রবিবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১০.৯১°সে

নতুন আশায় দীর্ঘদিনের নিষ্কিয় কুমিল্লার বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হয়ে ওঠেছেন

ভিওএনজে:  নতুন বছরের শুরুতেই পুঁজিবাজারের বড় উত্থান দিয়ে লেনদেন শুরু হয়েছে। মুলত ২০১০ সালের ভয়াবহ ধসের এক দশক পরে গতি এসেছে পুঁজিবাজারে। একদিনে করোনা অতিমারীর কারণে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সঙ্কুচিত হওয়া, ব্যাংক আমানতে সুদের হার কমে যাওয়া, সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি এবং পুঁজিবাজারে নিঃশর্তে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ায় পুঁজিবাজার নিয়ে সব ধরনের মানুষের আগ্রহও দেখা যাচ্ছে। নতুন আশায় দীর্ঘদিনের নিষ্কিয় বিনিয়োগকারীরাও আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেছেন পুঁজিবাজারে। গতকাল বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে কুমিল্লা এনসিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ ফিনান্সিয়াল সার্ভিস লিমিটেডে বিনিয়োগকারী উপচেপড়া ভিড় বলে দিয়েছে পুঁজিবাজার আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেছে।
বিনিয়োগকারী আনোয়ারুজ্জামান সুমন বলেন, বিনিয়োগের বিষয়ে জানার জন্য পর্যাপ্ত সময় নিন, যদিও প্রথমদিকে বিষয়টি বিরক্তিকর মনে হতে পারে। এক্ষেত্রে বিনিয়োগ বলতে কোনো কোম্পানির আংশিক শেয়ার কেনার বিষয় বোঝানো হচ্ছে। কোম্পানিগুলো সম্পর্কে এবং তারা কীভাবে ব্যবসা করে তা সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বিনিয়োগ একটি দীর্ঘ ভ্রমণের মতো, যেখানে আপনি যত শিখবেন এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন, ততই উন্নতি করতে থাকবেন। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ স্বল্পকালীন মুনাফা অর্জনের জন্য নয়। এটি আপনার ভবিষ্যতকে সুরক্ষিত রাখার একটি উপায় এবং যেটি নিশ্চিত করতে পারে যে অবসর গ্রহণের পরেও যেন আপনি উচ্চমানের জীবনযাপন উপভোগ করতে পারেন। যখন আপনি সময় দেবেন এবং বুঝতে পারবেন যে বিনিয়োগ আপনার ব্যক্তিগত লক্ষ্য অর্জনের সাথে আবদ্ধ, তখন তা আপনাকে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগের জন্য আরও বেশি অনুপ্রাণিত করে তুলবে। আনোয়ারুজ্জামান সুমন বলেন,এক সময় এসিআই শেয়ার ১২শ থেকে ১৩শ টাকা ছিল। বর্তমানে ২৬৪ থেকে ২৬৬ টাকা লেনদেন হচ্ছে। এসিআই শেয়ারের মূল্য যে আগের দামে ফিরে যাবে না,সে সম্ভাবনাকে একবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না এ-ই অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী। বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এই কোম্পানীর শেয়ার ট্রেড হয়েছে ১লাখ ৩৬ হাজার। তিনি বলেন,সুধু এসিআই কেন যে কোন ভালো শেয়ার সময়ের সাথে সাথে বিনিয়োগ থেকে মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়।
উদাহরণস্বরূপ, আপনি আপনার দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় যদি ২০১৬ সাল থেকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে থাকেন, তাহলে আপনি ভালো মুনাফা লাভ করেছেন, যেহেতু বাজারের অবস্থা বেশ ভালো ছিল। এমনকি বর্তমানে ২০১৮-তে বাজারের পতনে আপনি এখনো তুলনামূলক ভালো অবস্থানে আছেন। সব বাজারেই উত্থান-পতন রয়েছে। বাজারে পতন ঘটার মানে এই নয় যে আপনি আপনার সব অর্থ তুলে নিয়ে আসবেন। বরং মনে রাখতে হবে, বাজার পতন নতুন একটি বিনিয়োগের সম্ভাবনা উন্মুক্ত করে আপনার জন্য।
পুঁজিবাজারে যে সবসময় উর্ধ্বগতি থাকবে এমনটাও নয়, প্রতি বছরই কিছু দিন এবং মাস থাকে যখন সর্বোচ্চ লেনদেন হয়ে থাকে এবং বাজার যখন ঘুরে দাঁড়ায় এই দিনগুলোতেই সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীগণ সাধারণত এই দিন এবং মাসগুলো পেয়ে থাকেন। স্বল্পমেয়াদী বিনিয়োগকারীগণ দেখা যায় পুরোটি বছর এই দিন এবং মাসগুলোকে খুঁজে বেড়ান এবং অনেক ক্ষেত্রেই ধৈর্যের অভাবে পুঁজি হারিয়ে ফেলেন। আমাদের মনে রাখতে হবে, পুঁজিবাজারে লম্বা দৌড়ের ঘোড়া হলে তবেই টিকে থাকা সম্ভব এবং সময়ের সাথে সাথে অধিক অর্থ মুনাফা করা সম্ভব। প্রথমদিকে বিনিয়োগ করার সময় কিছুটা ভীতি কাজ করতে পারে। তবে একজন নতুন বিনিয়োগকারী হিসেবে পুঁজিবাজার থেকে আপনি কী কী প্রত্যাশা করতে পারেন সেই বিষয়গুলো আপনার জানা থাকলে তা আপনার বিনিয়োগে সহায়ক হবে। সর্বোপরি, বিনিয়োগের কৌশল শিখতে হবে, যথাযথভাবে সেগুলো অনুশীলন করতে হবে এবং নিজেকে একজন দক্ষ বিনিয়োগকারী হিসেবে তৈরি করতে যথেষ্ট পরিমাণ সময় দিতে হবে।
বিনিয়োগকারী বাবুল কুমার দাস বলেন, আমি ১২ বছর ধরে পুঁজিবাজারে সাথে জড়িত। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী উদ্দ্যেশ বলব বিনিয়োগের বিষয়ে জানার জন্য পর্যাপ্ত সময় নিন, যদিও প্রথমদিকে বিষয়টি বিরক্তিকর মনে হতে পারে। এক্ষেত্রে বিনিয়োগ বলতে কোনো কোম্পানির আংশিক শেয়ার কেনার বিষয় বোঝানো হচ্ছে। কোম্পানিগুলো সম্পর্কে এবং তারা কীভাবে ব্যবসা করে তা সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন বিনিয়োগ একটি দীর্ঘ ভ্রমণের মতো, যেখানে আপনি যত শিখবেন এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন, ততই উন্নতি করতে থাকবেন। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ স্বল্পকালীন মুনাফা অর্জনের জন্য নয়। এটি আপনার ভবিষ্যতকে সুরক্ষিত রাখার একটি উপায় এবং যেটি নিশ্চিত করতে পারে যে অবসর গ্রহণের পরেও যেন আপনি উচ্চমানের জীবনযাপন উপভোগ করতে পারেন। যখন আপনি সময় দেবেন এবং বুঝতে পারবেন যে বিনিয়োগ আপনার ব্যক্তিগত লক্ষ্য অর্জনের সাথে আবদ্ধ, তখন তা আপনাকে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগের জন্য আরও বেশি অনুপ্রাণিত করে তুলবে।
বিনিয়োগকারী আবুল খায়ের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদেও উদ্দ্যেশ বলেন, প্রায়ই দেখা যায়, ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজার সম্বন্ধে পরিপূর্ণ জ্ঞান না থাকা সত্তে¦ও নিজস্ব কিছু ধ্যান-ধারণায় এগোতে থাকেন। এক্ষেত্রে আবেগের কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ঘোলাটে হয়ে যায়। আপনি যদি পুঁজিবাজারের অস্থিতিশীলতা বা তদসম্পর্কিত খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে স্টক কেনাবেচার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে হয়তো আপনার প্রত্যাশার চেয়ে অধিক অর্থ হারাতে হতে পারে। আপনি যদি পুঁজিবাজারের অস্থিতিশীলতা বা এ ধরনের যেকোনো সংবাদে নিজেকে শান্ত রেখে আবেগকে নিয়ন্ত্রত করতে পারেন, তবে তা আপনার পুঁজি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

৪৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো রিজার্ভ
বিশ্বের যে কোনো দেশ থেকে অনলাইনেই খোলা যাবে বিও অ্যাকাউন্ট
শেয়ারবাজারে অস্বাভাবিক দরপতন।। সংশ্লিষ্টরা বলছেন খতিয়ে দেখা উচিত
আখাউড়া বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
দেশে ঋণখেলাপি ৩ লাখ: অর্থমন্ত্রী
পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ২

আরও খবর