বৃহস্পতিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ২৯.২°সে

নেত্রকোণার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ

নেত্রকোণা প্রতিনিধি:

টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, বারহাট্টা ও খালিয়াজুরী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে নেত্রকোণা জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা দূর্গাপুর, কলমাকান্দা, বারহাট্টা ওখালিয়াজুরী উপজেলার ৬৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে অসংখ্য রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। অসংখ্য পুকুর পানিতে তলিয়ে ভেসে গেছে মাছ। সবচেয়ে বেশী খারাপ অবস্থা কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, বারহাট্টা ও খালিয়াজুরী উপজেলার। বন্যায় গ্রামীন সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ও বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাওয়ায় বিভিন্ন ইউনিয়নের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় সাড়ে ১০ লাখের বেশি মানুষ। বানভাসী মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বানভাসী সাধারণ মানুষের অভিযোগ, তারা প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী পাচ্ছেনা।

স্থানীয় প্রশাসন বন্যা দুর্গতদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৩২৯টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছে। এ সব আশ্রয় কেন্দ্রে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯২৩ জন আশ্রয় নিয়েছে।
নেত্রকোণা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত জানান, টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে নেত্রকোণা জেলার কংশ নদীর জারিয়া পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে, কলমাকান্দা উপজেলার উব্দাখালি ও মহাদেও নদীর পানি বিপদসীমার ৮৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। খালিয়াজুরীর ধনু নদের পানি ৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে আর সোমেশ্বরী নদীর বিজয়পুর পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২৫৯ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে, দুর্গাপুর পয়েন্টে ৩১২ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ ও ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরী সমন্বিতভাবে নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার বন্যা কবলিত বিভিন্ন স্থান ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে পুনর্বাসিত মানুষের সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করেন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও ত্রান সামগ্রী বিতরণ করেন।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোণার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী, খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন খন্দকার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, সেনাবাহিনীর সদস্যবৃন্দ।

এ ব্যাপারে নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, জেলায় বন্যা দুর্গতদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১৩ লাখ নগদ টাকা, ৩৩৩ মেট্রিক টন চাল ও ৪ হাজার ৯৫০ শুকনো খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ হয়েছে। এর মধ্যে বন্যাদুর্গত লোকজনের মাঝে ১৩১ মেট্রিক টন চাল, ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা ও ২ হাজার ৩০০ শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে।

The flood situation in Netrokona is unchanged, human suffering is increasing

Netrokona Representative:

The flood situation in Kalmakanda, Durgapur, Barhatta and Khaliajuri upazilas of Netrokona district has remained unchanged due to continuous heavy rains and steep slopes coming down from the upper reaches.

Talking to locals and administration, it was learned that 63 unions of Durgapur, Kalmakanda, Barhatta and Okhaliajuri upazilas bordering Netrokona district have been inundated due to continuous heavy rains and hill slopes coming down from upstream. Numerous roads, houses, businesses and educational institutions have been submerged in the flood waters. Numerous ponds have been submerged and fish have been washed away. The worst situation is in Kalmakanda, Durgapur, Barhatta and Khaliajuri upazilas. Due to the floods, rural roads have been submerged and broken in different places, disrupting road communication with various unions. More than one and a half million people have been flooded. The misery of the Banavasi people has reached its peak. Banavasi ordinary people complain that they are not getting the necessary relief materials.

The local administration has opened 329 shelters in different unions of the district to alleviate the suffering of the flood victims. 1 lakh 15 thousand 923 people have taken shelter in all these shelters.
ML Saikat, executive engineer of Netrokona Water Development Board, said that due to heavy rains and steep slopes, water of Kangsh river in Netrokona district is flowing at 20 cm above Zaria point, Ubdakhali and Mahadeo rivers of Kalmakanda upazila are flowing at 8 cm above danger level. The water of Dhanu river of Khaliajuri is flowing at 80 cm and at Vijaypur point of Someshwari river it is flowing at 259 cm below the danger level and at Durgapur point it is flowing at 312 cm below.

Netrokona Deputy Commissioner Anjana Khan Majlish and GOC of 19th Infantry Division Major General Naqib Ahmed Chowdhury jointly visited various flood affected places and shelters in Khaliajuri upazila of Netrokona district. During this time, they supervised the overall situation of the rehabilitated people in the shelters and distributed dry food and relief items among the flood-affected families.

He was accompanied by Netrokona Superintendent of Police Akbar Ali Munshi, Khaliajuri Upazila Nirbahi Officer AHM Ariful Islam, Assistant Commissioner (Land) Yasin Khandaker, Officer-in-Charge of the police station Mujibur Rahman and other officials.

When contacted by Netrokona Deputy Commissioner Anjana Khan Majlish, she said the government has so far allocated Tk 1.3 million in cash, 333 metric tonnes of rice and 4,950 packets of dry food for the flood victims in the district. Among them, 131 metric tons of rice, 3 lakh 5 thousand rupees and 2300 dry food packets have been distributed among the flood affected people.

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

এক মাসের মধ্যে সবকিছু আগের মত স্বাভাবিক হবে: পরিকল্পনামন্ত্রী
জাতিসংঘ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক
গার্ডার দুর্ঘটনা: ক্রেনচালকসহ ৯ জন গ্রেফতার
শৈলকুপায় হাতুড়িপেটা করে হত্যা : ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
সাংবাদিককে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম কমলো

আরও খবর


close