বুধবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ২.০৪°সে

১৭০ টাকার ভাড়ায় জীবন গেলো মিন্টুর: খুনের হোতা গ্রেপ্তার

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন শেখ মিন্টু (৩৫)। অটোরিকশা চালাতেন ঢাকার আশুলিয়া এলাকায়। চলতি বছরের ১৩ জুলাই রাতে অটোরিকশা নিয়ে ফিরছিলেন মিন্টু। ১৭০ টাকা ভাড়ায় ওঠে তিন যাত্রী। কিছুদূর যেতেই চালক মিন্টুর সন্দেহ হয়। ভাড়া চেয়ে বসলে আশুলিয়ার রশিদ মেম্বারের বাড়ির মোড়ে যাত্রীবেশে উঠা ছিনতাইকারী চালক মিন্টুর গতিরোধ করে ও মারধর শুরু করে। এক পর্যায় চক্রের একজন চাকু দিয়ে মিন্টুর গলায় ও পেটে ছুরিকাঘাত করে দৌড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরদিন ঢাকার আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়।
পরে মামলাটির তদন্ত শুরু করে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবি আই)। সম্পূর্ণ ক্লুলেস ঘটনাটির চার মাস পর অটেরিকশা চালক শেখ মিন্টু হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা আলী হায়দার ওরফে নাহিদ হাসান ওরফে নাহিদকে সাভার থানা এলাকার একটি বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই ঢাকা জেলার একটি টিম। এসময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার চাকু ও আসামির একজোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর উত্তরায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম জানান, অটোরিকশার ব্যাটারি ছিনতাই চক্রের মূল হোতাকে ১৯ নভেম্বর রাতে আমরা গ্রেপ্তার করি। হত্যাকারীরা পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘ চার/পাঁচ বছর যাবৎ আশুলিয়া, সাভার এলাকায় ছিলতাই কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। তাদের টার্গেটে ছিল অটোরিকশা চালকরা। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা অস্বাভাবিক ভাড়ায় নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে চালককে মারধর করে টাকা পয়সা ও রিকশার ব্যাটারি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, ছিনতাইকৃত এসব ব্যাটারির সেট বিভিন্ন জেলায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করতো। এছাড়াও এই চক্রটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের সামনে ভোরে ও রাতের সময় বাস থেকে নামা যাত্রীদের ধরে ছিনতাই করে সর্বস্ব লুটে নিতো।
পিবি আইআইর এ কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার নাহিদ ছিনতাই চক্রের দলনেতা। তার এই চক্রে বেশ অন্তত ২০/২৫ জন সদস্য রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে ঘটনায় নাহিদের সঙ্গে আরোদুইজন ছিলেন। তাদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামিরা মিন্টুকে হত্যা করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের পেছনে ঝাউবনে পালিয়ে যায়। তদন্তে আমরা সেখানকার একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার করেছি। তবে সেই ফুটেজটি ছিলো অস্পষ্ট। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা হত্যাকান্ডের মূলহোতা নাহিদকে গ্রেপ্তার করি।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

অনুমোদন নেই ২শ’র বেশি বিদেশি টিভি চ্যানেলের ।। রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
বাংলাদেশে এইডস রোগী মারা গেছেন ১৪১ জন শনাক্ত ৬৫৮
পার্বত্য শান্তিচুক্তি বিশ্বে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে: রাষ্ট্রপতি
সিলেটে শক্তিশালী বিস্ফোরক দ্রব্য আসে ভারত থেকে! আটক ১
যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাদণ্ড অর্থাৎ স্বাভাবিক মৃত্যু পর্যন্ত:আদালত
২৮ স্বর্ণের বারসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

আরও খবর