বৃহস্পতিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ২৮.৮৩°সে

আজ পদ্মার উৎসবে মাতবে পুরো বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক:

নানা চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে প্রমত্তা নদীর বুকে নির্মিত দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু মহাধুমধামে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামীকাল (২৫ জুন)। এদিন সকাল ১০টায় মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এরপর সরকারপ্রধান পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে জাজিরা প্রান্তে যাবেন এবং সেখানে উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন।পদ্মা সেতু নির্মাণ

উদ্বোধনের পর সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভার মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে সেতুর আদলেই। মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের বাংলাবাজার ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ঘাটে পদ্মা নদীর পাড়ে আয়োজন করা হচ্ছে এ জনসভা। প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষের জন্য ১৫ একর জায়গাজুড়ে চলছে জনসভার প্রস্তুতি। নারীদের জন্য থাকছে আলাদা বসার ব্যবস্থা। বিশাল এই জনসভায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ যোগ দেবে।পদ্মা সেতু নির্মাণ

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, অনুষ্ঠানটি হবে একটি ঐতিহাসিক আয়োজন এবং এতে প্রায় ১০ লাখ লোক অংশ নেবে।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে আগামীকালের এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক দিনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে পুরো দেশ। স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের দিনে সারা দেশ উৎসব, আনন্দ, উল্লাসে মেতে উঠবে। এ জন্য বর্ণিল সাজে সেজেছে পুরো দেশ। জেলায় জেলায় সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ নানা আয়োজন করেছেন এই দিনে। ইতোমধ্যেই দেশের ৬৪টি জেলায় জেলা প্রশাসন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। কাল পদ্মাপারে মূল উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সঙ্গে ৬৪ জেলাও সঙ্গী হবে। পদ্মা সেতু সংক্রান্ত বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো দেশ।আলোকসজ্জা করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক, সেতু ও সরকারি ভবনে।পদ্মা সেতু নির্মাণ

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন নিয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসছেন পদ্মাপারের মানুষ থেকে শুরু করে দক্ষিণের ২১ জেলার মানুষ। পথে-ঘাটে, চায়ের কাপে, আড্ডায়-আলোচনায় সেই আনন্দেরই অনুরণন। চোখেমুখে স্বপ্নপূরণের আলোকছটা।পদ্মা সেতু নির্মাণ

প্রাণের সে উৎসবের ছটা পড়েছে সবখানে। সড়ক-মহাসড়ক, রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও অলিগলি ছেয়ে গেছে পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড আর তোরণে। যতদূর চোখ যায় যেন রঙের ছড়াছড়ি। বিভিন্ন স্থানে করা হয়েছে আলোকসজ্জা। মরিচবাতিতে উজ্জ্বল সেতু, নৌকা আর জাতীয় পতাকার প্রতিকৃতি।পদ্মা সেতু নির্মাণ

মাওয়া প্রান্তে সেতু উদ্বোধনের পর সেতু পেরিয়ে দক্ষিণ প্রান্তে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতুর আদলে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল নান্দনিক মঞ্চ। শুধু কি মঞ্চ, জনসভার পুরো এলাকাই যেন সাজে রঙিন।

নিরাপত্তাজনিত কারণে জনসভা মঞ্চ, পদ্মা সেতু ও এর ভায়াডাক্ট এবং আশপাশের এলাকায় বৃহস্পতিবার সাধারণ মানুষকে ভিড়তে দেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।পদ্মা সেতু নির্মাণ

কিন্তু উচ্ছ্বাসে ভাসা মানুষকে ঠেকাবে কে! যত কাছে যাওয়া যায়-সে নদী হয়ে বা সড়কে, মানুষ ছুটে এসেছেন, তুলেছেন ছবি। দূরে হলেও পদ্মাপারে তাই ছিল হাজারো পদচিহ্ন।পদ্মা সেতু নির্মাণ

রাজধানী ঢাকাও সেজেছে দারুণ সাজে। সরকারি-বেসকারি প্রতিষ্ঠানসহ পুরো রাজধানীই সেজেছে ব্যানার, ফেস্টুন আর আলোকসজ্জায়। সেসব ব্যানার, ফেস্টুনে শোভা পাচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের বার্তা। রাজধানীর হাতিঝিলও সেজেছে দারুণ আলোকসজ্জা আর ব্যানার-ফেস্টুনে। হাতিরঝিলে ঘুরতে আসা মানুষজন এসবের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। কেউ কেউ সেলফি নিয়ে পোস্ট করছেন ফেসবুকে। কমেন্টে জানাচ্ছেন আনন্দ আর উচ্ছ্বাস।পদ্মা সেতু নির্মাণ

বাঁধ ভাঙা উল্লাসে দক্ষিণবঙ্গের মানুষজন। তারা বলছেন, আমাদের যাদের পদ্মার ওপারে বাড়ি তারা জানি এই সেতু আমাদের জন্য কতটা আশীর্বাদের। কত মানুষের সারা জীবনের কষ্ট লাঘব হবে এই সেতুর কারণে। এই সেতুর উদ্বোধন চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে আমাদের কাছে।পদ্মা সেতু নির্মাণ

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতু নির্মাণে কাজ ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর শুরু করে সরকার। মূল সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় মাওয়া প্রান্তে ৬ নম্বর পিলারের কাজ দিয়ে। ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির আয়ুষ্কাল ১০০ বছর।পদ্মা সেতু নির্মাণ

সেতু চালুর পরপরই বদলে যাবে দেশের অর্থনীতি। পদ্মা সেতু হওয়ার ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক হারে শিল্পায়ন হবে এবং লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। বিশেষ করে কৃষিতে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। সেই সঙ্গে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ব্যাপক হারে পরিবর্তন সাধিত হবে। উৎপাদিত কৃষি পণ্য দ্রুত পরিবহণের ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে যাবে। এতে প্রতি বছর দারিদ্র্য নিরসন হবে ০ দশমিক ৮৪ ভাগ। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার প্রায় ছয় কোটি মানুষের। একইসঙ্গে পরোক্ষভাবে পুরো দেশই এই পদ্মা সেতুর সুফল পাবে।পদ্মা সেতু নির্মাণ

Today, the whole of Bangladesh is in the throes of Padma festival

Online Desk:

The long awaited Padma Bridge, the country’s largest infrastructure built on the banks of the Pramatta River, is set to be inaugurated tomorrow (June 25). Prime Minister Sheikh Hasina will unveil the inaugural plaque of the Padma Bridge at 10 am on the same day.Construction of Padma bridge

After the inauguration, Prime Minister Sheikh Hasina will hold a public meeting at Kanthalbari Ghat at the southern end of the bridge. The meeting stage is being built in the shape of a bridge. The public meeting is being organized on the banks of the river Padma at Ilias Ahmed Chowdhury Ghat in Banglabazar of Kanthalbari Union in Madaripur. Preparations are underway for a public meeting on 15 acres of land for more than 10 lakh people. There is a separate seating arrangement for women. Millions of people from different parts of the country will attend this huge public meeting.Construction of Padma bridge

Awami League presidium member Jahangir Kabir Nanak said the event would be a historic event and would be attended by about one million people.

The whole country is going to witness a glorious historical day tomorrow around the inauguration of the Padma Bridge. On the day of inauguration of the dream Padma Bridge, the whole country will rejoice. The whole country is dressed in colorful outfits for this. Apart from government institutions and the ruling Awami League, various organizations and the general public have organized various events in the district on this day. The district administration has already organized programs in 64 districts of the country. Tomorrow, 64 districts will also accompany the main inauguration ceremony at Padmapar. The whole country is littered with various banners, festoons and posters related to the Padma Bridge. Important roads, highways, bridges and government buildings have been illuminated.Construction of Padma bridge

With the inauguration of the Padma Bridge, the people of 21 districts in the south are floating in excitement. Echoes of that joy in the streets, in the cups of tea, in the conversations. The light of dream fulfillment in the eyes.Construction of Padma bridge

The festival of life has spread everywhere. Roads, highways, roads, markets and alleys are littered with posters, banners, billboards and arches. As far as the eye can see. Illumination has been done in different places. Bright bridges, boats and portraits of the national flag in the pepper lamp.Construction of Padma bridge

After inaugurating the bridge at the end of Mawa, Prime Minister Sheikh Hasina will address a public meeting at Kanthalbari Ghat at the southern end. A huge aesthetic stage has been built there in the style of Padma bridge. Just what the stage, the whole area of ​​the public meeting seems to be colorful.

Due to security concerns, members of the law enforcement agencies did not allow the public to gather at the Jansabha Mancha, Padma Bridge and its viaducts and surrounding areas on Thursday.Construction of Padma bridge

But who will stop the people floating in excitement! As close as possible – whether it’s a river or a road, people come running, take pictures. Even though it was far away, there were thousands of footprints in Padmapar.Construction of Padma bridge

The capital Dhaka is also well decorated. The entire capital, including public and private institutions, is decorated with banners, festoons and lighting. Those banners and festoons are adorned with the message of the inauguration of the dream Padma Bridge. Hatijheel of the capital is also decorated with great lighting and banners and festoons. People who have come to visit Hatirjheel are standing in front of these and taking pictures. Some people are posting selfies on Facebook. Joy and excitement in the comments.Construction of Padma bridge

The people of South Bengal rejoice at the breaking of the dam. They say those of us who live on the other side of the Padma know how blessed this bridge is for us. How many lives will be alleviated because of this bridge. The inauguration of this bridge will be forever memorable to us.Construction of Padma bridge

The government started the construction work of the 6.15 km long Padma bridge on December 6, 2014. The construction work of the main bridge started with the work of Pillar No. 6 at the end of Mawa. Built at a cost of Tk 30,193.39 crore, the lifespan of the bridge is 100 years.Construction of Padma bridge

The country’s economy will change soon after the bridge is launched. As a result of the Padma Bridge, there will be massive industrialization in the southern part of the country and employment of millions of people. Revolutionary changes will come especially in agriculture. At the same time, the agro-based economy will change at a massive rate. Rapid transportation of agricultural produce will increase the GDP growth rate by 1.2 percent. This will reduce poverty by 0.84 percent every year. Socio-economic development will happen to about six crore people in 21 districts of the southern part of the country. At the same time, the whole country will indirectly benefit from this Padma bridge.Construction of Padma bridge

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

২৪ আগস্ট শ্রীলংকায় ফিরে আসছেন গোতাবায়া রাজাপাকসে
জাতিসংঘ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক
গার্ডার দুর্ঘটনা: ক্রেনচালকসহ ৯ জন গ্রেফতার
শৈলকুপায় হাতুড়িপেটা করে হত্যা : ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
সাংবাদিককে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম কমলো

আরও খবর


close