শনিবার, ২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১৮.৯৮°সে
সর্বশেষ:
জাজিরা প্রান্তের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী সুধী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী স্বপ্নের পদ্মা সেতুর দুয়ার খুললেন বাংলাদেশেরর প্রধানমন্ত্রী সমাবেশস্থলে মানুষের ঢল এক নজরে পদ্মা সেতুর আদ্যোপান্ত নরওয়েতে সমকামীদের বারে গুলি, নিহত ২ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদেও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিল পাস সাড়ে ৭ বছরে কাজ করেছেন ১৪ হাজার শ্রমিক-প্রকৌশলী পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময়সূচি আজ পদ্মার উৎসবে মাতবে পুরো বাংলাদেশ জবিতে সাংবাদিকতার বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

পদ্মা সেতুর প্রভাবে অর্থনীতিতে চাঙ্গা হবে সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

আগামী ২৫ জুন উদ্বোধন হতে যাচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের বহু কাঙ্খিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এক সময় উত্তাল পদ্মা পাড়ি দিতে মানুষকে পোহাতে হতো ভোগান্তি, ফেরিঘাটে বসে থাকতে হতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা। অবশেষে মানুষের সেই দুঃখ-দুর্দশা লাঘব হতে চলেছে।

অল্পসময়ে ঢাকা যাতায়াতই শুধু নয়, এই সেতু চালু হলে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সঙ্গে সাতক্ষীরাতেও ঘটবে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার। দেশের বৃহত্তর স্থলবন্দর ভোমরা বন্দরের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে। বাড়বে প্রবৃদ্ধি। তাছাড়া পচনশীল দ্রব্য যেমন কাঁচা শাকসবজি, মৎস, রেণুপোনা দ্রুত সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমনকি বিদেশেও পাঠানো সম্ভব হবে। ফুল চাষের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের জন্যও শুভবার্তা এই পদ্মা সেতু উদ্বোধন।

এই সেতু চালু হওয়ার সাথে সাথে যেমন দু’পাড়ের মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘব হবে, তেমনি সচল হয়ে উঠবে সাতক্ষীরার অর্থনীতির চাকা।

ঢাকা ওয়েভেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভোমরা বন্দরের রাজস্ব কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার আমির আল মামুন জানান, প্রতিদিন বন্দরটি দিয়ে চারশ’র বেশি পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাচ্ছে ৫০-১০০ ট্রাক। রাজস্ব আদায় হচ্ছে তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকা।

জানা গেছে, দেশের তৃতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হিসেবে ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে ভোমরা স্থলবন্দর। প্রতিষ্ঠার ২৬ বছরের বিভিন্ন সময়ে অবকাঠামোগত নানা উন্নয়ন হয়েছে বন্দরটিতে। বর্তমানে বন্দরটি দিয়ে প্রতিদিন চার শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক ভারত থেকে প্রবেশ করছে বাংলাদেশে। আমদানি ও রপ্তানি কাজে জড়িত রয়েছেন পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী। ভোমরা বন্দরে প্রতিদিন রাজস্ব আদায় হচ্ছে তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকা। এই রাজস্ব আদায় বছর শেষে গিয়ে দাঁড়ায় ১১০০ কোটি টাকায়।

ভোমরা বন্দরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ইউনুস আরাফাত জানান, পণ্য আমদানির পর এখান থেকে ঢাকা পৌঁছাতে সময় লাগে ১০-১২ ঘণ্টা। ফেরিতে কখনো কখনো আরও বেশি সময় লাগে। কাঁচামাল পচে যায়। এতে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যবসায়ীরা। আবার ঠিক সময়ে পৌঁছাতে না পেরে পণ্যের উপযুক্ত দামও পাওয়া সম্ভব হতো না। তবে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর সেই দুর্ভোগ লাঘব হবে।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জুলফিকার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জুলফিকার রহমান বলেন, প্রতিদিন বন্দরটি দিয়ে প্রায় ৪০০ পণ্যবাহী ট্রাক ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরপর এসব পণ্য রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যায়। আমাদের সব থেকে বড় সমস্যা ছিল যাতায়াত সমস্যা। ইতোপূর্বে ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য শহরের বাঁকাল এলাকা থেকে বিনেরপোতা পর্যন্ত ১৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩ কিমি শহর বাইপাস সড়ক নির্মাণ করেছে সরকার। এবার পদ্মা সেতুর মধ্য দিয়ে ফেরি পারাপারের দীর্ঘ দিনের দুর্ভোগ দূর হবে।

ভোমরা স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম খান ঢাকা ওয়েভকে বলেন, ভৌগোলিক কারণে দেশের অন্যান্য বন্দরের তুলনায় ভোমরা স্থল বন্দরের গুরুত্ব অনেক বেশি। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, কলকাতা থেকে ভোমরা বন্দরের দূরত্ব সব থেকে কম। এ কারণে এই বন্দর দিয়ে আমদানি করলে ব্যবসায়ীদের পরিবহন খরচ কম পড়ে, ব্যবসায়ীরা নানা সুবিধা পায়।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর মধ্য দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের অবাধ কার্যক্রম শুরু হবে। ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি দূর হবে। ভোমরা বন্দরের কিছু উন্নয়ন কাজ বাকি রয়েছে। যেমন-এখন একটি কাস্টমস হাউস প্রয়োজন। সেটি হলে সকল পণ্য আমদানির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে রাজস্ব আদায় দ্বিগুণ হবে। এছাড়া ভোমরা বন্দরে সিএন্ডএফ এজেন্ট, কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন, শ্রমিক মিলে ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। পদ্ম সেতুর ফলে আরও নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ভোমরা স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, কলকাতা থেকে বেনাপোল ও ভোমরা বন্দরের মধ্যে ভোমরা বন্দরের দূরত্ব কম হওয়ায় পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বিশাল প্রভাব পড়বে। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অনেকাংশে বেড়ে যাবে। বর্তমানে ভোমরা বন্দরে ১৫ একর জমির ওপর কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে আরও ১০ একর জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে একটি মাস্টার প্লানও হাতে নেওয়া হয়েছে।

Satkhira will boost the economy due to the impact of Padma bridge

Satkhira correspondent:

The Padma Bridge, the dream of the people of the south-western region, is going to be inaugurated on June 25. At one time people had to suffer to cross the rough Padma, they had to sit on the ferry for hours. In the end, the human misery is about to be alleviated.

Not only travel to Dhaka in a short time, if this bridge is launched, trade and commerce will also expand in Satkhira along with the south-western region. The importance of Bhomra Port, the largest land port in the country, will further increase. Growth will increase. Moreover, perishable goods such as raw vegetables, fish, renupona will be able to be sent to different parts of the country including the capital and even abroad in a short time. The inauguration of the Padma Bridge is also a good news for those involved in floriculture.

With the opening of this bridge, just as the misery of the people on both sides will be alleviated, the wheel of economy of Satkhira will also start moving.

In an interview with Dhaka Wave, Amir Al Mamun, Assistant Commissioner, Revenue Office, Bhomra Port, said that more than 400 trucks are entering Bangladesh through the port every day. 50-100 trucks are going to India from Bangladesh. Revenue collection is three to three and a half crore rupees.

It is learned that Bhomra Land Port was established in 1997 as the third largest land port in the country. During the 26 years of its establishment, various infrastructural developments have taken place in the port. At present more than four hundred cargo trucks are entering Bangladesh from India every day through the port. More than five hundred traders are involved in import and export activities. The daily revenue collection at Bhomra port is three to three and a half crore rupees. At the end of the year, this revenue collection stood at Tk 1,100 crore.

Yunus Arafat, owner of Abdullah Enterprise, an importer of Bhomra Port, said it takes 10-12 hours to reach Dhaka from here after importing goods. The ferry sometimes takes even longer. The raw material rots. The traders are affected in many ways. Again, not being able to arrive on time would not be possible to get a fair price for the product. However, after the inauguration of the Padma Bridge, that misery will be alleviated.

Zulfiqar Rahman, proprietor of the importing company Messrs. Zulfiqar Enterprise, said about 400 cargo trucks enter Bangladesh from India through the port every day. After that these products reached different parts of the country including the capital Dhaka and Chittagong. The biggest problem we had was the travel problem. Earlier, the government had constructed 13 km city bypass road from Bankal area of ​​the city to Binerpota at a cost of Taka 173 crore for the convenience of traders. This time the long suffering of ferry crossing through Padma bridge will be removed.

Maqsood Alam Khan, general secretary of the C&F Agents Association of Bhomra Land Port, told Dhaka Wave that Bhomra land port is more important than other ports in the country due to geographical reasons. The main reason for this is that the distance from Kolkata to Bhomra port is the shortest. Due to this, the transportation cost of traders is less when importing through this port, traders get various benefits.

He said free trade and commerce activities would start through the Padma Bridge. The suffering of traders will be removed. There is some development work left in Bhomra port. For example, a customs house is needed now. That will create opportunities for importing all products. This will double the revenue collection. Besides, Bhomra port employs 20,000 people including C&F agents, employees’ associations and workers. The Padma Bridge will create more new employment opportunities.

Monirul Islam, Deputy Director, Bhomra Land Port, said that the opening of the Padma Bridge would have a huge impact on the import-export activities as the distance between Kolkata and Benapole and Bhomra Port was less. Imports and exports will increase significantly. At present activities are going on on 15 acres of land in Bhomra port. At present another 10 acres of land has been acquired. Besides, a master plan has also been taken from Bangladesh Land Port Authority.

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

জাজিরা প্রান্তের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী
সুধী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
পদ্মা সেতু বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী
স্বপ্নের পদ্মা সেতুর দুয়ার খুললেন বাংলাদেশেরর প্রধানমন্ত্রী
সমাবেশস্থলে মানুষের ঢল
এক নজরে পদ্মা সেতুর আদ্যোপান্ত

আরও খবর


close