সোমবার, ২৬শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২৫.২৬°সে
সর্বশেষ:
সুনামগঞ্জে তিন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত সিলেটে ভুয়া সাংবাদিকসহ গ্রেপ্তার ৭ করোনায় ক্রীড়াবিদ শাহ আবু জাকেরের মৃত্যু গণমানুষের শিল্পী চামড়ার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষিত দিল্লি-রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছে তৃণমূল সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের রেকর্ড গড়া জয় ‘কঠোরতম লকডাউনের’শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত কান্দাহার প্রদেশে তালেবানের হামলায় ঘরবাড়ি ছেড়েছে ২২ হাজার পরিবার প্রতি মাসে এক কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আথিয়াকে ফলো না করার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী: সালমান

সুদিনের সূর্য উদয়ের অপেক্ষায়

ভিওএনজে ডেস্ক/ সূত্র-যুগান্তর/ আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী:

ইতিহাস বদলে যাচ্ছে। উপমহাদেশের রাজনীতিতে যে প্রশ্নটি ছিল একদিন ব্যাপক ও গুরুত্বপূর্ণ, আজ তা গুরুত্ব হারাতে চলেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ঘোষণা করেছেন, পাকিস্তানের মাটিতে মার্কিন ঘাঁটির আর কোনো স্থান নেই। পাকিস্তান থেকে আফগানিস্তানে আমেরিকা আর কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারবে না। কোনোভাবেই এ অনুমোদন দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল আল কায়দা, আইএস কিংবা তালেবানদের বিরুদ্ধে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনায় মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএকে সেনাঘাঁটি স্থাপনে আমেরিকাকে তার সরকারকে সম্মতি দেবে? জবাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, একেবারেই না। একই কথা বলেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশী সিনেটে দেওয়া তার বক্তব্যে।

পঞ্চাশের দশকে যখন পাকিস্তান অবিভক্ত ছিল, তখন আমেরিকা পাকিস্তানকে সামরিক চুক্তির প্রস্তাব দেয়। এ চুক্তিতে সম্মত ছিলেন না খাজা নাজিমুদ্দিনের মন্ত্রিসভা। সেজন্য তাকে বরখাস্ত করে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আলী বগুড়াকে এনে প্রধানমন্ত্রীর পদে বসানো হয়। এ চক্রান্তের হোতা ছিল মার্কিন সিআইএ। তারা পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল আইয়ুব খানকে তার কয়েকজন সহযোগীসহ বশ করেছিলেন। তারাই ছিলেন এ নেপথ্য পরিবর্তনের নায়ক। মূলত উপমহাদেশে এভাবে মার্কিন আধিপত্যবাদের প্রবেশ ঘটে। এ চুক্তির বিরুদ্ধে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নেহেরু পাকিস্তানকে সতর্ক করেছিলেন। এ চুক্তি নিয়েই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। কাশ্মীর সমস্যাও জটিল হয়ে ওঠে।

পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তির বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানেও প্রগতিশীল রাজনীতিক এবং কমিউনিস্ট পার্টি তুমুল বিক্ষোভ সৃষ্টি করে। এ মার্কিন চুক্তিকে কেন্দ্র করেই আওয়ামী লীগ ভেঙে যায়। মওলানা ভাসানী ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি নামে নতুন দল গঠন করেন। জেনারেল আইয়ুব পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয় ঐক্য ভেঙে যাওয়ায় দেশে সামরিক শাসন জারি করার সুযোগ পান। পাকিস্তানে সামরিক শাসন স্থায়ী হয়।

এ ঘাঁটি স্থাপন থেকে পাকিস্তান ধীরে ধীরে মার্কিন দখলদারিত্বে চলে যায়। পাকিস্তানে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, কে অর্থমন্ত্রী হবেন, কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হবেন সবই নির্ধারণ করে দিত মার্কিন সরকার। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ওয়াশিংটনের নির্দেশে বেনজীর ভুট্টোকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচনে হক-ভাসানীর নেতৃত্বে গঠিত যুক্তফ্রন্টের বিপুল বিজয় হয়। তারা নির্বাচনে জয়ী হয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করলেও মার্কিন নির্দেশে সেই মন্ত্রিসভা বরখাস্ত করা হয়। সেই থেকে শুরু হয় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে ভাঙন। শেষ পর্যন্ত স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের আবির্ভাব।

বাংলাদেশের এ স্বাধীনতা অর্জনেও প্রধান প্রতিপক্ষ ছিল আমেরিকা। সিআইএ সামরিক অস্ত্র দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের গণহত্যায় হানাদারদের সাহায্য জুগিয়েছে। ভারতেও আমেরিকার সঙ্গে সামরিক চুক্তি করার ফলে বামদলগুলো কংগ্রেস সরকারকে সমর্থন প্রত্যাহার করে। ধীরে ধীরে সেখানে বিজেপির উত্থান ঘটে। এখন ভারত ঘনিষ্ঠ মৈত্রী পাতিয়েছে আমেরিকা এবং তার বশংবদ ইসরাইলের সঙ্গে। ভারতের মিত্রতা অর্জনের পর আমেরিকা এখন আর পাকিস্তানের দোস্তালিকে আমল দিচ্ছে না। তাই আমেরিকার বিরুদ্ধে শুধু পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে নয়, তার সেনাবাহিনীর মধ্যেও গোস্সা বাড়ছে। পাকিস্তান ছিল আমেরিকার সুয়োরানী। এখন দুয়োরানী। তাই ইমরান খান গর্জন করছেন আমেরিকাকে পাকিস্তানে আর সামরিক সুবিধা দেওয়া হবে না। মনে হয় এটি অসাড়ের তর্জন-গর্জন।

পাকিস্তানে এখন বিশাল মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আছে। তারাই সরকার ও সেনাবাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে। এ সেনাবাহিনী আবার দেশের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা নির্ধারণ করে। ইমরান খান যদিও লোকদেখানো নির্বাচনের মারফত প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তার নেপথ্যে রয়েছে সেনাবাহিনীর হাত। সেনাবাহিনী ইচ্ছা করলে এখনই তাকে সরিয়ে দিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী আনতে পারে। সেনাবাহিনীর এ ভূমিকার কথা এখনো বলছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ।

পাকিস্তান যে এখন আমেরিকার একটি স্যাটেলাইট স্টেট তার প্রমাণ, পাকিস্তানের রাজধানীর কাছে আমেরিকা সেনা গোয়েন্দা নামিয়ে ওসামা বিন লাদেনকে তার পরিবারসহ হত্যা করেছে। কিন্তু পাকিস্তান সরকারকে তা জানতে দেয়নি কিংবা পাকিস্তান সরকারের অনুমতিও নেয়নি। ফিলিপাইনে মার্কিন ঘাঁটি রাখার বিরুদ্ধে জনমত বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং মার্কিন দালাল মার্কোসের পতন হলে আমেরিকা তার সেনাঘাঁটির একাংশ থাইল্যান্ডে ও অপর অংশ পাকিস্তানে পাঠায়। ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাকিস্তান আমেরিকার সবচেয়ে বড় সেনাঘাঁটি হয়ে ওঠে। জানা যায়, এ সেনাঘাঁটি নিয়ন্ত্রণে ইসরাইলও রয়েছে। পাকিস্তান থেকে ভারতে এবং সেখান থেকে সাড়া উপমহাদেশে ইসরাইলি গোয়েন্দাদের বিরাট নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবেও ইসরাইল ঘাঁটি গেড়েছে।

অনেকে মনে করেন, বাংলাদেশ যে তার পাসপোর্টে ইসরাইলে যাওয়া যাবে না এ ধারাটি বাতিল করেছে, তার মূল কারণ বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান সৌদি প্রভাব। ভিয়েতনামের এক পতিত স্বৈরাচারীর শ্যালিকা বলেছিলেন, আমেরিকা যার বন্ধু হয়, তার শত্রুর দরকার হয় না। এ কথাটি যে কত সত্য, আজকের পাকিস্তান তার প্রমাণ। পাকিস্তানে সাম্প্রতিককালে যত নির্বাচন হয়েছে, সবগুলোই সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করেছে। দেশটিতে প্রকৃত গণতন্ত্র এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সামরিক বাহিনীর দুর্নীতির ফলে দেশটির অর্থনীতি প্রায় বিপর্যয়ের মুখে। পাকিস্তানের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এখন বলছেন, আমরা একজন শেখ হাসিনা চাই। বাংলাদেশ অর্থনীতিতে পাকিস্তানকে হারিয়ে দিয়ে বহুদূর এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা তার নাগাল পাব কিনা সন্দেহ।

এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বলেছিলেন, ভিয়েতনামে যেমন জনগণের ইচ্ছা জয়ী হয়েছে, বাংলাদেশেও তেমনই একটি স্বাধীন জাতির ইচ্ছা বিজয়ী হয়েছে। বিদেশের সঙ্গে কোনো সামরিক চুক্তি দ্বারা আমরা এ স্বাধীনতা বিপন্ন হতে দেব না। আমার পাঠকরা যদি একটু পেছনের দিকে তাকান, তাহলে দেখবেন পাকিস্তানে জেনারেল জিয়াউল হকের বর্বর শাসনামলে আমেরিকাকে পেশোয়ারে সেনাঘাঁটি করে আফগানিস্তানে তালেবানদের মদদ দেওয়া হয়েছিল। আফগানিস্তান থেকে সেই তালেবানরা পাকিস্তানে এসে সীমান্ত প্রদেশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। পাকিস্তান তাদের হঠাতে পারেনি। এখন আমেরিকা তালেবানবিরোধী। তালেবান উচ্ছেদে পাকিস্তানের ঘাঁটি থেকে অভিযান করতে চায়। ইমরান খান বাধা দিতে পারবেন? পারবেন ইমরান খান পাকিস্তানের মাটি থেকে মার্কিন ঘাঁটি উচ্ছেদ করতে? করতে গেলে হয়তো তাকে ইরানের মোসাদ্দেক অথবা তার দেশের বেনজীর ভুট্টোর পরিণতি বরণ করতে হবে। সুতরাং তিনি যতই তর্জন-গর্জন করুন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আধিপত্য থেকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত না হলে আমেরিকার দাপট সে দেশ থেকে উচ্ছেদ করা যাবে না।

গত দুই শতকে বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের নেতা ছিল ব্রিটেন। তাদের রাজত্ব এতই বড় ছিল যে, তাতে সূর্য অস্ত যেত না। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অবসান হয়। উত্তরাধিকার বহন করে আমেরিকা। আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদীদের নিষ্ঠুরতা প্রায় ব্রিটিশদের মতোই। ব্রিটিশরাজ বাংলাদেশ দখল করার পর তার মসলিন শিল্প ধ্বংস করেছে। তাঁতশিল্পীদের হাতের আঙুল কেটে দিয়েছিল, যাতে তারা তাঁত চালাতে না পারে। এ নিষ্ঠুর অত্যাচার-বর্বরতার ইতিহাস আছে রজনীপাম দত্তের বিখ্যাত বই ইন্ডিয়া টু ডে’তে। আমেরিকাও তেমনি তার তাঁবেদার দেশগুলোতে শিল্পসম্পদ গড়ে উঠতে দেয়নি। তুরস্কের তামাক শিল্প তারা ধ্বংস করে। কিউবার সুগার ইন্ডাস্ট্রি ধ্বংস করার চেষ্টা চালায়। পানামার বিশাল আলু উৎপাদন মার্কিন বাজারকে যাতে ক্ষতি না করে সেজন্য এক বছরেই তারা ৪০ লাখ টন আলু সাগরে নিক্ষেপ করে। এ আলু দ্বারা দুর্ভিক্ষগ্রস্ত অনেক দেশের মানুষের জীবন রক্ষা করা যেত।

আমেরিকা এখন বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ ও ধনবাদের নেতা। যুগের অবক্ষয়ে তারও শক্তির অবক্ষয় ঘটেছে। কিন্তু তার আণবিক দাঁত রয়ে গেছে। সেই দাঁত দেখিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্সির আমলে নিও-ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। এখন করোনার গ্রাসে সারাবিশ্ব জর্জরিত। এ করোনা কোনোদিন পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে এবং মানবসভ্যতা নতুনভাবে জেগে উঠবে তার নিশ্চয়তা নেই।

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের লেজের শক্তি এখনো রয়ে গেছে। উপমহাদেশে পাকিস্তান খাল কেটে যে কুমির এনেছিল তাকে বিদায় দেওয়া কষ্টকর। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, মার্কিন আধিপত্যবাদ থেকে কী করে উপমহাদেশকে রক্ষা করা যাবে? তিনি জবাব দিয়েছিলেন- যদি ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল যুক্ত হয়ে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী একটি দেয়াল গড়ে তোলে, তাহলেই এ সাম্রাজ্যবাদকে বিদায় দেওয়া সম্ভব।

কিন্তু ৮০ মণ ঘিও জুটবে না, রাধাও নাচবে না। উপমহাদেশেও ভারত ও পাকিস্তানের কাশ্মীর নিয়ে বিবাদ মিটবে না এবং উপমহাদেশীয় ঐক্যও গড়ে উঠবে না। এখানেই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সুবিধা। তারা এশিয়া ও আফ্রিকায় পরের ঘর ভেঙে নিজের ঘর গড়ে তুলতে চায়। সেজন্য কোনো হত্যাকাণ্ডে তারা দ্বিধাগ্রস্ত ছিল না এবং এখনো নেই। লুমুম্বা, আলেন্দে, শেখ মুজিব হত্যার পেছনে এ মার্কিন সিআইএ’র নেপথ্য ভূমিকা আজ পৃথিবীর সব লোকের জানা। বর্তমান যুগেও পাকিস্তানের ইমরান খান জানেন, তিনি যদি বেশি বাড়াবাড়ি করেন তাহলে সেনাবাহিনী কোনো মিথ্যা অভিযোগে তার প্রাণদণ্ডের বিধান করবে অথবা তাকে দেশ ছেড়ে সৌদি আরবে গিয়ে আশ্রয় চাইতে হবে। যেমন চেয়েছিলেন এবং পেয়েছিলেন নেওয়াজ শরিফ। বাংলাদেশেও ১/১১-এর সময় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সামরিক শাসকদের ইচ্ছায় সৌদি আরবে গিয়ে আশ্রয় নিতে চেয়েছিলেন। সারা বিশ্বই এখন দক্ষিণমুখী। তবুও সাম্রাজ্যবাদের শক্তির ধীরে ধীরে পতন ঘটছে। বিশ্ব ধনবাদের গায়ে পচন ধরেছে। এ পচন ও করোনার বিষ থেকে বিশ্ব মুক্ত হলে মানবতা কী চেহারা ধারণ করবে তা আমরা জানি না। তবে এটুকুই জানি, বিশ্ব ধনবাদ তার পতনের গহ্বরের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। এ ধনবাদের পতন হলে, বিশ্বের মানবতা মুক্ত হলে সেদিন ইমরান খান বলতে পারবেন, তার দেশের মাটিতে সাম্রাজ্যবাদের সেনাঘাঁটি আর রাখবেন না। তার আগে নয়।

একটি প্রত্যাশার কথা, অন্ধকার যত ঘনীভূত হোক, করোনার মধ্যে বিশ্বগ্রাসী দানব যতই বিশাল হোক, মানবতা ও প্রকৃতির এ যুদ্ধে মানবতাই জয়ী হবে। অতীতে অনেক মহামারি বিশ্বকে গ্রাস করতে চেয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে যুদ্ধে মানবতা জয়ী হয়েছে। এমন যে ভয়াবহ ক্যানসার, তারও প্রতিষেধক বেরিয়েছে। মার্কিন তাঁবেদারদের দিন দেশে দেশে শেষ হয়ে যাচ্ছে। ইতিহাস বদলাচ্ছে। আরও বদলাবে। ইমরান খানকে তাই বলি- তিষ্ঠ ক্ষণকাল। সুদিনের সূর্য উদয়ের অপেক্ষায়।

লন্ডন, ২৭ জুন, রোববার, ২০২১

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

গণমানুষের শিল্পী
ছোট নদীগুলো উদ্ধার করা হোক
করোনা মোকাবিলায় অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সরকারের ভূমিকা
যেভাবে বদলে যাচ্ছে দেশের সমাজ ও অর্থনীতি
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি-অনিয়ম
কানাডায় অভিবাসন: সামাজিক সমস্যার একাল-সেকাল

আরও খবর


close