শনিবার, ২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১৯.৩৪°সে
সর্বশেষ:
জাজিরা প্রান্তের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী সুধী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী স্বপ্নের পদ্মা সেতুর দুয়ার খুললেন বাংলাদেশেরর প্রধানমন্ত্রী সমাবেশস্থলে মানুষের ঢল এক নজরে পদ্মা সেতুর আদ্যোপান্ত নরওয়েতে সমকামীদের বারে গুলি, নিহত ২ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদেও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিল পাস সাড়ে ৭ বছরে কাজ করেছেন ১৪ হাজার শ্রমিক-প্রকৌশলী পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময়সূচি আজ পদ্মার উৎসবে মাতবে পুরো বাংলাদেশ জবিতে সাংবাদিকতার বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

‘নিরাপদ প্রত্যাবর্তনেই রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান’

কৌশলী ইমা, যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত যাতে দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবর্তন ব্যবস্থার দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে- সেই আহ্বান জানালেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সহায়তার জন্য রাখাইন রাজ্যে কর্মসূচি বাড়াতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। স্থানীয় সময় সোমবার (১৩ জুন) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মিয়ানমার বিষয়ক মহাসচিবের বিশেষ দূত ড. নোলিন হাইজারের ব্রিফিংয়ের পর প্রদত্ত বক্তব্যে এ কথা বলেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, জীবন বাঁচাতে নিজভূমি থেকে রোহিঙ্গাদের পলায়নের পর পাঁচ বছর কেটে গেছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বৃহৎ জোরপূর্বক নির্বাসনের ঘটনা। কিন্তু তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের প্রতিশ্রুতি অপূর্ণই রয়ে গেছে। এ পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত যায়নি। বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয়ে থাকা ১.২ মিলিয়ন রোহিঙ্গা গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। যেসব রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়ে যেতে পারেনি তারা হয় আইডিপি ক্যাম্পে আশ্রয় পেয়েছে অথবা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ও নিরাপত্তাহীনতার অব্যাহত হুমকির মধ্যে রয়েছে।

সংকটের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের মাধ্যমে এর পুনরাবৃত্তি রোধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত ফাতিমা যাতে দীর্ঘদিনের এই সমস্যর সমাধান হয়। রোহিঙ্গাদের খাদ্য, আশ্রয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা প্রদানে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে তিনি প্রত্যাবাসন উপযোগী সঠিক পরিস্থিতি সৃষ্টিতে আরও এগিয়ে আসতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, শুধু আমাদের একক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। জোরপূর্বক বাস্ত্তচ্যুত এই জনগোষ্ঠীকে মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ ভূমি মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে প্রয়োজন যথোপযুক্ত পদক্ষেপ ও কর্মসূচি। আর এটাই সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত টেকসই সমাধান; যা রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিনের লালিত আকাঙ্ক্ষা।

বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মিয়ানমারের সমস্ত লঙ্ঘন ও অপরাধের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং ওআইসির পক্ষে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার করা চলমান মামলার পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত আদালত জারিকৃত অস্থায়ী ব্যবস্থার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করতে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আমার সরকার তার ক্ষমতার সবকিছুই করছে। আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ওআইসি) এবং মিয়ানমারের স্বাধীন তদন্ত প্রক্রিয়ার (আইআইএমএম) সব প্রচেষ্টায় পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছি। রাষ্ট্রদূত ফাতিমা রোহিঙ্গা মুসলমানদের ন্যয়বিচার নিশ্চিত এবং এই ঘটনার ভবিষ্যত পুনরাবৃত্তি রোধ করতে সকল দেশকে, বিশেষ করে আঞ্চলিক দেশগুলোকে এ সংক্রান্ত চলমান জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থায় সহযোগিতা প্রদান ও তাদের প্রবেশাধিকার প্রদানে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

আসিয়ান ও মিয়ানমারের মধ্যে সমাপ্ত পাঁচ দফা ঐকমত্যের দ্রুত ও পূর্ণ বাস্তবায়নসহ মিয়ানমারের সংকটের সমাধান খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা গ্রহণের জন্য আসিয়ানের প্রশংসা করেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের জন্য আসিয়ান সদস্য দেশ এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলির সাথে সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার জন্য মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

বিশেষ দূত তার ব্রিফিংয়ে মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এ পরিস্থিতি রোহিঙ্গা মুসলিমসহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তিনি বাংলাদেশ সরকারের উদারতার স্বীকৃতি জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের প্রতি তাদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি মিয়ানমারে তার ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন যার মাধ্যমে শান্তি, উন্নয়ন এবং মানবিক কাজের সাথে যুক্ত সকল পক্ষকে এ সঙ্কটের সমাধানে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাবেন মর্মে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ের পর সদস্য রাষ্ট্রগুলো প্রদত্ত বক্তব্যে বিশেষ দূতের প্রচেষ্টার পাশাপাশি আসিয়ানের পরিপূরক ভূমিকার প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। সদস্য রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশ সরকারের অনুকরণীয় মানবিক নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

‘Safe return is permanent solution to Rohingya problem’

Tactical Ima, United States

Ambassador Rabab Fatima, Permanent Representative of Bangladesh to the United Nations, called on the Special Representative of the Secretary-General (SRSG) for Myanmar to work for speedy implementation of the bilateral repatriation mechanism. He also called on the United Nations to step up efforts in Rakhine State to assist in the repatriation of Rohingya. Local time on Monday (June 13) at the UN General Assembly, the Special Envoy of the Secretary-General for Myanmar. This was stated by Ambassador Fatima in her speech after the briefing of Nolin Heizer.

The Permanent Representative of Bangladesh said that five years have passed since the Rohingyas fled their homeland to save their lives, which is the largest case of forcible deportation in recent history. But their promise of a safe return remains unfulfilled. So far, not a single Rohingya has returned to Myanmar. 1.2 million Rohingya living in humanitarian shelters in Bangladesh are living in deep uncertainty. The Rohingya who have not been able to leave Myanmar have either found refuge in IDP camps or are under constant threat of forced displacement and insecurity.

Ambassador Fatima called on the Security Council to take urgent action to address the root causes of the crisis by identifying the root causes of the crisis. Highlighting Bangladesh’s efforts to provide food, shelter, education, healthcare and protection to the Rohingya, he called on the international community to come forward to create the right conditions for repatriation.

“A lasting solution to this problem is not possible through our efforts alone,” he said. Appropriate measures and programs are needed to create a conducive environment for the forcibly displaced people to return to their homeland in dignity. And this is the most desirable sustainable solution; Which is the long cherished aspiration of Rohingyas.

The Permanent Representative of Bangladesh stressed the importance of ensuring accountability for all violations and crimes committed by Myanmar and called on the Security Council to monitor the implementation of the interim order issued by the OIC in the wake of the ongoing case in the International Court of Justice.

“My government is doing everything in its power to ensure justice for the displaced Rohingya,” said Ambassador Fatima. We fully support the efforts of the International Criminal Court (OIC) and the Independent Investigation Agency (IIMM) in Myanmar. Ambassador Fatima called on all countries, especially the countries of the region, to cooperate in the ongoing accountability process and give them access to the country to ensure justice for the Rohingya Muslims and to prevent any recurrence of this incident.

The Permanent Representative of Bangladesh commended ASEAN for its efforts to find a solution to the Myanmar crisis, including the speedy and full implementation of the five-point agreement reached between ASEAN and Myanmar. Ambassador Fatima called on the Special Envoy for Myanmar to continue engaging with ASEAN member states and other countries in the region for a lasting political solution to the protracted Rohingya crisis.

The Special Envoy, in his briefing, expressed concern over the current situation in Myanmar, saying that the situation was having a serious impact on civilians, including Rohingya Muslims, and was causing unrest. He acknowledged the generosity of the Bangladesh government and reminded the international community of their responsibility towards the Rohingya. He outlined his future course of action in Myanmar and hoped that all parties involved in peace, development and humanitarian work would do their utmost to resolve the crisis.

In a statement issued after the Special Envoy’s briefing on Myanmar, the member states expressed their full support for the special envoy’s efforts as well as ASEAN’s complementary role. The Member States commended the exemplary humanitarian leadership of the Government of Bangladesh and pledged their support to Bangladesh’s efforts for a lasting solution to the Rohingya crisis.

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

জাজিরা প্রান্তের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী
সুধী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
পদ্মা সেতু বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী
স্বপ্নের পদ্মা সেতুর দুয়ার খুললেন বাংলাদেশেরর প্রধানমন্ত্রী
সমাবেশস্থলে মানুষের ঢল
এক নজরে পদ্মা সেতুর আদ্যোপান্ত

আরও খবর


close