সোমবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৭.৪৭°সে

হবিগঞ্জে ৮ হাজার প্রিপেইড মিটার লক, দুর্ভোগ চরমে

হবিগঞ্জে আট হাজার পোস্ট পেইড থেকে প্রিপেইড মিটার সেবা গ্রহণকারী গ্রাহকদের মিটার লক করে দেওয়া হয়েছে। মিটার লক করে দেওয়ায় টাকা রিচার্জ করতে সমস্যা হচ্ছে। টাকা  রিচার্জ না হওয়ায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ।
বিদ্যুৎ বিভাগের হঠাৎ এ ধরনের অভিযানে বিপাকে পড়েছেন প্রিপেইড মিটার গ্রহণকারী গ্রাহকরা। কোনো ধরনের প্রচার প্রচারণা কিংবা নোটিশ না দিয়ে হবিগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগ গ্রাহকদের দুর্ভোগে ফেলেছেন বলে অভিযোগ করছেন সাধারণ গ্রাহকরা। তাই কোনো উপায়ান্তর না দেখে দৌড়ঝাঁপ করছেন বিদ্যুৎ অফিসে।
অনেক অভিযোগকারী জানান, কি কারণে আমাদের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া আছে আমরা জানি না।আমরা সব হিসেব শেষ করে প্রিপেইড সংযোগ গ্রহণ করেছিলাম। বিদ্যুৎ অফিস হঠাৎ আমাদের কোনো কিছু না জানিয়ে মিটার লক করে হয়রানি করছে।
টুবলু দাশ নামে একজন অভিযোগকারী জানান, আমি মিটারে টাকা রিচার্জ করতে পারছি না। খবর নিয়ে জানলাম আমার মিটার লক করে দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
তিনি বলেন, পোস্ট পেইড থেকে প্রিপেইড সংযোগ নেওয়ার আগে পুরাতন মিটারে আমার অনেক বিদ্যুৎ ইউনিট পাওনা ছিল। সে হিসেবে আমার বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে টাকা পাওনা আছে। আমি প্রিপেইডের নিয়মিত গ্রাহক হিসেবে টাকা রিচার্জ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করি। আমার জানা মতে কোনো বকেয়া বিল নাই। এখন প্রায় দুই বছর পর হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে আমার নাকি বিল বকেয়া আছে। অফিসে এসে জানলাম আমার ৬৮৪ টাকা বকেয়া। এ টাকা জমা দিলে লক খুলে দিবে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ ক্রয় ও বিতরণ বিভাগ বলছে, পোস্ট পেইড থেকে প্রিপেইড মিটার সেবা গ্রহণকারী গ্রাহকরা তাদের পোস্ট পেইড সংযোগ বিদ্যুৎ অফিসে এসে নিজ দায়িত্বে বিচ্ছিন্ন না করার কারণে তাদের বকেয়া পাওনা রয়ে গেছে।
অনেক গ্রাহক প্রিপেইড মিটার নিয়ে পোস্ট পেইড সংযোগ এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন যার কারণে ঐ গ্রাহকদের মিটার লক করে দেওয়া হয়েছে।
অনেক গ্রাহক আছেন যারা পুরাতন মিটার ব্যবহার করছেন না কিন্তু উনারা পুরাতন মিটার সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার কারণে বিল বকেয়া আছে এক্ষেত্রে  চার থেকে ছয় মাসের ডিমান্ড চার্জের টাকা জমা হয়েছে। এগুলোও বকেয়া পাওনা হিসেবে কর্তৃপক্ষের ডাটাবেজে সংযুক্ত হয়েছে। এ কারণে প্রিপেইড মিটার লক করে দেওয়া হয়েছে।
হবিগঞ্জ বিদ্যুৎ ক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলি আব্দুল মজিদ জানান, হবিগঞ্জে প্রায় ১৯ হাজার পোস্ট পেইড থেকে প্রিপেইড মিটারের গ্রাহক আছেন। তাদের মধ্যে আট হাজার গ্রাহকের বকেয়া বিল রয়ে গেছে যা টাকার অংকে প্রায় ৪০ কোটি টাকা।
কোনো ধরণের আইনি নোটিশ কিংবা বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে মিটার লক করার বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলি জানান, আমাদের ডাটাবেইজে যে গ্রাহকদের বকেয়া বিলের তালিকায় নাম আছে তাদের সবার জন্য এ ব্যবস্থা করেছি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে। গ্রাহকদের অফিসে এসে বকেয়া পাওনা বুঝে তা শোধ করলেই পুনরায় মিটার লক খুলে দেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

৯০ টাকার স্যালাইন ৪০০ টাকা!
অদম্য পিতার মানবিক গল্প হার মানিয়েছে সমস্ত মানবিকতাকে
পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে নারী চিকিৎসকের বাকবিতণ্ডা
পুলিশের কাছে তিন বিয়ের কথা স্বীকার মামুনুলের
৩৬ লাখ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী
হেফাজতের বিরুদ্ধে বিবৃতিতে যা বললেন ৬২ আলেম

আরও খবর