বুধবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ৬.৬১°সে
সর্বশেষ:

সংকটে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

করোনার জন্য দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান সাধারণ ছুটি আরও ৩৫ দিন বাড়ানো হয়েছে। ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এ ছুটি।এ সময়ে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক অনলাইনে ও সরাসরি যোগাযোগ রাখতে শিক্ষকদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত ছিল এ ছুটি।

এদিকে ছুটি বৃদ্ধির ফলে আগামী বছরের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সংকট আরও বেড়ে গেছে। সাধারণত প্রতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি এবং এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা হয়।

এসএসসির শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের কাজ হয়ে থাকে নভেম্বরে। আর ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের একই কাজ হয়ে থাকে। ছুটি বাড়ানোর কারণে এ দুটি কাজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে আগামী বছরের পরীক্ষা দুটিও পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, এ সময়ে বোর্ডগুলো পরবর্তী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে কাজ করে থাকে।

নতুন ছুটির বিষয়টি সামনে আসায় আগামী বছরের এ দুটি পরীক্ষা নিয়ে নতুনভাবে পরিকল্পনা করা হবে। এক্ষেত্রে তাদের অসম্পূর্ণ শ্রেণিকাজ, লেখাপড়া, বিভিন্ন পরীক্ষা ইত্যাদি বিবেচনায় আসবে।

পরীক্ষা পেছানো হবে কিনা সে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো চিন্তা করা হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পর এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. মশিউজ্জামান বলেন, যৌক্তিক কারণেই এসএসসি ও এইচএসসির সিলেবাস-শিক্ষাক্রম কমানোর সুযোগ নেই। সে ক্ষেত্রে গোটা পাঠ্যবই শেষ করেই পরীক্ষা হওয়া বাঞ্ছনীয়।

করোনায় ক্লাস না হওয়ায় এখন সিলেবাস শেষ করতে কতদিন লাগবে সেটা হয়তো স্কুল-কলেজ খোলার পর বলা যাবে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পর শিক্ষার্থীদের অধ্যয়ন এবং মূল্যায়ন শেষে পরীক্ষা বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে। এ কারণে ইতোমধ্যে চলতি বছরের পিইসি, জেএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হয়েছে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা।

পিইসি এবং জেএসসি পরীক্ষার্থীসহ অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিশেষ মূল্যায়নে নতুন ক্লাসে পদোন্নতির পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের ১ নভেম্বর থেকে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের আলোকে ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ (বাড়ির কাজ) দেয়া শুরু হয়েছে।

প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্যও বিশেষ সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। এসব সিলেবাস তৈরির সময় শিক্ষার্থীদের বয়স অনুযায়ী জ্ঞান এবং দক্ষতা অর্জনের দিকে নজর দেয়া হয়েছে।

আর এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের গ্রেড দেয়া হবে তাদের জেএসসি ও এসএসসিতে অর্জিত ফলের ভিত্তিতে। এসব শিক্ষার্থীর ফল তৈরির কাজ চলছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা যথাসময়ে না হওয়ার শঙ্কা আছে। কেননা, দীর্ঘ ছুটির কারণে সংকট তৈরি হয়েছে আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে। আরও ৩৫ দিন ছুটি ঘোষণা করায় এসব শিক্ষার্থীর শ্রেণি কার্যক্রমের সময় দাঁড়াল ৯ মাস।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

বাংলাদেশে এইডস রোগী মারা গেছেন ১৪১ জন শনাক্ত ৬৫৮
পার্বত্য শান্তিচুক্তি বিশ্বে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে: রাষ্ট্রপতি
দেশের ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা হবে
সিলেটে শক্তিশালী বিস্ফোরক দ্রব্য আসে ভারত থেকে! আটক ১
যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাদণ্ড অর্থাৎ স্বাভাবিক মৃত্যু পর্যন্ত:আদালত
২৮ স্বর্ণের বারসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

আরও খবর