বৃহস্পতিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ২৭.৪°সে

রাজধানী থেকে পালিয়েও রেহাই পেলেন না শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক :

সরকারবিরোধীদের বিক্ষোভ ও সহিংসতার মুখে শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাক্ষে ইতিমধ্যে তার পরিবার নিয়ে রাজধানী কলম্বোর বাসভবন ছেড়েছেন। এরপর তিনি দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিঙ্কোমালি শহরে একটি নৌঘাঁটিতে সপরিবার আশ্রয় নেন। কিন্তু তাও রেহাই মিলল না তার। ওই নৌঘাঁটিও ঘিরে রেখেছেন বিক্ষোভকারীরা। রাজধানী কলম্বো থেকে ওই নৌঘাঁটির দূরত্ব প্রায় ২৭০ কিলোমিটার। সেখানেও বিক্ষোভ চলছে।

গতকাল তুমুল বিক্ষোভের মুখে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য হন মাহিন্দা রাজাপাক্ষে। তবে তাতেও জনরোষ কমেনি। সোমবার রাতে হাজারো বিক্ষোভকারী রাজাপাক্ষের বাসভবনের মূল ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন। রাজাপাক্ষের বাসভবন প্রাঙ্গণে কমপক্ষে ১০টি পেট্রলবোমা ছোড়া হয়। বিক্ষোভকারী মাহিন্দা রাজাপাক্ষের ‘টেম্পল ট্রিজ’ নামক বাসভবনের মূল দোতলা ভবনে হামলার চেষ্টা করেন। তখন সেখানে থাকা পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাতে আটকা পড়েন। পরে আজ মঙ্গলবার ভোরের আলো ফোটার আগেই সেনা পাহারায় কলম্বোর সরকারি বাসভবন ছাড়েন মাহিন্দা রাজাপাক্ষে।

শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর আজ মঙ্গলবার সকালে রাজাপাক্ষের বাসভবনের সামনে একটি হেলিকপ্টার অপেক্ষা করার ভিডিও প্রকাশ করেছে। ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েকজনকে বিমানবাহিনীর ওই হেলিকপ্টারে ওঠানো হচ্ছে। তারা মাহিন্দা রাজাপাক্ষের পরিবারের সদস্য বলে মনে করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, মাহিন্দা রাজাপাক্ষে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিঙ্কোমালি শহরে একটি নৌঘাঁটিতে সপরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু তাও বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে রেহাই পাননি তিনি। ওই নৌ ঘাঁটিও ঘিরে রেখেছেন বিক্ষোভকারীরা।

গত শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। বিক্ষোভের লাগাম টানতে এরপর জারি করা হয় কারফিউ। আজ কারফিউ জোরদার করতে হাজারো সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

করোনার ধাক্কার পাশাপাশি সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক দুর্দশার মুখে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। কয়েক মাস ধরে খাবার, জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র সংকটে পড়েছে দেশটি। ব্যাপকভাবে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, চলছে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট। এ পরিস্থিতিতে সরকার পতনের দাবিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে।

অচলাবস্থা নিরসনে শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে মাহিন্দা রাজাপক্ষকে পদত্যাগ করতে বলেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাক্ষে। কিন্তু এরপরও বিক্ষোভ থামেনি।

ওদিকে, গতকাল সকালে দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে কয়েকটি বাসে প্রধানমন্ত্রীর হাজারো সমর্থক তার সরকারি বাসভবনের কাছে জড়ো হন। তখন মাহিন্দা রাজাপাক্ষে প্রায় তিন হাজার সমর্থকের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি তাদের ‘জাতির স্বার্থ রক্ষার’ প্রতিশ্রুতি দেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর সমর্থকেরা সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালান এবং তাদের তাঁবু ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় সরকারবিরোধী বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে আগুন ধরিয়ে দেন তারা। এতে আরও ক্ষেপে যায় বিক্ষোভকারী জনতা।

সংঘর্ষ থামাতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে রাজধানী কলম্বোতে কারফিউ জারি করা হয়। পরে দেশজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়। গণবিক্ষোভের মুখে একপর্যায়ে পদত্যাগ করেন মাহিন্দা।

কিন্তু এরপর সোমবার রাতে শ্রীলংকায় সরকার সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের জের ধরে ক্ষুব্ধ জনতা কারফিউ অমান্য করে পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাক্ষে এবং সরকার দলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য, প্রাদেশিক রাজনীতিবিদদের বাড়িঘর, দোকান এবং ব্যবসায় আগুন ধরিয়ে দেয়।

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সহিংসতায় ৭ জন নিহত এবং ২০০ জনেরও বেশি আহত হওয়ার পর আজ শ্রীলঙ্কায় সেনাবাহিনী ও পুলিশকে ওয়ারেন্ট ছাড়াই মানুষকে আটক করার জরুরি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

আজ প্রধানমন্ত্রীর ছোট ভাই রাষ্ট্রপতি গোতাবায়া রাজাপাক্ষের সরকার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই মানুষকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য সেনাবাহিনী এবং পুলিশকে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে।

এর ফলে সেনাবাহিনী কাউকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার আগে ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত আটকে রাখতে পারবে। ব্যক্তিগত যানবাহনসহ ব্যক্তিগত সম্পত্তি তল্লাশি করতে পারবে। মঙ্গলবার একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়, ‘পুলিশ অফিসারদের হাতে গ্রেপ্তার যে কোন ব্যক্তিকে নিকটস্থ থানায় নিয়ে যাওয়া হবে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও কাউকে গ্রেপ্তারের ২৪ ঘন্টার মধ্যে থানায় নিয়ে যাবে’।

তবে কিছু রাজনীতি বিশ্লেষক জরুরি ব্যবস্থার অপব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

কলম্বো ভিত্তিক সেন্টার ফর পলিসি অল্টারনেটিভস নামের থিঙ্ক ট্যাঙ্কের ভাবানি ফনসেকা বলেছেন, ‘যেখানে জরুরি অবস্থা এবং কারফিউ উভয়ই রয়েছে এমন পরিস্থিতিতে নিয়মগুলোর অপব্যবহার হবে না তা নিশ্চিত করার জন্য কে নজরদারি করতে পারবে?’

গত শুক্রবার থেকে শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। বিক্ষোভের লাগাম টানতে এরপর জারি করা হয় কারফিউ। গতকাল প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাড়ান মাহিন্দা রাজাপাক্ষে। এরপরও ক্ষোভ কমেনি মানুষের।

করোনার ধাক্কার পাশাপাশি সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক দুর্দশার মুখে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। কয়েক মাস ধরে খাবার, জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র সংকটে পড়েছে দেশটি। ব্যাপকভাবে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, চলছে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট। এ পরিস্থিতিতে সরকার পতনের দাবিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে।

অচলাবস্থা নিরসনে শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে মাহিন্দা রাজাপক্ষকে পদত্যাগ করতে বলেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাক্ষে। প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া সম্পর্কে মাহিন্দা রাজাপাক্ষের ছোট ভাই। এক যুগ আগে শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতাকামী তামিল টাইগারদের দমন করে দেশটিতে রাজাপাক্ষে পরিবারের আধিপত্য তৈরি করেছিলেন মাহিন্দা রাজাপাক্ষে।

রাজাপাক্ষেদের উত্থান শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা করেছিল। কিন্তু আর্থিক সংকট শ্রীলঙ্কাবাসীকে রাজাপাক্ষেদের বিরুদ্ধে পথে নামিয়ে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাক্ষের সরকারে শুধু তার নিজের পরিবারের সাত সদস্য ছিলেন। গোতাবায়ার ভাই মাহিন্দা রাজাপাক্ষে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

The Prime Minister of Sri Lanka was not spared even after fleeing from the capital

Online Desk:

Former Sri Lankan Prime Minister Mahinda Rajapaksa has already left his home in the capital Colombo with his family in the face of anti-government protests and violence. He then took refuge with his family at a naval base in the northeastern city of Trincomalee. But he was not spared. The protesters also surrounded the naval base. The distance from the capital Colombo to the naval base is about 260 kilometers. Protests are also going on there.

Mahinda Rajapaksa was forced to resign as Sri Lanka’s prime minister in the face of violent protests yesterday. However, public anger did not abate. On Monday night, thousands of protesters broke through the main gate of Rajapaksa’s residence and stormed inside. At least 10 petrol bombs were hurled at the Rajapaksa residence. Protesters tried to attack the main two-storey building of Mahinda Rajapaksa’s ‘Temple Tree’ residence. The then resigned Prime Minister was trapped in the night with his family members. Later, Mahinda Rajapaksa left the official residence of Colombo under army guard before dawn on Tuesday.

Sri Lankan media Daily Mirror released a video of a helicopter waiting in front of Rajapaksa’s residence on Tuesday morning. In the video, it is seen that some people are being taken in the helicopter of the air force. They are believed to be members of Mahinda Rajapaksa’s family.

According to NDTV, Mahinda Rajapaksa has taken refuge with his family at a naval base in the northeastern city of Trincomalee. But he did not escape the hands of the protesters. The protesters also surrounded the naval base.

A state of emergency was declared in Sri Lanka from midnight on Friday. A curfew was then imposed to quell the protests. Thousands of troops and police were deployed today to enforce the curfew.

Sri Lanka is facing the worst economic crisis in the history of the country due to some wrong decisions of the government along with the coronation. The country has been in a severe food, fuel and medicine crisis for months. Inflation has risen sharply, power outages continue. In this situation, protests have been going on in the country for more than a month demanding the fall of the government.

Mahinda Rajapaksa was asked by Sri Lankan President Gotabaya Rajapaksa to resign at a cabinet meeting on Friday to resolve the stalemate. But the protests did not stop.

Meanwhile, thousands of PM’s supporters gathered near his official residence on several buses from remote areas of the country yesterday morning. Then Mahinda Rajapakse addressed about three thousand supporters. He promised to ‘protect the interests of the nation’. Later, supporters of the prime minister stormed a rally on Friday, removing hundreds of protesters by truck. At that time, they set fire to various anti-government banners and placards. This further angered the protesting crowd.

Police used tear gas and water cannons to stop the clash. A curfew was immediately imposed in the capital, Colombo. Curfew was later imposed across the country. Mahinda resigned at one stage in the face of mass protests.

But then on Monday night in Sri Lanka, angry Prime Minister Mahinda Rajapaksa and some members of the ruling party set fire to the homes, shops and businesses of provincial politicians who had resigned in defiance of the curfew.

Sri Lanka’s military and police have been given emergency powers to detain people without a warrant after anti-government protests killed eight people and injured more than 200.

Today, the government of President Gotabaya Rajapaksa, the younger brother of the prime minister, has given the army and police extensive powers to detain and interrogate people without an arrest warrant.

This will allow the army to detain anyone for up to 24 hours before handing them over to the police. Can search personal property including personal vehicles. This power was given in a gazette notification on Tuesday.

It said, “Any person arrested by the police officers will be taken to the nearest police station.” Members of the armed forces will also take someone to the police station within 24 hours of arrest.

But some political analysts have also expressed concern about the potential for misuse of the emergency system.

“Who can monitor the situation to ensure that the rules are not abused in situations where there is both a state of emergency and a curfew?”

A state of emergency has been declared in Sri Lanka since last Friday. A curfew was then imposed to quell the protests. Mahinda Rajapaksa stepped down as Prime Minister yesterday. Even then the anger of the people did not abate.

Sri Lanka is facing the worst economic crisis in the history of the country due to some wrong decisions of the government along with the coronation. The country has been in a severe food, fuel and medicine crisis for months. Inflation has risen sharply, power outages continue. In this situation, protests have been going on in the country for more than a month demanding the fall of the government.

Mahinda Rajapaksa was asked by Sri Lankan President Gotabaya Rajapaksa to resign at a cabinet meeting on Friday to resolve the stalemate. Mahinda Rajapaksa’s younger brother about President Gotabaya. A decade ago, Mahinda Rajapaksa created a family domination in the country by suppressing the independence-loving Tamil Tigers of Sri Lanka.

The rise of the Rajapaksas ushered in a new era in Sri Lankan politics. But the financial crisis has turned the Sri Lankans against the Rajapaksas. There were only seven members of his own family in the government of President Gotabaya Rajapaksa. Gotabaya’s brother Mahinda Rajapaksa was the Prime Minister.

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

২৪ আগস্ট শ্রীলংকায় ফিরে আসছেন গোতাবায়া রাজাপাকসে
জাতিসংঘ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক
গার্ডার দুর্ঘটনা: ক্রেনচালকসহ ৯ জন গ্রেফতার
বাংলাদেশ সংকটের মধ্যে নেই: আইএমএফ
জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তরুণ সমাজ দেশকে এগিয়ে নেবে: স্পিকার
যুক্তরাষ্ট্রে ১০ হাফেজ ছাত্রকে পাগড়ি প্রদান

আরও খবর


close