমাজ ও অর্থনীতি
সুদিনের সূর্য উদয়ের অপেক্ষায়
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি-অনিয়ম
কানাডায় অভিবাসন: সামাজিক সমস্যার একাল-সেকাল

আরও খবর


close