শনিবার, ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ১৭.২৭°সে
সর্বশেষ:
৩ বছর পর ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্প অবশেষে মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান হাতে পাচ্ছে তুরস্ক মালয়েশিয়ায় ১৮ বাংলাদেশিসহ আটক ৪৩ অভিবাসী বাংলাদেশিসহ ৭৫ বন্দিকে ফেরত পাঠাল মালয়েশিয়া পুতিন চাইলে আজই যুদ্ধ শেষ করতে পারেন: পেন্টাগন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম মন্ত্রী সভায় মুসলিম নেই পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু কুয়েতে নিহত ৪৫ ভারতীয় নাগরিকের লাশ নিয়ে কেরালায় পৌঁছেছে প্লেন বাংলাদেশের জয়ে বিশ্বকাপ শেষ শ্রীলঙ্কার নিউইয়র্কে মদ্যপ আওয়ামী লীগ নেতার কাণ্ড ওসি’র বিরুদ্ধে লিগ্যাল এইডের কাজে বাধার অভিযোগ, এসপি’র কাছে নালিশ বাংলাদেশের দুর্নীতি মোকাবিলার বিষয়ে যে বার্তা দিলেন ডোনাল্ড লু

ঢাবির গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ কোটায় ভর্তির সিদ্ধান্ত, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জীববিজ্ঞান অনুষদভুক্ত নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষায়িত ইউনিট “গার্হস্থ্য অর্থনীতি” ইউনিটে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আন্ডারগ্রাজুয়েট প্রোগ্রামে “ট্রান্সজেন্ডার” কোটায় ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিটের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি- নারী শিক্ষার্থীদের জন্য স্বতন্ত্র একটি প্রতিষ্ঠানে নারী রূপী পুরুষদের প্রবেশের সুযোগ তৈরি করে দিয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ধ্বংসের মিশনে নেমেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

গত ২৯ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ কে এম মাহবুব হাসান স্বাক্ষরিত ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে ট্রান্সজেন্ডার কোটায় শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর বিষয়টি প্রকাশ পায়।

বিজ্ঞপ্তিতে কোটায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়- ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আদিবাসী, উপজাতি, হরিজন ও দলিত সম্প্রদায়, প্রতিবন্ধী (বাক, দৃষ্টি, শ্রবণ, শারীরিক ও নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারস), ট্রান্সজেন্ডার (মহিলা), এবং খেলোয়াড় কোটায় ভর্তি হতে আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ২ জুন থেকে ২৩ সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কোটার ফরম জীববিজ্ঞান অনুষদের অফিস থেকে সংগ্রহ করে উক্ত সময়সীমার মধ্যে যথাযথভাবে পূরণ করে একই অফিসে জমা দিতে হবে।

ট্রান্সজেন্ডার শব্দের পাশে ব্যাকেটে ‘মহিলা’ শব্দটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বলছেন, ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরিত মহিলার অরিজিন তো মূলত পুরুষ। তাহলে এমন এক শ্রেণির মানুষের সাথে আমরা সহজে কীভাবে বেড শেয়ার করব! কীভাবে স্বাভাবিক জীবন যাপন করব!

নুবরাস সুমাইয়ান ঈশা নামের একজন লিখেছেন হোম ইকোনিক্সে (গার্হস্থ্য অর্থনীতি) ভর্তি হয়ে একটু স্বস্তি নিচ্ছিলাম যে মেয়েরা ওড়না, হিজাব বা নিকাব খুলে ইজিলি চলাফেরা করতে পারবে; কারণ এখানে কোনো ছেলে নেই। কিন্তু এখন মেয়ে রূপী ছেলেদের ভর্তি করিয়ে আমাদের সেই নিঃসংকোচের জায়গাটা সংকুচিত করে ফেলছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যা খুবই জঘন্য কাজ হয়েছে।

ইজমাতুল ঈশা নামের একজন লিখেছেন, যারা বিষয়টি প্রমোট করছেন তাদেরকে বলছি-কয়দিন পর যখন আপনার মেয়ের সাথে হলে একটা মেয়ে নামক ছেলে থাকবে, আর উনি আপনার মেয়ের শ্লীলতাহানি করবে তখন হয়তো হুশ ফিরবে আপনার।

নাদিয়া নুপুর নামের এক শিক্ষার্থী লিখেছেন হোম ইকোনমিক্সে যখন চান্স পায় তখন খুশি হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম কারণ ছিল এটা মেয়েদের ইউনিট। এখন ইচ্ছাকৃতভাবে ছেলে থেকে মেয়ে রূপ ধারণকারীদের সুযোগ দিলে এটা কখনো মানবো না।
কলেজে অধ্যয়নরত চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে বলেন, আমাদের আবাসিক হলে এখন কোনো সিঙ্গেল সিট নেই; সবই ডাবল। এখন যদি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয় তাহলে তথাকথিত নারী রূপে পুরুষদের সাথে আমাদের বেড শেয়ার করতে হবে। এই বিষয়টা মেয়েরা কোনোভাবেই সহ্য করতে পারবে না। আমি মনে করি এটা খুবই অযৌক্তিক এবং জঘন্য একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ওই শিক্ষার্থী আরো বলেন, আমাদের এখানে ভর্তি পরীক্ষার সময় বেশকিছু ছবি সংবলিত রুল নাম্বারের সিরিয়াল দেখেছি, যাদেরকে দেখতে হুবহু ছেলের মতোই মনে হয়। এখন যদি এ ধরনের কেউ এখানে চান্স পায় আর তাদের সাথেই আমাদের হলে বেড শেয়ার করতে হয় তবে তা হবে আমাদের জন্য এক বড় দুর্যোগ। আমরা এখন আমাদের ক্যাম্পাসে খুব শান্তিতে আছি, একেবারে বাসায় থাকার মতো। আমরা এই শান্তি বিনষ্ট হোক তা কখনোই চাই না।

তবে এ বিষয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই বলে ইনকিলাবকে জানান ঢাবির জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী প্রফেসর ড. এ কে এম মাহবুব হাসান। তিনি বলেন, ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ে নানা মত থাকলেও তাদের অধিকার কিন্তু আমরা অস্বীকার করতে পারি না। অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে আমাদের সকল শ্রেণির মানুষকেই সুযোগ দেওয়া উচিত। সেই জায়গা থেকে আমরা তাদের সুযোগ দিচ্ছি। তবে যেহেতু এটা মহিলা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষায়িত একটা ইউনিট, তাই আমরা ট্রান্সজেন্ডার শব্দের পাশে মহিলা শব্দ যুক্ত করে বিষয়টা স্পষ্ট করে দিয়েছি । এখানে শুধু তারাই সুযোগ পাবে যারা চিকিৎসক কতৃক মহিলা হিসেবে বিবেচিত হবে। সুতরাং এটা নিয়ে ভিন্ন কোনো চিন্তার সুযোগ নেই। আমাদের সমাজে এই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সংখ্যাটাও কম এবং এই ইউনিটে তাঁদের আসার সম্ভাবনা আরো কম।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

৩ বছর পর ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্প
অবশেষে মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান হাতে পাচ্ছে তুরস্ক
মালয়েশিয়ায় ১৮ বাংলাদেশিসহ আটক ৪৩ অভিবাসী
বাংলাদেশিসহ ৭৫ বন্দিকে ফেরত পাঠাল মালয়েশিয়া
পুতিন চাইলে আজই যুদ্ধ শেষ করতে পারেন: পেন্টাগন
পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

আরও খবর