বুধবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ৫.৪৩°সে

পর্তুগালের ফ্যামিলি রিইউনিয়ন সমাচার – কিভাবে আপনার পরিবার নিয়ে আসবেন ? কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন ?

আসসালামু আলাইকুম। সাময়িক ব্যাস্ততার কারণে ব্লগ লিখা হয় না অনেক দিন . আজকে একটু সময় করে নিলাম একটা টপিক নিয়ে লিখব বলে, আর সেটা হল ইউরোপের ফ্যামিলি রিইউনিয়ন নিয়ে বাট আজকে শুধু পর্তুগালে কিভাবে আপনি মা বাবা কিংবা বউ বাচ্চা নিয়ে আসবে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ করবো .
আলোচনার মূলপর্বে যাবার পূর্বে কি কি টপিক নিয়ে আসবে তার একটা ধারণা দেয় –

#ফ্যামিলি রিইউনিয়ন এর মূল শর্ত গুলো কি কি ?
#ফ্যামিলি মেম্বার বলতে কাদের কাদের আনা যাবে ?
#কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন ?
#কতদিন সময় লাগবে ?
#কোথায় আবেদন করতে হবে ?

পর্তুগালে ফ্যামিলি আনার মূল শর্ত সমূহ কি কি ?

প্রথম আপনাকে পর্তুগালে বৈধভাবে বসবাস করতেছেন তার ডকুমেন্টস থাকতে হবে , উহদাহরণ সরূপ – কেউ স্টুডেন্ট হলে তার রেসিডেন্স পারমিট বা ভিসা থাকতে হবে অর্থাৎ আপনাকে অবশ্যই বৈধ হতে হবে পর্তুগালে . ২য়ত আপনার অভিবাসন অধিদপ্তরের বেঁধে দেয়া বাৎসরিক ইনকাম থাকতে হবে . যেমন কেউ যদি শুধুমাত্র নিজের বউ আনতে চায় তাহলে তার বাৎসরিক নেট ইনকাম আইআরএস  ৯০০০ ইউরো পরিমান থাকতে হবে. (২০১৯ জানুয়ারি হিসাব অনুযায়ী ).  আর বউ আর এক বাচ্চা আনার জন্য আরো ৩০% ইনকাম বেশি দেখতে হবে ( বাচ্চার বয়স ১২-১৭ হলে ) আর বাচ্চার বয়স ০-১১ হলে ২৫% বেশি ইনকাম দেখতে হবে )

আরেকটু সহজ করে যদি বলি – যদি আপনি ব্যাসিক সেলারিতে কাজ করে থাকেন তাহলে আপনাকে প্রতি এডাল্ট মেম্বার আনার জন্য ১৬৫ ইউরো * ১২ মাস করে বেশি দেখতে হবে , আর প্রতি বাচ্চার জন্য ব্যাসিক সেলারি + ১২৫ ইউরো *১২ মাস করে টোটাল ইনকাম দেখতে হবে .

ফর এক্সাম্পল – বউ আনবেন শুধু = ৬০০ ইউরো *১২ মাস + ১২ মাস *১৬৫ ইউরো = যত আসে টোটাল
বউ + এক বাচ্চা আনবেন = ৬০০ ইউরো *১২ +১২*১২৫ ইউরো + ১২*১৬৫ ইউরো = যত আসে টোটাল, এখন যারা বিজনেস করেন তাদের ক্ষেত্রে ও সেইম টোটাল ১২ মাসে আপনাকে যেভাবেই হোক এই টাকাটা নেট ইনকাম দেখতে হবে . যদি বাবা মার জন্য আবেদন করেন তাহলে ব্যাসিক সেলারির সাথে দুইজন এডাল্ট এর জন্য যত অতিরিক্ত ইনকাম দরকার সেটা দেখতে হবে . হিসাবটা দেখলাম বুঝানুর জন্য . কেউ যদি শুধু টোটাল কত লাগবে ইনকাম জানতে কেন সেইক্ষেত্রে বলব ৯০০০+ ইউরো ইনকাম থাকতে হবে . তবে সেফ অনেক সময় ইনকাম একটু এদিক সেদিক হলেও কনসিডার করে. কারো ইনকাম যদি ৫০০/৮০০ কম হয় টোটাল ইনকাম লিমিট (আইআরএস ) থেকে তাহলে আপনি পারমিশন এর আবেদন করার সময় লাস্ট ৩ মাসের ইনকাম একটু বেশি দেখিয়ে দিয়েন তাহলে আগের ইনকাম যেন কভার করে নেয় .

এখন যাবো বিস্তারিত তথ্যে – ফ্যামিলি রিউনিয়ন এর পারমিশন এর আবেদন এর জন্য কোন পক্ষের কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন ?

আবেদনকারীর যা যা লাগবে –

#যার জন্য আবেদন করবেন ( বউ মা বাবা বাচ্চা ইত্যাদি ) তার পাসপোর্ট এর কপি ,
#জন্ম নিবন্ধন অরিজিনাল কপি .
#নিকাহ্নামা , বিবাহের সনদ অরিজিনাল ( বউ হলে )
#পুলিশ ক্লীয়ারেন্স সার্টিফিকেটে অরিজিনাল।

উপরোক্ত ডকুমেন্টস গুলোর প্রথমে নোটারি ট্রান্সলেট এবং ফরেইন মিনিষ্ট্রি থেকে সত্যায়িত করে পর্তুগাল আনবেন ,তারপর পর্তুগাল আনার পর – পর্তুগিজ ট্রান্সলেশন + নোটারি করতে হবে তার এইগুলো বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক সত্যায়ন করে পর্তুগীজ ফরেইন মিনিষ্ট্রি  থেকে সত্যায়ন করতে হবে

যে আবেদন করবে তার কি কি ডকুমেন্টস ?  ( সেফ থেকে পারমিশন জন্য )

পর্তুগাল যে থেকে যে আপনার জন্য  যে যদি জব করে তাহলে নিন্মোক্ত ডকুমেন্টস গুলো প্রয়োজন –

#আইআরএস – IRS ডিক্লেরেশনের এর কপি.
#জব কন্ট্রাক্ট উয়িত ৭৫০ ইউরো সেলারি মিনিমাম .
# লাস্ট ৩ মাসের সেলারি স্লিপ .
#ACT Declaration
#Junta বা বাসার কন্ট্রাক্ট .

#No Divida finansas ( যাদের বিজনেস দেখিয়ে আবেদন করবেন )
#No Divida Seguranca Social ( যাদের বিজনেস দেখিয়ে আবেদন করবেন )

উপরোক্ত সমস্ত ডকুমেন্টস গুলো সেফ থেকে পারমিশন নেয়ার জন্য সাবমিট করতে হবে . উল্লেখ্য যে সেফের ফাইল সামিশনের জন্য ৪/৫ মাস আগে Appoinment নিয়ে রাখতে হবে. সেফের পারমিশন রেডি হতে ৩/১৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।  পারমিশন হাতে পেলে তার পরের ষ্টেপ হলো এম্বাসি যে ফাইল সাবমিশন।

বাংলাদেশে পর্তুগালের এম্বাসি না থাকার কারণে আপনার পারমিশন নিউ দিল্লীর বরাবর আবেদন করতে হবে.  এখন প্রশ্ন হলো এম্বাসি যেয়ে  ভিসার আবেদন করতে কি কি ডকুমেন্টস লাগবে ??

পর্তুগীজ এম্বাসী ইন নিউ দিল্লীতে জমা করতে যা যা ডকুমেন্টস লাগবে –

# ভিসা আবেদন ফরম
# সেনজেন ভিসার সাইজের ২ কপি সদ্য তুলে ছবি .
#যার জন্য আবেদন করবেন ( বউ মা বাবা বাচ্চা ইত্যাদি ) তার পাসপোর্ট এর কপি ,
#জন্ম নিবন্ধন অরিজিনাল কপি .
#নিকাহ্নামা , বিবাহের সনদ অরিজিনাল ( বউ হলে )
#পুলিশ ক্লীয়ারেন্স সার্টিফিকেটে অরিজিনাল।
#আইআরএস – IRS ডিক্লেরেশনের এর কপি.
#জব কন্ট্রাক্ট উয়িত ৭৫০ ইউরো সেলারি মিনিমাম .
# লাস্ট ৩ মাসের সেলারি স্লিপ .
#ACT Declaration
#Junta বা বাসার কন্ট্রাক্ট .

# TERMO DE RESPONSABILIDADE ফর্ম (ফিলাপ করে নোটারী করে নিতে হবে )

আর যদি কেউ বউয়ের সাথে স্বশরীরে উপস্থিত থাকে তাহলে নোটারীর দরকার নেই সাইন করে দিলে ই হবে .

# বিগত ৩ বছরের আইআরএস – IRS এর কপি .
# ব্যাংক স্টেটেমেন্ট মিনিমাম লাস্ট ৩ মাসের অথবা ৬ মাসের .
# সেনজেন ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স মিনিমাম ৬ মাসের .
# ইন্ডিয়ান ভিসার কপি  এবং পাসপোর্টের ডাটা পেইজ .

ইন্ডিয়ান যাবার পর একটু কাজ আছে সেটা হলো আপনাকে বাংলাদেশের পুলিশ ক্লীয়ারেন্স সার্টিফিকেটে এবং নিকাহনামা বাংলাদেশ এম্বাসি ইন নিউ দিল্লী, ইন্ডিয়া থেকে সত্যায়িত করে নিতে হবে . আর বাংলাদেশের পুলিশ ক্লীয়ারেন্স এর মেয়াদ যদি কোনো ক্রমে ৬ মাস এর বেশি হয়ে যায় তাহলে দিল্লীতে জমা দেয়ার আগে বা যাবার আগে একটা নতুন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স তুলে সাথে নিয়ে যাবেন , ওইটা জাস্ট বাংলাদেশ এম্বাসি থেকে সত্যায়িত করে জমা দিবে। বাংলাদেশ এম্বাসি প্রতি ডকুমেন্টস সত্যায়িত করতে ২০০ রুপি করে নিবে,  আর সেনজেন ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স চাইলে বাংলাদেশ থেকে করে নিতে পারবেন , ইন্ডিয়া থেকে ও করতে পারবেন, তবে ইন্ডিয়ান থেকে করলে ই ভালো, বাংলাদেশ থেকে খরচ পড়বে ৪০০০-৫০০০ টাকা, আর নিউ দিল্লি থেকে পড়বে ৫০০০ রুপির মতো. আর নিউ দিল্লিতে এম্বাসি ফি হচ্ছে ৯২০০ রুপির মতো ( ভিএফএস এর সার্ভিস চার্জ সহ ) .

কিভাবে যাবেন ? কোথায় সাবমিট করবেন ? আগে কি এপয়েন্টমেন্ট নিতে হয় কি না ?

নিউ দিল্লি যাবার পর সবাই নরমালি পাহাড়গঞ্জ, আরাকাশন রোড, মেইন বাজার রোড এর দিকে হোটেল নিয়ে থাকে. হোটেল এর কস্ট প্রতি রাতে ৭০০-১০০০ রুপি এসি সহ. নন এসি ৬০০-৭০০ রুপি হয়ে থাকে. নিউ দিল্লীর সব কটি দেশের সম্মিলিত ভিসা সেন্টারের নাম বিএফএস গ্লোবাল.  ভি এফএস এ যাবার আগে অবশ্যই আপনি ভি এফ এস পর্তুগাল ইন নিউ দিল্লী সাইটে রেজিস্টার করে একটা এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নিবেন যেদিন আপনি যেতে চাচ্ছেন. সকল দেশের এম্বাসির ফাইল তারা জমা নেন পরে ওই দেশের এম্বাসি  গুলোতে ফাইল গুলো তারা সাবমিট করে থাকেন. যেহেতু পর্তুগালে আপনি জমা দিবে আপনাকে ভিএফএস এর মাদ্ধমে জমা দিতে হবে, সরাসরি এমবাসি যাবার দরকার নেই. আপনি দিল্লিযে যেখানেই হোটেল নেন না কেন শিবাজী  স্টেডিয়াম মেট্রো লাইন বললে যেকোনো অটো , ট্যাক্সি বা নিজে চাইলে মেট্রো দিয়ে যেতে পারেন . শিবাজী মেট্রো  স্টেশনের ভিতরে হচ্ছে ভি এস এস গ্লোবাল ভিসা সেন্টারের মেইন অফিস . আপনি সাথে দরকারি ডকুমেন্টস ছাড়া কোনো প্রকার ইলেক্ট্রনিক আইটেম যেমন ল্যাপটপ, ক্যামেরা, ইত্যাদি সাথে নিতে পারবেন না. সিকিউড়িটি পর হয়ে সোজা কোলে যাবে পর্তুগালের কাউন্টারে ( টোকেন কাউন্টার থেকে নিতে হবে ) সাবমিশনের জন্য টোকেন জি সংগ্রহ করবেন . তারপর সাবমিশন কাউন্টারে জন্য ২য় সিকিউরিটি কে আপনার টোকেন এবং পাসপোর্ট দেখিয়ে ভেতরে গিয়ে বসে আপনার সিরিয়াল এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে . নরমালি পর্তুগালের কাউন্টারে এত ভিড় থাকে না. আপনার সিরিয়াল ডাকলে আপনি যেয়ে জমা দিয়ে পেমেন্টের জন্য অপেক্ষা করবেন , কাউন্টার থেকে পেমেন্ট স্লিপ নিয়ে কাউন্টার সি যে কোলে যাবেন যদি ক্যাশ পে করেন আর কার্ড হলে ডি কাউন্টার . পেমেন্ট করে পেমেন্ট স্লিপের কনফার্মেশন কপি নিয়ে আবার সাবমিশন কাউন্টারে যেয়ে ওনাকে পেমেন্টের এক কপি দিয়ে আপনি আপনার কাজ শেষ .  আপনাকে সাবমিশন কাউন্টার থেকে একটা স্লিপ দাড়িয়ে দিবে যেটাতে ট্র্যাকিং নাম্বার থাকবে , আপনি চাইলে ভি এফ এসের ওয়েবসাইটে ঢুকে ট্র্যাক করতে পারবেন ভিসার আপডেটের জন্য . নরমালি ভিসা রেডি হতে ১৫-২০ কর্মদিবস সময় লাগে তবে অফিসিয়ালি কোনো কারণে দেরি হলে সেটা তারা আপনাকে মেইলের মাদ্ধমে জানিয়ে দিবে.  আর এই সমস্ত প্রক্রিয়াটির গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইটের লিংক আমি নিচে দিয়ে দিচ্ছি ,তারপরও যদি কারো কোনো জিজ্ঞাসা থাকে তাহলে নক করতে পারেন .

যারা বাবা মার জন্য আবেদন করবেন তাদের অবশ্যই একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে তারা যে আপনার উপর ডিপেন্ডেন্ট সেটার প্রমাণাদি দেখতে হবে . যেমন আপনি প্রতি মাসে পর্তুগাল থেকে টাকা সেন্ড করেন তাদের সেই মানি রিসিট গুলো জমা দেয়ার সময় সাবমিট করবে . আর পিতামাতার ক্ষেত্রে বাবা মার জন্ম সনদের পাশাপাশি আপনার সনদ ও জমা দিতে হবে.  যাইহোক এবার লিংক গুলো নিচে দিলাম যেগুলোর কথা পোষ্টে উল্লেখ্য করেছি .

পর্তুগালের ভিসার জন্য ফরম ফিলাপ করবেন – https://www.vistos.mne.pt/pt/

ভি এফ এসের এপয়েন্টমেন্ট নিবেন এখন থেকে –pt.vfsglobal.co.in/

পর্তুগাল ফরেইন মিনিষ্ট্রির সত্যায়ন – ministry of foreign affairs portugal

বাংলাদেশ এম্বাসি ইন পর্তুগালের সত্যায়ন – Embassy of Bangladesh, Lisbon, Portugal

বাংলাদেশ এম্বাসি ইন নিউ দিল্লির সত্যায়ন –High Commission of Bangladesh New delhi

পর্তুগিজ বর্ডার এন্ড ফরেইনার সার্ভিস – সেফ  এপয়েন্টমেন্ট এর জন্য – https://www.sef.pt/pt

টার্মও দে রেস্পন্সিভলিদাদে  ফরম পাবেন এখানে –   TERMO DE RESPONSABILIDADE

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

কানাডা উন্নত জীবনযাপনের দেশ ।। যাওয়ার সহজ ৯ উপায়
শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস
আকবরের দেশত্যাগ ঠেকাতে সব ইমিগ্রেশনে চিঠি:পিবিআই
আমেরিকায় যাওয়ার কয়েকটি সহজ উপায়!
ভিসা ও ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য !
স্টুডেন্ট ভিসায় কানাডা যাওয়ার ১৫ উপায়!

আরও খবর