সোমবার, ২৬শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২৫.৬৭°সে
সর্বশেষ:
সুনামগঞ্জে তিন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত সিলেটে ভুয়া সাংবাদিকসহ গ্রেপ্তার ৭ করোনায় ক্রীড়াবিদ শাহ আবু জাকেরের মৃত্যু গণমানুষের শিল্পী চামড়ার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষিত দিল্লি-রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছে তৃণমূল সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের রেকর্ড গড়া জয় ‘কঠোরতম লকডাউনের’শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত কান্দাহার প্রদেশে তালেবানের হামলায় ঘরবাড়ি ছেড়েছে ২২ হাজার পরিবার প্রতি মাসে এক কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আথিয়াকে ফলো না করার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী: সালমান

যেভাবে বদলে যাচ্ছে দেশের সমাজ ও অর্থনীতি

ড. আর এম দেবনাথ
‘করোনা-১৯’ অতিমারিকালে অর্থনীতি, সমাজ ও ব্যবসা ক্ষেত্রে ভেতরে ভেতরে নীরবে অনেক পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে। এর কিছু খবর আমরা রাখি, কিছু খবর রাখি না। এই যেমন পুরোনো খবরের কাগজ ক্রেতা-বিক্রেতা, যাদের আমরা হকার বলি, তাদের বাজার ভীষণ মন্দা। মানুষ এখন ভয়ে দৈনিক কাগজ রাখে কম। যারা নিয়মিত রাখে, তারাও এখন রাখে কম। ফলে সরবরাহে ঘাটতি। আবার চাহিদাতে রয়েছে ঘাটতি। হকাররা কী করবে এ অবস্থায়?

আমার পরিচিত এক হকার দুই ভাই মিলে করোনার মধ্যেই পাড়ায় দিয়েছে খাবারের দোকান। সকালের নাশতা থেকে রাতের খাবার পর্যন্ত। দুই লাখ টাকা দিয়ে দোকান নিয়েছে- এটা হচ্ছে সেলামি। ১৫ হাজার টাকা মাসিক ভাড়া। বেচাকেনা? আমার কাছে অবিশ্বাস্য! দিনে ৩০-৪০ হাজার টাকার বিক্রি। ৬-৭ জন কর্মচারী।

দোকানে বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে টেলিফোনেও অর্ডার নেওয়া হয়। বাড়িতে বাড়িতে নাশতা, দুপুরের খাবার ও রাতের খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। ভালোই চলছে তাদের ব্যবসা। মুরগি, ডিম, চাল, আটা-ময়দা, তরিতরকারি ইত্যাদির কোনো সমস্যা নেই। দোকানে দোকানে ‘সাপ্লাই’ দেয় একশ্রেণির ব্যবসায়ী ও বিক্রেতা। ওই হকারের কথা, পুরোনো কাগজের ব্যবসায় আর যেতে হবে না তাদের। উপরওয়ালা তাদের ভালোই রেখেছেন।

দেখা যাচ্ছে, করোনাকালে এ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আরও অনেক পরিবর্তন ঘটে চলেছে। রক্ত পরীক্ষার জন্য এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো নমুনা সংগ্রহ করছে। অনলাইনে অর্ডার দিলে মাছ-মাংস, তরিতরকারি, দুধ-ডিম, আম-কাঁঠাল পাওয়া যাচ্ছে। ভালো খাবার, বিরিয়ানি, চাইনিজ ইত্যাদি বাসায় বসে পাওয়া যাচ্ছে। করোনা যেমন মানুষকে ঘরে বন্দি করে রেখেছে, তেমনি এ অবস্থায় করণীয় কী তা ব্যবসায়ীরা আবিষ্কার করে ফেলেছে। শুধু অনলাইন নয়, সাধারণ মুদি দোকানিরাও মোবাইলে অর্ডার নেয়। পাড়ার দোকানিরা ছোটখাটো সওদাও বাড়িতে-ফ্ল্যাটে পৌঁছে দিচ্ছে। এমনকি শাকসবজিও বাসায় পৌঁছে দিচ্ছে। মাছ-মুরগি তো করোনার আগেই পাড়ায় পাড়ায় পাওয়া যেত।

দেখা যাচ্ছে, এসব পরিবর্তনে জটিল কোনো ‘টেকনোলজি’ ব্যবহৃত হচ্ছে না। শুধু মোবাইলেই কাজ হয়ে যাচ্ছে। ডাক্তার ও ট্যাক্স কনসালট্যান্টরাও মোবাইলে মেসেজ দিচ্ছে তাদের সেবা নেওয়ার জন্য। তারাও বাড়িতে আসে। ফ্রিজ মেরামত, পাখা মেরামত, এসি মেরামত, রান্নাঘরের চুল্লি মেরামতের জন্য এখন আর ওইসব মিস্ত্রির দোকানে যেতে হয় না। ফোনে ফোনে চুক্তি। মোট কথা- সব ধরনের পণ্যদ্রব্য, ভোগ্যপণ্য ও সেবা এখন বাড়িতে বসেই পাওয়া যায়। এ সবের পেমেন্টও অনেক ক্ষেত্রে কম্পিউটারে করা যাচ্ছে।

শুধু পণ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা নয়, এখন রোগীর শুশ্রূষার জন্যও ছেলে বা মেয়ে নার্স পাওয়া যাচ্ছে। এক মাস আগের খবর। আমার পরিচিত এক প্রবীণ ভদ্রলোক সস্ত্রীক একটি ফ্ল্যাটে থাকেন। ঠিকা বুয়ারা কাজে তাদের সাহায্য করে। অসুস্থ হয়ে এ করোনার মধ্যেই তিনি ভালো একটা হাসপাতালে ভয়ে ভয়ে ভর্তি হন। এ সবের ব্যবস্থা ছেলেমেয়েরা করেছে আমেরিকায় থেকে। এক ছেলে, এক মেয়ে; স্ত্রী-পুত্র নিয়ে তারা আমেরিকা নিবাসী।

অসুস্থ বাবার সঙ্গে কথা বলা, ডাক্তার-নার্সের সঙ্গে কথা বলা, হিসাব-রক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, পাওনা টাকা ডলারে পরিশোধ করা- এসব তারা আমেরিকায় থেকেই নিয়মিত করেছে। বাবা-মা কেউ জানে না ছেলেমেয়েরা কে কীভাবে এসব করছে। টেস্ট করা, কোনো ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা- এসবই তারা ঠিক করছে। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বাবা-মার সঙ্গে দিন-রাত কথা হচ্ছে। সবই ‘টেকনোলজির’ বদান্যতা।

ছেলেমেয়েরা দূরে, হাজার হাজার মাইল দূরে, কিন্তু বাবা-মা তা অনুভব করছেন না। অবশেষে বাসায় যখন ফিরে এলেন, তখন দেখা গেল পরদিন এক ভদ্রলোক সকালে এসে হাজির। তিনি হচ্ছেন শুশ্রূষাকারী বা পুরুষ নার্স। ছেলেমেয়েরা অনলাইন সেবার মাধ্যমে খোঁজ করে এ সেবার সন্ধান পেয়েছে। ঢাকায় এমন প্রতিষ্ঠান আছে, যারা এখন এ সেবা দিচ্ছে। সকাল ৭টা-সাড়ে ৭টায় রিপোর্ট করছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকছে।

রোগীকে ওষুধপত্র খাওয়ানো, রোগীর প্রাকৃতিক কাজে সাহায্য করা, নাশতা-লাঞ্চ করানো, প্রেসার মাপা, ওষুধপত্র সংগ্রহ করা ও তাকে সঙ্গ দেওয়া তার কাজ। দৈনিক বেতন/ভাতা দুই হাজার টাকা। এ সবই ছেলেমেয়েরা দেখাশোনা করছে। মিনিটে-মিনিটে যোগাযোগ। নাতি-নাতনিদের সঙ্গে কথাবার্তা বলা। বাবা-মায়ের পাশে নেই, কিন্তু তাদের আয়োজিত সেবা মুহূর্তে মুহূর্তে। ঢাকায় এখন ‘বুয়া’ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও আছে।

‘বুয়ার’ বড় অভাব। কিন্তু ওরা বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ‘বুয়া’ সরবরাহ করে। অবশ্য এসব সেবায় প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। কিন্তু তাতেও সই। এ ব্যবসা চলছে। অথচ আজ থেকে ১৫ বছর আগে আমি আমার শয্যাশায়ী মায়ের সেবার জন্য এমন সেবার সন্ধান পাইনি। এসব ক্ষেত্রে এখন বিশাল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

দেখা যাচ্ছে, ঢাকাসহ বড় বড় শহরে হাজার হাজার বাবা-মা একাকী বসবাস করেন। বুড়ো-বুড়ির সংসার। স্থায়ী ‘বুয়া’, ঠিকা ‘বুয়া’ তাদের সেবা দেয়। ছেলেমেয়েরা থাকে বিদেশে। কেউ বিদেশের নাগরিক, কেউ দুই দেশের নাগরিক। তারা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে মা-বাবার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে। ঈদে-পূজার সময় ছেলেমেয়েরা বাবা-মার জন্য জামাকাপড় পাঠায়। বাবা-মাও ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনিদের জন্য জামা-কাপড় ইত্যাদি পাঠায়।

পিতৃদিবস, মাতৃদিবসে তারা উপহারসহ ফুলের তোড়া পাঠায়। এসবে সাহায্য করার জন্য বাংলাদেশের ভেতরেই অনেক প্রতিষ্ঠান আছে। বাড়িতে এসে তারা উপহার, ফুলের তোড়া, জামাকাপড় পৌঁছে দিয়ে যায়। এ এক নতুন সমাজ! বাবা-মা দেশে, ছেলেমেয়েরা বিদেশে- তাদের জন্যই বোধ হয় বাৎসরিক পিতৃদিবস ও মাতৃদিবস। উন্নত দেশে বাবা-মা কোথায়, ছেলেমেয়ে কোথায়- কার খবর কে রাখে! বাবা-মা হয়তো বৃদ্ধাশ্রমে।

ছেলেমেয়েরা সেখানে পিতৃদিবস/মাতৃদিবসের মাধ্যমে কর্তব্য সারে। বাঙালির সমাজ কিন্তু এমন নয়। বাঙালির পরিবার বাবা-মাকে নিয়ে। নিত্যদিনের সংসার। সকাল-বিকাল বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ-কথাবার্তা। সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা প্রতিদিন একসঙ্গে ভাগাভাগি হয়। বাবা-মাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া, টেস্টের ব্যবস্থা করা, হাসপাতালে গেলে তাদের সেবায় সেখানে ২৪ ঘণ্টা থাকা ইত্যাদি বাঙালি পরিবারের ছেলেমেয়ের কাজ।

কিন্তু এর মধ্যেও দেখা যাচ্ছে ঢাকার ছেলেমেয়েরাও পিতৃদিবস ও মাতৃদিবস পালন করে। এটা বিদেশের প্রভাব। এখন জন্মদিনে মেসেজের ছড়াছড়ি। ফেসবুকে প্রতিনিয়ত খবরের আদান-প্রদান। কে কী করছে- সব খবর ফেসবুকে। একজন একটা ‘কেক’ তৈরি করল তো সে খবর সবার কাছে। দেশ ভ্রমণ, দেশের ভেতরে ভ্রমণের ছবি সব পরিচিতদের কাছে।

আগে আমাদের পরিবার শুধু বাবা-মাকে নিয়ে ছিল না। আমাদের পরিবারে ছিলেন ফুফু, পিশিমা, বিধবা বোন ও তার ছেলেমেয়ে। সবাইকে নিয়ে ছিল বৃহত্তর এক পরিবার। সবার সুখ-দুঃখে সবাই। সারা দিন রান্নাবান্না। বাড়ি-ঘর আত্মীয়স্বজনে গমগম করত। প্রতি মাসেই থাকত কোনো না কোনো সামাজিক-ধর্মীয় অনুষ্ঠান। হইচই, আনন্দ। দুঃখ-বেদনাও আছে। সব মিলিয়েই ছিল আমাদের বাঙালির সংসার। এখন কাগজে বিজ্ঞাপন দেখি ছোট ও সুখী পরিবারের।

পরিবার হচ্ছে স্বামী-স্ত্রী, একটি ছেলে, একটি মেয়ে। বাবা-মার স্থান এখানে নেই। পিশিমা, ফুফু, মাসিমা ও বিধবাদের কথা দূরে থাক। আমাদের পরিবার এখন ‘নিউক্লিয়ার’ পরিবার। বৃহত্তর পরিবারের অনুপস্থিতি এখন কিছুটা হলেও ফেসবুক দিয়ে আজকের সমাজ পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বৃহত্তর পরিবার ভাঙছে। বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটছে। বহু নারী-পুরুষ একাকী জীবনযাপন করছে। তাদের অনেকের ছেলেমেয়ে বিদেশে। বিদেশে অবস্থানরত ছেলেমেয়েরা ঢাকায় আসে মাঝে মাঝে। তারা এসেই অসহ্যবোধ করে। যে শহরে তাদের জন্ম-লেখাপড়া, বেড়ে ওঠা- এর কোনো কিছুই তাদের এখন ভালো লাগে না।

এখানকার বায়ু দূষিত, পানি পান করার উপযুক্ত নয়, লোকে লোকারণ্য সর্বত্র, সর্বত্র রাজনীতি- ঝগড়া, মারপিট। লেখাপড়ার পরিবেশ নেই। ইত্যাদি ইত্যাদি। তারা প্রকৃতপক্ষে নিজের মাতৃভূমিকেও ছাড়তে পারছে না, আবার গ্রহণ করতে পারছে না নতুন দেশকে। নতুন দেশের সমাজ সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। আমেরিকা, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড খ্রিষ্টান অধ্যুষিত দেশ। তারা সারা পৃথিবীর লোককে গ্রহণ করছে, আশ্রয় দিচ্ছে। তারা যে সমাজ গড়ে তুলতে চাইছে তার ভিত্তি গণতন্ত্র, ব্যক্তি স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, মানবাধিকার। সেখানে ঐতিহ্যের বালাই নেই। তারা নতুন ঐতিহ্য গড়ে তুলতে চাইছে নতুন মূল্যবোধের ভিত্তিতে।

সমাজ ও পরিবার সেখানে গৌণ। পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব নিয়ে নিচ্ছে রাষ্ট্র। রাষ্ট্র বেকারের দেখাশোনা করে। বৃদ্ধদের দেখাশোনা করে। তাদের চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবস্থা করে। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার দায়িত্ব বহন করে। সেসব সমাজে ‘সঞ্চয়ের’ মূল্য নেই। কারও সঞ্চয়ের প্রয়োজন পড়ে না, কারণ রাষ্ট্রই ব্যক্তির চাহিদা মেটায়। বিনা চিকিৎসায় কেউ মারা যায় না। বিমা কোম্পানি সব করে। অতিরিক্ত ধনীদের কথা আলাদা। সেই সমাজ আমাদের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেখা যাচ্ছে, আমাদের ছেলেমেয়েরা সেখানে গিয়ে না ভুলতে পারছে আমাদের চিন্তাভাবনা, না ধরতে পারছে ওইসব দেশের চলন-বলন। সেসব দেশের নাগরিক হয়েও তারা নিজ দেশের সব চিন্তাভাবনা, আচার-ব্যবহার ধরে রাখতে চাইছে। দুই সংস্কৃতির সংঘাত-সংঘর্ষ। এটা এক প্রজন্মে যাবে না।

আমাদের বিদেশযাত্রীদের মধ্যে নোয়াখালী, কুমিল্লা ও সিলেটের লোকেরা ছিল অগ্রগামী। সিলেটের যারা বিলাত গিয়েছে, তাদের অনেকের এখন তৃতীয়-চতুর্থ প্রজন্ম। প্রথম প্রজন্মের মানুষদের দেশের প্রতি টান ছিল। দেশে তারা বাড়িঘর, সহায়-সম্পত্তি করত। সিলেটের গ্রামাঞ্চলে গেলে দেখা পাওয়া যাবে বিশাল-বিশাল দালান-কোঠার। তারা বছরে একবার-দুইবার দেশে আসত- এই যা। কিছুদিন আগে একটা খবরে দেখলাম সিলেটের লোকদের তৃতীয়-চতুর্থ প্রজন্মের দেশের প্রতি টানে ভাটা পড়ছে। অনেকেই সিলেটের বাড়িঘর, সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করে দিচ্ছে। তারা দেশে ডলার/পাউন্ড কম পাঠাচ্ছে।

এদিকে নতুনভাবে যারা ‘বিদেশি’ হচ্ছে; বিলাত, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড যাচ্ছে, তারাও আর দেশে ফিরতে চাইছে না। দেশে তাদের বাবা-মা এখন ভীষণ সংকটে। ছেলেমেয়ে বিদেশের নাগরিক। তারা দেশে ফিরবে না। এখন দেশের ব্যবসা, সহায়-সম্পত্তির কী হবে? শত হোক এসব ছেলেমেয়েদের জন্যই, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যই। অতএব, অনেকের ধারণা, এসব সহায়-সম্পত্তি বিক্রি হচ্ছে, আর সেই টাকা-অর্থসম্পদ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনি যেখানে, সম্পদও সেখানে যাবে এটাই স্বাভাবিক। এই পাচার, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের স্বদেশে ডলার প্রত্যাবাসন এবং বিদেশি কোম্পানিগুলোর মুনাফা প্রত্যাবাসন একসঙ্গে করলে, ধারণা করা হয়, আমাদের মোট রেমিটেন্সের এক-তৃতীয়াংশ এভাবেই খরচ হয়ে যায়। এভাবে বাঙালির ‘টাউন’ হচ্ছে পৃথিবীর অনেক দেশে। এসব পরিবর্তনের শেষ কী, এর ফলাফল কী- এটা ভবিষ্যৎই বলবে।

ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতি বিশ্লেষক; সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

গণমানুষের শিল্পী
ছোট নদীগুলো উদ্ধার করা হোক
করোনা মোকাবিলায় অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সরকারের ভূমিকা
সুদিনের সূর্য উদয়ের অপেক্ষায়
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি-অনিয়ম
কানাডায় অভিবাসন: সামাজিক সমস্যার একাল-সেকাল

আরও খবর


close